বিজ্ঞাপন

বাসা-বাড়ির ময়লা নেওয়া বন্ধের হুমকি পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের

February 9, 2021 | 2:23 pm

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: সাত দিনের মধ্যে বেসরকারি পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের অনুমোদন ও প্রত্যয়ন দেওয়ার অনুমতি ফিরিয়ে দেওয়া না হলে রাজধানী ঢাকার বাসাবাড়ির ময়লা নেওয়া বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সংগঠন প্রাইমারি ওয়েস্ট কালেকশন সার্ভিস প্রোভাইডার (পিডব্লিউসিএসপি)। পাশাপাশি ১৯ হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মীর রুটি-রুজির প্রশ্নে 'বর্জ্যের টেন্ডার' বন্ধের দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাফনের কাপড় পরে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় তারা এ হুমকি দেন। এ সময় তারা কাপনের কাপড় পরে ময়লার টেন্ডার বন্ধ করতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানান।

সংগঠনের সভাপতি নাহিদ আক্তার লাকী বলেন, ঢাকার বাসাবাড়ির ময়লা-আবর্জনা অপসারণ ও ব্যবস্থাপনার মূল দায়িত্ব ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের। কিন্তু প্রতিষ্ঠান দুটি শুধু নির্ধারিত কনটেইনার থেকে ল্যান্ড ফিলে ময়লা অপসারণের কাজ করছে। তাদের যে জনবল রয়েছে তা দিয়ে বাসাবাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহ করা তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না। সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা শুধুমাত্র শহরের প্রধান প্রধান সড়কে ঝাড়ু দেওয়া ছাড়া আর কিছুই করতে পারে না। তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে প্রাইমারি ওয়েস্ট কালেকশন সার্ভিস প্রোভাইডারের (পিডব্লিউসিএসপি) প্রায় ১৯ হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মী নাগরিকদের বাসাবাড়ির ময়লা সংগ্রহ করে সিটি করপোরেশনের কন্টেইনারে পৌঁছে দেয়। এজন্য শুধুমাত্র সেবা মূল্য হিসেবে আমরা ২৫ থেকে ৩০ টাকা করে নিতাম। যা দিয়ে কর্মীদের বেতন-ভাতা ও অফিস ব্যয়সহ অন্যান্য ব্যয় নির্বাহ করা হতো।

বিজ্ঞাপন

পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের এই নেত্রী বলেন, কিন্তু আশ্বর্য্যের বিষয় হলেও সত্য যে, নগরবাসী তাদের হেল্ডিং করের সঙ্গে মোট করের ২ শতাংশ বর্জ্যের জন্য বিল দিয়ে থাকেন। তার সঙ্গে আবার নতুন করে ১০০ টাকা ধার্য করে টেন্ডারের মাধ্যমে এই কাজ স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের হাতে তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়া হচ্ছে। এতে দীর্ঘদিন ধরে যেসব বেসরকারি পরিচ্ছন্নতাকর্মী এই কাজের সঙ্গে জড়িত ছিল, তারা এখন কর্ম হারানোর শঙ্কায় রয়েছে।

লাকী বলেন, এরই মধ্যে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন তাদের ময়লা সংগ্রহের কাজ টেন্ডারে দিয়ে দিয়েছে। এতে দক্ষিণ সিটিতে ১০ হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মী বেকার হয়েছে। টেন্ডারে দেওয়ার কারণে দক্ষিণ সিটিতে নাগরিকদের হয়রানি আরও বেড়েছে। ২৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ময়লার বিল ১০০ টাকা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ক্ষমতাধর কাউন্সিলর বা ঠিকাদারদের লোকজন সেই ১০০ টাকার পরিবর্তে কোথাও কোথাও ৩০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত নিচ্ছে। সিটি করপোরেশন কৌশলে তাদের কাউন্সিলরদের হাতে এই সেবামূলক কাজকে ব্যবসায় রূপান্তর করে কাউন্সিলরদের হাতে দুলে দিয়েছে। এতে যেমন অতিরিক্ত করের চাপে পড়ছে নগরবাসী, ঠিক একইভাবে এই করোনাকালে কর্ম হারাতে বসেছে বেসরকারি পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, দুই মেয়রের আচরণে হতবাক হয়েছি। বহুবার মেয়রকে চিঠি দিয়েছি। কিন্তু তারা কর্ণপাত করেননি। আমাদের কোনো কথাও শুনতে রাজি হননি। তারা চান এই ময়লা সংগ্রহের সেবামূলক কাজকে টেন্ডারের মাধ্যমে ব্যবসায় পরিণত করে কাউন্সিলরদের হাতে তুলে দিতে।

তিনি আরও বলেন, টেন্ডারের প্রাথমিক কাগজপত্র দেখেছি। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাছ থেকে টিন সার্টিফিকেট, ভ্যাট ও ট্যাক্স পরিশোধনের কাগজ, ব্যাংক সলভেন্সি ও ব্যাংকে জামানতের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র চাওয়া হয়েছে। তাদের যদি এসব কাগজপত্র থাকতো তাহলে তো তারা এই ময়লা সংগ্রহের কাজ করতো না।

বিজ্ঞাপন

হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে এই নেত্রী বলেন, সাত দিনের মধ্যে টেন্ডার বাতিল করে সিটি করপোরেশন কর্তৃক অনুমোদন ও প্রত্যয়ন ফিরিরে না দিলে নগরীর বাসাবাড়ির ময়লা নেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হবে। প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের হাতে গড়া ফাউন্ডেশন প্রাইমারি ওয়েস্ট কালেকশন সার্ভিস প্রোভাইডারের (পিডব্লিউসিএসপি) প্রত্যয়ন ফিরে দিতে হবে। ময়লা সংগ্রহ কাজের অধিক দামের টেন্ডার বন্ধ করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এসএইচ/এএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন