বিজ্ঞাপন

ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ প্রয়োগ সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা

April 25, 2021 | 8:25 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: নভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দেশে জাতীয়ভাবে প্রথম ডোজের ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু হয়েছিল ৭ ফেব্রুয়ারি। তবে ২৬ এপ্রিল থেকে দেশে ভ্যাকসিনের প্রয়োগ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ভ্যাকসিনের সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ার পরে এটি শুরু করার বিষয়ে জানাবে সরকার। তবে ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ প্রয়োগ কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলবে।

বিজ্ঞাপন

রোববার (২৫ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদফতরের এমএনসিঅ্যান্ডএইচ শাখার লাইন ডিরেক্টর ডা. মো. শামসুল হকের সই করা এক চিঠিতে এ বিষয়ে জানানো হয়। চিঠিটি দেশের সব জেলার সিভিল সার্জন, সিটি করপোরেশনগুলোর প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং সব উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, আগামী ২৬ এপ্রিল ২০২১ হতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কোভিড-১৯ টিকাদান কার্যক্রমের প্রথম ডোজ টিকা প্রদান সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। এ বিষয়ে আপনার আওতাধীন সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো।

বিজ্ঞাপন

দেশে ২৭ জানুয়ারি প্রথম ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন কোভিশিল্ড প্রয়োগ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। ওইদিন মোট ২৬ জনকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। পরদিন ২৮ জানুয়ারি রাজধানীর পাঁচটি হাসপাতালে ভ্যাকসিন দেওয়া হয় ৫৪১ জনকে। এই ৫৬৭ জনকে ১০ দিন পর্যবেক্ষণের পর ৭ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী ভ্যাকসিন প্রয়োগ কর্মসূচি শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে ৮ এপ্রিল থেকে ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ প্রয়োগ শুরু হয়।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের এমএনসিঅ্যান্ডএইচ শাখার লাইন ডিরেক্টর ডা. মো. শামসুল হক সারাবাংলাকে বলেন, ‘২৩ এপ্রিল থেকে ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজের জন্য এসএমএস পাঠানো হচ্ছে না। ২৬ এপ্রিল থেকে ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ প্রয়োগ আপাতত বন্ধ করা হচ্ছে। তবে এটি চালু কবে হবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। ভ্যাকসিনের প্রাপ্যতার উপরে নির্ভর করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

বিজ্ঞাপন

তবে এ সময়ে ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ প্রয়োগ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানান ডা. শামসুল হক। তিনি বলেন, ‘যারা ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ নিয়েছে তাদের অনেকের মাঝেই সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। আবার অনেকে বিভিন্ন কারণে পরে ভ্যাকসিন নেওয়ারও সম্ভাবনা আছে। সব মিলিয়ে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি সবাই যেন ভ্যাকসিন নিতে পারে সেটা নিশ্চিত করতে।’

উল্লেখ্য, ভারত সরকারের উপহার হিসেবে ৩২ লাখ চার হাজার ডোজ ভ্যাকসিন পায় বাংলাদেশ। এছাড়া বাংলাদেশের কেনা ৭০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিনও আসে দেশে। উভয়ক্ষেত্রেই ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে এই ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হয়।

বিজ্ঞাপন

স্বাস্থ্য অধিদফতরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সেন্টারের (এমআইএস) হিসাব অনুযায়ী, দেশে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত ৫৮ লাখ ১৮ হাজার ৪০০ জনকে ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত ২৩ লাখ ২৬ হাজার ৮৬৬ জনকে দেওয়া হয়েছে দ্বিতীয় ডোজের ভ্যাকসিন। দেশে এখন পর্যন্ত ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ নেওয়ার জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছেন ৭২ লাখ ২৪ হাজার ৩০৭ জন।

সারাবাংলা/এসবি/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন