বিজ্ঞাপন

আইভীই জিতবেন— কেন্দ্রীয় নেতাদের আশ্বস্ত করলেন শামীম ওসমান

January 10, 2022 | 7:40 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। সাক্ষাতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলের প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় নেতাদের সব ধরনের সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। এসময় নৌকার বিজয়ে সবাই ঐক্যবদ্ধ রয়েছে বলেও তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (১০ জানুয়ারি) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে নাসিক নির্বাচন পরিচালনা কেন্দ্রীয় টিমের নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে যান শামীম ওসমান। এসময় কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম।

আরও পড়ুন- এতদিন নামিনি, আজ থেকে মাঠে নামলাম: শামীম ওসমান

বিজ্ঞাপন

এর আগে নির্বাচন সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় নেতারা নারায়ণগঞ্জে গিয়ে বিভিন্ন সভা-সমাবেশ করলেও সেখানে শামীম ওসমানের উপস্থিতি দেখা যায়নি। এমনকি ঢাকায় নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভাতেও শামীম ওসমান উপস্থিত ছিলেন না। সেদিন সেখানে মেয়র প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী উপস্থিত ছিলেন। সেদিনের সেই মতবিনিময় সভায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা জাহাঙ্গীর কবির নানকের মোবাইলে কল দিয়ে উপস্থিত সকলে নাসিক নির্বাচনে নৌকার বিজয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান এবং এরপর ভিডিও কলে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।সেদিন বঙ্গবন্ধুর আরেক কন্যা শেখ রেহানাও ভিডিও কলে যুক্ত হয়ে শুভেচ্ছা জানান।

এদিকে আর মাত্র ছয় দিন পর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট হবে। আর আজ দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে দলের মনোনীত ‘নৌকার পক্ষে নামা’র ঘোষণা দেন সরকার দলীয় সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এখানে আওয়ামী লীগের মূলধারার সবাই আছেন। আমি এতদিন নামি নাই। মানে, নামতে পারি নাই। আজকে থেকে নামলাম।

বিজ্ঞাপন
আইভীই জিতবেন— কেন্দ্রীয় নেতাদের আশ্বস্ত করলেন শামীম ওসমান
বিজ্ঞাপন

একজন এমপি হয়ে সরাসরি নৌকায় ভোট চাওয়ার ক্ষেত্রে আইনি বাধার কথা তুলে ধরে শামীম বলেন, অনেকে নৌকা নিয়ে অনেক কথা বলেন। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ নৌকার ঘাঁটি, আওয়ামী লীগের ঘাঁটি, শেখ হাসিনার ঘাঁটি। এখানে অন্য কোনো খেলা খেলার চেষ্টা করবেন না। এখানে কে প্রার্থী, হু কেয়ারস। কলাগাছ, না আমগাছ- সেটা দেখার বিষয় না। এটা বঙ্গবন্ধুর নৌকা। নৌকার বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”

নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী এই আওয়ামী লীগ নেতা দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, এখন আমাদের জনগণের কাছে যাওয়া উচিত। মানুষের দ্বারে দ্বারে যেতে হবে। একে অপরকে দোষারোপ করে ভোট হয় না। ভোট করতে হয় ভালবাসা দিয়ে।

বিজ্ঞাপন

প্রসঙ্গত, নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগে আইভী-শামীমের দ্বন্দ্ব বহু পুরনো। নিজেকে তারা রাজনীতির মাঠে বারবার ভাই-বোন হিসেবেও ঘোষণা দিয়েছেন। বিশেষ করে ২০১১ সালের নির্বাচনে শামীমকে হারিয়ে প্রথম মেয়র হন আইভী। এবারের নির্বাচনে আইভীর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী তৈমুর আলম খন্দকার; যিনি বিএনপির প্রতীক ছেড়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হাতি প্রতীক নিয়ে লড়াইয়ে নেমেছেন।

আরও পড়ুন- আমি কেন সাবজেক্ট ম্যাটার হবো: শামীম ওসমান

নির্বাচনের জমজমাট প্রচারের মধ্যে আইভী তার প্রতিদ্বন্দ্বী তৈমুর আলম খন্দকারকে ‘ওসমান ভাইদের’ প্রার্থী হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। এই দুই প্রার্থীর এমন বক্তব্য গণমাধ্যমে আসার পর আবারও দুই ভাগে আলোচনা-সমালোচনায় পক্ষে-বিপক্ষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব হয়ে ওঠে সরকার দলীয় নেতাকর্মীরা।

এদিকে আজকে শামীম ওসমান স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকারকে উদ্দেশ্য করেও শামীম ওসমান বলেন, আপনি আপনার মত কথা বলতে থাকেন। তাতে আমাদের কোনো আপত্তি নাই। কিন্তু হাতি দিয়া নৌকা ডুবাইবেন এই চিন্তা কইরেন না। এই নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের ঘাঁটি। আমার মনে হয় না, নারায়ণগঞ্জে বিএনপি-জামায়াতের ওই ক্ষমতা আছে যে নৌকাকে ডুবায়ে দেবে। হাতি সাইজে বড় হতে পারে; আমরা হাতি কাঁধে নিয়ে দৌড় দেব, কিন্তু নৌকার উপরে হাতিরে উঠতে দিয়েন না।

নির্বাচনের প্রচারের সময় নিজে চুপ থাকলেও তা নিয়ে কথা হয় মন্তব্য করে শামীম বলেন, আমি সত্য বলতে পছন্দ করি। তবে এখানে সব সত্য বলতে পারব না। এজন্য বিবেকের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। এই কয়েকদিন আমি চুপ ছিলাম। আমি চুপ থাকার কারণে অনেক ইস্যু তৈরি হয়। ইস্যু তৈরি হলে এতে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কেউ উল্টোপথে হেঁটে দলের ক্ষতি করছেন। আবার কেউ দলের সঙ্গে হেঁটে দলের ক্ষতি করছেন।

এদিকে আইভী কেন শামীম ওসমানকে ‘গদফাদার’ বলেছেন, সেই প্রশ্নও আসে সংবাদ সম্মেলনে। উত্তরে শামীম বলেন, কারো যদি ইচ্ছে হয় আমাকে গদফাদার বলতে তো বলবেন। দুদিন আগে ইচ্ছে হয়েছে ফাদার বলতে, বলেছেন। তিন দিন আগে মনে হয়েছে ব্রাদার বলতে, বলেছেন। তবে যে যাই বলেন, গডমাদার বইলেন না। কারণ আমি পুরুষ মানুষ। এসব গালি শুনতে শুনতে আমি অভ্যস্ত হয়ে গেছি। তাই এসবে আমি এখন ড্যামকেয়ার।

সারাবাংলা/এনআর/এসএসএ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন