বিজ্ঞাপন

শেখ কামাল ইনকিউবেশন সেন্টার পাচ্ছে ১৪ জেলা

April 27, 2022 | 8:05 am

জোসনা জামান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: মধ্যম আয়ের দেশ থেকে উন্নত দেশে রূপান্তরের ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তিতে জোর দিচ্ছে সরকার। জ্ঞানভিত্তিক মানবসম্পদ গড়ে তুলতেই নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। লক্ষ্য, এর মাধ্যমে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতকে দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তিতে রূপান্তর। এর জন্য সারাদেশে হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের আওতায় স্থাপন করা হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের তথ্যপ্রযুক্তি কেন্দ্র। এরই অংশ হিসেবে এবারে দেশের ১৪টি জেলায় তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণের জন্য ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ। আর এসব সেন্টারের নামকরণ করা হয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র শেখ কামালের নামে।

বিজ্ঞাপন

১৪টি ‘শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপন’ শীর্ষক এই প্রকল্পটি এরই মধ্যে প্রস্তাব করা হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ১১৪ কোটি ৬২ লাখ ৭৬ হাজার টাকা।

যে ১৪টি জেলায় ইনকিউবেশন সেন্টারগুলো স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে সেই জেলাগুলো হলো— হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নড়াইল, ঢাকা, টাঙ্গাইল, গোপালগঞ্জ, শেরপুর, গাইবান্ধা, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, নোয়াখালী, ফেনী ও পটুয়াখালী।

বিজ্ঞাপন

আইসিটি বিভাগ বলছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা গেলে তথা ১৪টি জেলায় আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপন করা গেলে আইটি ও হাইটেক সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা তৈরি করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি আইটি ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে একাডেমিয়ার সেতুবন্ধন তৈরি করা যাবে। দেশের প্রতিটি অঞ্চলে বিপিও খাতকে একটি প্ল্যাটফর্মেও নিয়ে আসা যাবে বলে মনে করছে আইসিটি বিভাগ।

প্রকল্প প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত দেশে ৩৯টি হাইটেক আইটি পার্ক স্থাপনের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সাতটি স্থানে সফটওয়্যার টেকনোলজি, আইটি বিজনেস, ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে। দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ বেকারের কর্মসংস্থান তৈরি এবং বৈদেশিক বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগে উৎসাহ দেওয়ার জন্য দেশের বিভিন্ন সম্ভাব্য অঞ্চলে আইটি পার্ক স্থাপন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম। কেননা এসব পার্ক তথ্যপ্রযুক্তি খাতের প্রতিষ্ঠান তৈরির জন অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা তৈরি করবে।

বিজ্ঞাপন

পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা সারাবাংলাকে বলেন, আইসিটি বিভাগ থেকে প্রস্তাব পাওয়ার পর গত বছরের ৮ ডিসেম্বর প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় প্রকল্প প্রস্তাবনা পর্যালোচনা করে কিছু সুপারিশ দেওয়া হয়। সেসব সুপারিশ প্রতিপালন করায় প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে। অনুমোদন পেলে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে প্রকল্পটির দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিকল্পনা কমিশনের আর্থসামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) মোসাম্মৎ নাসিমা বেগম সারাবাংলাকে বলেন, আইসিটি খাতের জন্য এটি একটি বড় প্রকল্প। বিপুলসংখ্যক তরুণ বেকার জনগোষ্ঠী এসব সেন্টার থেকে আইটি প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। ফলে আইসিটি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবলও এখান থেকেই তৈরি হবে। প্রশিক্ষণ নেওয়া তরুণরা ফ্রিল্যান্সার হিসেবেও কাজ করার সুযোগ পাবেন। আবার তারা স্টার্টআপ গড়ে তুলে নিজেরাই উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে পারবেন।

বিজ্ঞাপন

নাসিমা বেগম আরও বলেন, ইনকিউবেশন সেন্টারগুলো আইসিটি খাতের অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা তৈরি করবে। ফলে আইসিটি খাতের প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার সুযোগ পাবে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও আইসিটি খাতে দক্ষ জনবল পাবে। ফলে এই খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা সহজ হবে।

প্রকল্পটির আওতায় প্রতিটি ইনকিউবেশন সেন্টারের জন্য সাত তলা ফাউন্ডেশনের ইনকিউবেশন ভবন ছাড়াও দুই তলা সিকিউরিটি ভবন তৈরি করা হবে। এর জন্য প্রয়োজনীয় ভূমি অধিগ্রহণ ও উন্নয়ন করা হবে। ইনকিউবেশন সেন্টার এলাকার অন্যান্য পূর্ত কাজও প্রকল্পের আওতাভুক্ত। এছাড়া ৭০ জনের জন্য বৈদেশিক প্রশিক্ষণের সুযোগও রাখা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/জেজে/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন