Sarabangla 4th-anniversary Sarabangla 4th-anniversary
বিজ্ঞাপন

জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ, চলছে মামলার প্রস্তুতি

November 23, 2021 | 6:15 pm

মো. তাওহীদ কবির, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট

গাজীপুর: গত সেপ্টেম্বরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ক্লিপে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মহান মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের নিয়ে কটূক্তি করায় গত ১৯ নভেম্বর গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে আওয়ামী লীগ থেকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তবে এবার মেয়র জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে উঠেছে জমি দখলের অভিযোগ। এ পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে চলছে মামলার প্রস্তুতি। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, জমি অধিগ্রহণ না করেই টঙ্গী-বনমালা সংযোগ সড়কের ১২ ফুট রাস্তা জোরপূর্বক দখল করে ৬০ ফুট বানিয়েছেন।

এদিকে মঙ্গলবার (২৩ নভেম্বর) ভুক্তভোগী জমির মালিকরা নিজদের জমি মেপে সেখানে খুঁটি বসিয়ে সড়কটি বন্ধ করে দিয়েছে। এ সময় কয়েকজন জমির মালিক বলেন, আমাদের জমি জোর করে মাটি ফেলে দখল করে নেন তিনি। ওই সময় তিনি আশ্বাস দিয়েছিলেন, জমির ক্ষতিপূরণ দেবেন। কিন্তু রাস্তা তৈরি হওয়ার পর তিনি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ওইসব জমির মালিকরা। এছাড়া কোনাপাড়ায় বন্ধ হয়ে যাওয়া এনটিকেসি গার্মেন্টসের (যা দখল করে নিয়েছিলেন মেয়র জাহাঙ্গীর) প্রায় শতাধিক শ্রমিক সঞ্চয়ের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে মামলা করতে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন গাজীপুরের পাঁচ কাউন্সিলরও। একটি ভিডিও ক্লিপে তাদের সরাসরি হত্যার হুমকি দেওয়ায় তারা মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন। পাঁচ কাউন্সিলর হচ্ছেন- ২৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহজাহান মিয়া সাজু, ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের আবদুল্লাহ আল মামুন মণ্ডল, ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডের নুরুল ইসলাম, ৫০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবু বক্কর, ৫১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আমজাদ হোসেন।

বিজ্ঞাপন

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে মামলা করবেন রাস্তার নামে জমি অধিগ্রহণের শিকার গাজীপুরের আরও কয়েকজন। কথা হয় পূবাইলের ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের জমির মালিক সড়ক ও জনপথ বিভাগের সাবেক প্রকৌশলী ফাইজুর রহমানের মেয়ের জামাই শেখ মাহাবুবের সঙ্গে। সারাবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমার শ্বশুর ফাইজুর রহমানের বাড়ির গেট ভেঙে জায়গা দখল করে মেয়র জাহাঙ্গীরের অনুসারী ৪০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আজিজুর রহমান শিরিষ। সিটি করপোরেশনের ম্যাপে ওই রাস্তা ১০ ফুট। কিন্তু কাউন্সিলর ৩০ ফুট রাস্তা করা হবে বলে সিটি করপোরেশনের লোকজন দিয়ে বাড়ির গেট ভেঙে জমি দখলে নেয়। ব্যক্তিগত আক্রোশেই তিনি এ কাজ করেছেন। এ বিষয়ে আইনি বিষয়গুলো জেনে মেয়রের বিরুদ্ধে মামলার চেষ্টা করছি।’

একই ওয়ার্ডের সাদীর মোল্লার জমি দখলের অভিযোগও উঠেছে কাউন্সিলর শিরিষের বিরুদ্ধে। সাদীর মোল্লা সারাবাংলাকে বলেন, ‘খোরাইদে রাস্তা চওড়া করার নামে আমার স্থাবর সম্পত্তি দখল করে নিয়েছে মেয়র। কিন্তু কোনো ক্ষতিপূরণ দেয়নি।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেকজন জানান, মেঘডুবি প্রাইমারি স্কুলের সামনের ৩০ ফুট রাস্তা করার নামে তার আট কাঠা জমি দখল করা হয়েছে। কিন্তু সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ওই জায়গার মূল্য তাকে দেওয়া হয়নি। তিনিও মামলা করার কথা ভাবছেন।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগ রয়েছে, মেয়রের অনুসারী না হলে ঠিকাদারি লাইসেন্স নবায়ন করা হতো না। নতুন লাইসেন্স দেওয়া হতো শুধুমাত্র মেয়র অনুসারীদের। এ সুযোগ পেয়েছে ছাত্রদল ও বিএনপির রুহুল আমিনও। তিনিও আজ শত কোটি টাকার মালিক। জাহাঙ্গীরের সবচেয়ে কাছের লোক হিসেবে পরিচিত রুহুল আমিন। রাজনৈতিক পরিচয় না থাকলেও আশরাফুল আলম রানাও নতুন ঠিকাদার হয়ে কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। মনির ও হাজী মনিরুজ্জামান নামে আরও দুজন মেয়রের আশীর্বাদে হয়েছেন আঙুল ফুলে কলা গাছ। এর মধ্যে মনির আবার গাজীপুরের আলোচিত প্রকৌশলী হত্যা মামলার আসামিও।

মেয়র জাহাঙ্গীর সিটি করপোরেশনের অধিকাংশ কাজ বাদ দিয়ে রাস্তার দিকেই কেন বেশি নজর দিতেন? এ বিষয়ে অনুসন্ধান করে জানা গেছে, জাহাঙ্গীর ও অনুসারীদের টাকা কামানোর সবচেয়ে বড় উৎসই ছিল রাস্তা। নতুন রাস্তা বানিয়ে সাধারণ মানুষের নজর কাড়তেন তিনি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাস্তার কাজে ভূমি অধিগ্রহণ করার নামে মোটা অংকের টাকা আয় করার সুযোগ নেন জাহাঙ্গীর ও তার অনুসারীরা। অধিগ্রহণের নামে জমি নিয়ে কোনো ভূমির মালিককেই ন্যায্য মূল্য দেননি জাহাঙ্গীর। কিছুসংখ্যক লোক আংশিক ক্ষতিপূরণ পেলেও অধিকাংশ মালিক কোনো দামই পাইনি। উল্টো রাস্তার কাজ দেখিয়ে মেয়র নিজের জনপ্রিয়তা বাড়াতে চেয়েছিলেন।

বিজ্ঞাপন

তবে মেয়র জাহাঙ্গীর আলম ২০ নভেম্বর গাজীপুরের হারিকেন এলাকায় তার নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, ‘আমি কখনো কারও জায়গা-সম্পত্তিতে হাত দিইনি। আমি কোনো কারখানা থেকে টাকা নিইনি। আমরা সবসময় কারখানার মালিকদের সহায়তা করেছি। কিন্তু কখনো টাকা নিয়েছি বলে কেউ বলতে পারবে না। প্রথম ধাপে ৩২ হাজার বাড়িঘর, দোকানপাট, কবরস্থান, মসজিদ এবং আট হাজার বিঘা জায়গা স্থানীয় মানুষের কাছ থেকে চেয়ে চেয়ে নিয়েছি। ৮০০ কিলোমিটার রাস্তার মধ্যে ৭০০ কিলোমিটারের বেশি রাস্তা ২০ ফুট থেকে শুরু করে ৮০ ফুট রাস্তা পর্যন্ত করেছি। আমাকে নগরবাসী কেউ ভুল বুঝবেন না।’

সারাবাংলা/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন