বিজ্ঞাপন

শুধু একগাদা পাঠ্যপুস্তক পড়াই শিক্ষা নয়: প্রধানমন্ত্রী

December 30, 2021 | 2:39 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: শুধু একগাদা পাঠ্যপুস্তক পড়াই শিক্ষা নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাই সকল শিক্ষার্থীদের মানবিক হওয়ার শিক্ষা দেওয়া জন্য আহ্বান জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ২০২১ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ ও তৎসংশ্লিষ্ট পরিসংখ্যান প্রতিবেদন হস্তান্তর ও প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে ২০২২ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র প্রান্ত যুক্ত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র প্রান্তে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ২০২১ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ ও তৎসংশ্লিষ্ট পরিসংখ্যান প্রতিবেদন স্ব স্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানদের হাতে হস্তান্তর করেন। পরে শিক্ষামন্ত্রী এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে ২০২২ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যপুস্তক হাতে তুলে দেন।

বিজ্ঞাপন

করোনা প্রাদুর্ভাব বাড়লে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের ইঙ্গিত দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘যদি করোনার সংক্রমণ বেশি দেখা দেয়, তাহলে স্কুল পরিচালনা করা সম্ভব হবে না।’

তিনি বলেন, অনলাইনে শিক্ষাটা এটা চালু রাখতে হবে। কারণ করোনা কখনো কমছে, কখনো বাড়ছে। সবসময় যেটা লক্ষ্য করেছি যে, এই শীতের পরপর করোনার সংক্রমণ যেন আবার বেড়ে না যায়। কাজেই এখন থেকেই শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে সেই প্রস্তুতি নিতে হবে। যদি প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা দেয়, সেক্ষেত্রে স্কুল চালু রাখা সম্ভব হবে না। তাই অনলাইনে শিক্ষা যাতে প্রত্যেক ঘরে ঘরে পৌছায়, সেই ব্যবস্থাটা নিতে হবে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, কারণ এখন কিন্তু বিদ্যুৎতের সমস্যা নাই। বিদ্যুৎ সব জায়গায় আছে। তাছাড়া শিক্ষার্থীরা যাতে পড়াশোনাটা অনলাইনে চালাতে পারে এবং তার জন্য যে সমস্ত উপকরণ যা যা প্রয়োজন তার ব্যবস্থা আমরা করব।কাজেই ঘরে বসেও যেন তারা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অথবা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বা ল্যাপটপের মাধ্যমে পড়াশোনা চালু রাখতে পারে, টেলিভিশনের মাধ্যমে পড়াশোনা চালু রাখতে পারে, সে পদক্ষেপটা নিতে হবে।

করোনার সময়ও কষ্ট করে শিক্ষা কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্যও সবার প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ভ্যাকসিন প্রয়োগের কার্যক্রমে আমরা প্রথমে শিক্ষকদের আগ্রাধিকার দিয়েছি। এখন শিক্ষার্থীদের দিচ্ছি এবং ১২ বছর বয়স পর্যন্ত সবাইকে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে টিকা নেওয়ার ক্ষেত্রে অনেকের একটু অনীহা দেখা গেছে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ইতোমধ্যেই গতকালকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলেছি যে, আমাদের প্রত্যেকটা কমিউনিটি ক্লিনিক বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে টিকা প্রদান কর্মসূচি যেন অব্যাহত থাকে। যাতে তৃণমূল পর্যায়ের মানুষও যেন দ্রুত টিকা নিতে পারে। কারণ নতুনভাবে যাতে আবার সংক্রামিত না হয়, তার ব্যবস্থা আমাদের এখন থেকেই নিতে হবে। কাজেই কেউ যেন টিকার বাইরে না থাকে, সবাইকেই কিন্তু এই ভ্যাকসিন নিতে হবে।

বিজ্ঞাপন

এ সময় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনযোগী হওয়ার পাশাপাশি এবং অভিভাবকদের এ ব্যাপারে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, অভিভাবক শুধু অভিভাবকই না, অভিভাবককে কিছুটা হলেও শিক্ষকের ভূমিকা পালন করতে হবে।

একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতা করার ওপর জোর দিয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। মানসিক স্বাস্থ্যি বিষয়কে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ প্রদানের পদক্ষেপ গ্রহণের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, এই মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়টা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আমাদের দেশে অনেকে এ বিষয়ে সচেতন না। অনেক সময় বাচ্চারা পড়তে পারে না বা পড়া দিলে দেখা যাচ্ছে, সে পড়তে পারছে না। অথবা তার মনোযোগ নেই বা সে পড়াশোনার দিকে খেয়ালই করতে পারছে না। শিক্ষক কি বলছে, শুনছে না। তখন বলা হয় যে, সে অমনোযোগী, তাকে হয়ত মারধর করা হয় অথবা ধমক দেওয়া হয়, বকাঝকা করা হয়। বিষয়টা কিন্তু তা না। এটা এক ধরনের প্রতিবন্ধিতা। এটা হচ্ছে অন্য ধরনের একটা সিনড্রোম। কাজেই এ বিষয়ে নজর দিতে হবে। কেন সে এটা করতে পারছে না বা কি কারণে পারছে না।

বিজ্ঞাপন

দেখা গেছে, অনেক বাচ্চারা পড়তে গেলে তারা দেখে যে অক্ষরগুলো জায়গায় নাই। অক্ষরগুলো নাড়াচড়া করছে। এটা কিন্তু তার একটা এক ধরনের মানসিক সমস্যা। কিন্তু এ বিষয়টা আমাদের মানুষ একেবারে সচেতন না। অভিভাবক ও শিক্ষকরাও সচেতন না। কাজেই শিক্ষকদের এই সচেতনতাটা একান্তভাবে প্রয়োজন। সেই লক্ষ্য নিয়েই দুই লাখ শিক্ষককে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শুধু একগাদা পাঠ্যপুস্তক পড়ে যে শিক্ষা, সেটা শিক্ষা না। শিক্ষাটা হলো পরিবেশ ও মানবিক সম্পর্কে জানা, এটা সকলের সঙ্গে চলার একটা শিক্ষা। তেমন শিক্ষাই সবাইকে দিতে হবে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। সেজন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান শেখ হাসিনা।

এ সময় বিআইসিসি’র প্রান্তে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবরা স্বাগত বক্তব্য রাখেন।

সারাবাংলা/এনআর/এনএস

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন