বিজ্ঞাপন

বাজেটে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে প্রাধান্য দিতে হবে

June 2, 2022 | 10:36 pm

এমদাদুল হক তুহিন, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: আসন্ন ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে প্রাধান্য দিতে হবে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে দেশে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে অতীষ্ঠ সাধারণ মানুষের জীবন। বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে। ডিজিটাল পেমেন্টকে উৎসাহিত করতে ৫ শতাংশ প্রণোদনা দিতে হবে। সফটওয়্যার ও আইটিইএস খাতের কর অব্যাহতির সুবিধা ২০৩০ সাল পর্যন্ত বহাল রাখতে হবে।

বিজ্ঞাপন

আসন্ন ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট আগামী ৯ জুন সংসদে উত্থাপন হওয়ার কথা রয়েছে। বাজেট ঘিরে সারাবাংলা ডটনেটের ধারাবাহিক আয়োজন ‘কেমন বাজেট চাই’র এই পর্বে কথা বলেছেন বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিএমসিসিআই) সভাপতি ও এফবিসিসিআই পরিচালক সৈয়দ আলমাস কবীর। সংগঠনটির পক্ষে বাজেট সামনে রেখে বিভিন্ন প্রস্তাবনার কথা তুলে ধরেন তিনি।

সৈয়দ আলমাস কবীর বলেন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি সঞ্চারকে প্রাধান্য দিয়ে আসন্ন বাজেটটি প্রণয়ন ও ঘোষণা করা হবে বলে আমরা আশাবাদী। এবারের বাজেটে সহজ ও ব্যবসাবান্ধব আয়কর ব্যবস্থা, আয়কর ও মূল্য সংযোজন করের আওতা বাড়ানো, আয়কর সংগ্রহে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, করব্যবস্থার সম্পূর্ণ অটোমেশন, রফতানি বহুমুখীকরণ ও স্থানীয় শিল্পায়ন উৎসাহিতকরণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে বলে আশা করছি।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, করোনা পররর্তী সময়ে বিশ্ব অর্থনীতি এখন পুরোদমে সচল। অভ্যন্তরীণ চাহিদা, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের এখনই মোক্ষম সময়। তবে শঙ্কার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। এই যুদ্ধের ফলে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো আমাদের অর্থনীতিতেও এখন মুদ্রাস্ফীতির চাপ দেখা যাচ্ছে। লজিস্টিক ও সাপ্লাই চেইনে ব্যাঘাত ঘটছে। আগামী বাজেটে এসব প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের প্রতিফলন থাকা আবশ্যক।

আরও পড়ুন- নন-কটন রফতানিতে প্রণোদনা চাই

বিজ্ঞাপন

আলমাস কবীর বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের ফলে সঠিক প্রস্তুতির অভাবে আমাদের রফতনিতে এর প্রভাব নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। রফতানি আয় বাড়াতে বিভিন্ন প্রণোদনা অব্যাহত রাখতে হবে। রফতানির ক্ষেত্রে অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাত, যেমন— তৈরি পোশাক শিল্পের মতো খাত যেন নিয়মিত বন্ডেড সুবিধা পায়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, পরিবেশবান্ধব বা সবুজ শিল্পায়নে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে সাধারণ কারখানা ও পরিবেশবান্ধব শিল্পের মধ্যে করপোরেট করের ব্যবধান কমপক্ষে ৫ শতাংশ রাখতে হবে। প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় আমাদের করপোরেট করের হার এখনো অনেক বেশি, যা দ্রুত কমানো দরকার। ব্যক্তি করদাতারা তাদের সম্পদের পরিমাণ সঠিকভাবে প্রদর্শন করছে না। এনবিআরকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সাবেক সভাপতি আলমাস কবীর। ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান মেট্রোনেটের সিইও তিনি। তথ্যপ্রযুক্তি খাত নিয়েও বাজেটে কিছু সুযোগ-সুবিধা রাখার পক্ষেও তিনি মত দিলেন।

আলমাস কবীর বলেন, জাতীয় তথ্যপ্রযুক্তি নীতিমালা অনুযায়ী সফটওয়্যার ও আইটিইএস খাতের কর অব্যাহতির সুবিধা ২০৩০ সাল পর্যন্ত বহাল রাখতে হবে। ইন্টারনেট সার্ভিসেস অ্যান্ড ট্রেনিং অন আইটি/ আইটিইএস’কে আইটিইএসের সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করে বৈদেশিক নির্ভরতা কমাতে ট্যাক্স সমস্যার সমাধান করতে হবে। ডিজিটাল পেমেন্ট উৎসাহিত করতে ৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা দেওয়া উচিত। আইসিটি খাতে নারী উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে তহবিল গঠন ও নারীদের কর্মসংস্থান তৈরিতে আর্থিক প্রণোদনা দিতে হবে। সব মন্ত্রণালয় ও তাদের অধিভুক্ত সংস্থাগুলোর আভ্যন্তরীণ উন্নয়নের জন্য বাজেটের অন্তত ১০ শতাংশ সফটওয়্যার ও আইটিইএস কিনতে বরাদ্দ রাখা উচিত।

বিজ্ঞাপন

এনবিআর, আয়কর, ভ্যাট, শুল্ক ইত্যাদি বিষয় নিয়েও মতামত তুলে ধরেন এই ব্যবসায়ী নেতা। বলেন, এনবিআরের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। তবে ব্যবসায়ীরা যেন হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে। বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কর কাঠামো প্রণয়ন করতে হবে। এছাড়া আয়কর, ভ্যাট ও শুল্ক বিষয়ক অনেক সিদ্ধান্ত ব্যবসায়ী, ভোক্তা, করদাতা কিংবা রাজস্বের ওপর কী প্রভাব ফেলছে, তা বিশ্লেষণ করে পরবর্তী সময়ে সংশোধনমূলক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। স্থানীয় শিল্পের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কী কী সুবিধা দেওয়া উচিত, তা নির্ধারণ করে ট্যারিফ পলিসি দ্রুত বাস্তবায়ন করা উচিত। হোল্ডিং ট্যাক্স প্রক্রিয়ায় ই-টিন বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে। প্রবাসী আয় বৃদ্ধি অর্থাৎ রেমিট্যান্সের ওপর জোর দেওয়া দরকার।

সারাবাংলার সঙ্গে আলাপে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির এই সভাপতি বলেন, এফটিএ (ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট) নিয়ে অনেক দিন ধরে কথা হচ্ছে। মালয়েশিয়া এটি নিয়ে আগ্রহী, আমাদের সরকার কতটা আগ্রহী, তা এখনো বোঝা যাচ্ছে না। প্রাথমিকভাবে যে তালিকা করা হয়েছে, সেখানে মালয়েশিয়া নেই বলে জেনেছি। এফটিএতে মালয়েশিয়াকে নিয়ে এলে দেশটির সঙ্গে আমদানি-রফতানি বাড়ানোর বড় সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় তেলের জন্য পাম গাছ চাষ করা যেতে পারে। রাবার গাছের আবাদ হতে পারে। ফেব্রুয়ারিতে মালয়েশিয়ার মন্ত্রী এসেছিলেন। মালয়েশিয়া এগুলো নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী। ওখানকার যারা আগ্রহী, তারা এখানে প্রযুক্তি দিতে রাজি আছেন। আবার যৌথভাবে বিনিয়োগেও আগ্রহী। বাজেটে এগুলোকেও প্রাধান্য দেওয়া উচিত।

আলমাস কবীর বলেন, আমাদের দেশে করদাতার সংখ্যা খুবই কম। করহার না বাড়িয়ে করদাতার সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন। করজালের আওতা যত বাড়বে, করহার বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাও তত কমবে। একইসঙ্গে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল পদ্ধতিকে আরও জনপ্রিয় করতে ব্যাপক প্রচারণা চালানো দরকার।

তিনি বলেন, প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ টাকা পাচার হচ্ছে। এই পাচার রোধে ২০১৩ সালে ট্রান্সফার প্রাইসিং নামে একটি আইন করা হয়েছিল। বাস্তবে এর অগ্রগতি কতটুকু, তা আমরা জানি না। মুদ্রা পাচার রোধে ভারত অথবা দক্ষিণ কোরিয়ার মতো কঠোর আইন করা যায় কি না, সেটি ভেবে দেখা যেতে পারে।

সারাবাংলা/ইএইচটি/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন