বিজ্ঞাপন

৬৪ জেলায় হচ্ছে ৬৪ হাজার বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট

June 1, 2021 | 8:05 am

জোসনা জামান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: দেশের ৬৪টি জেলায় ৬৪ হাজারটি বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। অর্থাৎ প্রতিটি জেলায় গড়ে এক হাজার করে এমন প্ল্যান্ট বসানো হবে। এজন্য ‘দারিদ্র বিমোচনের লক্ষ্যে ব্যাপক প্রযুক্তি নির্ভর সমন্বিত সম্পদ ব্যবস্থাপনা তৃতীয় পর্যায়’ শীর্ষক একটি প্রকল্প হাতে নিচ্ছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। এটি বাস্তবায়িত হলে ‘আমার গ্রাম, আমার শহর’ শীর্ষক কর্মসূচি অনুযায়ী বায়োগ্যাস প্ল্যান্টের মাধ্যমে নবায়ণযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করে দেশের ইকোসিস্টেমের উন্নয়ন এবং যুবকদের কর্মসংস্থান এবং আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ২০৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা।

বিজ্ঞাপন

প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে- প্রশিক্ষণ ও ঋণ সহযোগিতা দেওয়ার মাধ্যমে গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগীর খামার ও বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপন করে গ্রামীণ যুবদের কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা এবং দেশে দুধ, ডিম, মাংস ইত্যাদি উৎপাদনের মাধ্যমে প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করা। এছাড়া প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে রান্নার জন্য জ্বালানি কাঠের ব্যবহার কমিয়ে ধোঁয়াহীন, স্বাস্থ্যসম্মত, ব্যয় ও সময়সাশ্রয়ী রান্নার সুযোগ সৃষ্টি হবে। বায়োগ্যাস প্ল্যান্টে পচনশীল বর্জ্যরে যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে পয়ঃনিস্কাশন ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং কৃষিজমিতে ব্যবহারের জন্য মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট সমৃদ্ধ জৈবসার উৎপাদন সম্ভব হবে।

পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা সারাবাংলাকে বলেন, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব পাওয়ার পর গত বছরের ৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয় প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা। ওই সভায় দেওয়া সুপারিশগুলো প্রতিপালন করায় এটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে। অনুমোদন পেলে চলতি বছর হতে শুরু হয়ে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে যুব উন্নয়ন অধিদফতর।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম সারাবাংলাকে বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০২১-২০৪১-এ আমার গ্রাম আমার শহর শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় দেশের গ্রামাঞ্চলে নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতে গ্রামীণ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা, গ্রামীণ কর্মসৃজনে ইতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টি, কৃষিভিত্তিক ক্ষুদ্র শিল্পকে উৎসাহিত করা এবং গ্রামাঞ্চলে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে শিক্ষাগত মান অনুযায়ী প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে শক্তিশালী করা জরুরি। এছাড়া এসব ক্ষেত্রে সব ধরনের বিনিয়োগকে উৎসাহিত করার বিষয়টি পরিকল্পনায় রয়েছে।’

সূত্র জানায়, সমন্বিত খামারে বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপনের মাধ্যমে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে উৎপাদিত বায়োগ্যাসের দ্বারা ধোঁয়াহীন, আরামদায়ক, স্বাস্থ্যসম্মত এবং সময়সাশ্রয়ী রান্নার সুযোগ সৃষ্টি করা, বিদ্যুৎ উৎপাদন, গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগী খামারে দুর্গন্ধ ও দূষণমুক্ত স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ সৃষ্টি ও উন্নতমানের জৈবসার উৎপাদন করা সম্ভব। এ উদ্দেশ্যে জাপান সরকারের জেডিসিএফ অর্থায়নে ইনোভেটিভ ম্যানেজমেন্ট অব রিসোর্সেস ফর প্রোভার্টি অ্যালিভেশন থ্রো কম্প্রিহেনসিভ টেকনোলজি (আইএমপিএসিটি) শিরোনামে প্রথম পর্যায়ের একটি প্রকল্পের মাধ্যমে ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০৬ সালের জুলাই হতে ২০১১ সালের জুনে ১০টি উপজেলায় ৪ হাজার ৩৮টি বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপন করা হয়।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া সরকারের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মুল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) ইমপ্যাক্ট (ফেজ-১) প্রকল্প মূল্যায়নের ভিত্তিতে সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে মোট ৭৪ কোটি ৯৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০১৪ সালের জানুয়ারি হতে ২০১৯ সালের জুনে দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য ব্যাপক প্রযুক্তিনির্ভর সমন্বিত সম্পদ ব্যবস্থপনা (দ্বিতীয়র পর্যায়) শিরোনামে প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে সফলভাবে দেশের ৬১টি জেলার ৬৬টি উপজেলায় ৩১ হাজার বায়োগ্যাস প্লান্ট করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় স্থানীয় চাহিদার ভিত্তিতে দেশব্যাপী প্রকল্পটি সম্প্রসারণের জন্য প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায় বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রকল্পটির দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য মোসাম্মৎ নাসিমা বেগম পরিকল্পনা কমিশনের মতামত দিতে গিয়ে বলেন, ‘প্রকল্পটি পরিবেশবান্ধব এবং জনমুখী। এটি বাস্তবায়িত হলে দেশের ৬৪টি জেলার সকল উপজেলায় ৬৪ হাজার বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপনের মাধ্যমে রান্না ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ কমিয়ে দেশের ইকোসিস্টেমের উন্নয়ন সম্ভব হবে। ক্ষুদ্রঋণ সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে খামার এবং বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপনের ফলে গ্রামীণ যুবকদের কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ বিস্তারে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। ফলে গ্রামীণ এলাকায় ক্ষুদ্র ব্যবসা ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং কুটির শিল্পের বিকাশ ঘটবে। এসব বিবেচনায় প্রকল্পটি একনেকে উপস্থাপনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/জেজে/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন