বিজ্ঞাপন

রাজস্ব আহরণে আরও বেশি জোর দিতে হবে

June 4, 2022 | 10:51 pm

এমদাদুল হক তুহিন, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: আসন্ন ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আহরণে আরও বেশি জোর দিতে হবে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ওএমএস ও টিসিবি’র কার্যক্রমে বরাদ্দ বাড়াতে হবে। আর বেশি জোর দিতে হবে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীতে। এছাড়া ভর্তুকি বাজেটেও এবার বরাদ্দ বাড়াতে হবে। অর্থাৎ এবারের বাজেটে সম্পদ আহরণের দিকে আরও নজর দেওয়া, সেই সম্পদ বণ্টনে ন্যায্যতা নিয়ে আসা এবং বাস্তবায়নের দক্ষতা বাড়াতে হবে। আসন্ন ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট সংসদে উপস্থাপন হবে ৯ জুন। বাজেট ঘিরে সারাবাংলা ডটনেটের ধারাবাহিক আয়োজন ‘কেমন বাজেট চাই’র এবারের পর্বে কথা বলেছেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান। সারাবাংলার সঙ্গে আলাপকালে আগামী অর্থবছরের বাজেট প্রসঙ্গে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান সারাবাংলাকে বলেন, ‘বাজেটের তিনটি বিষয়— রাজস্ব আহরণ, বণ্টন ও বণ্টনকৃত অর্থের বাস্তবায়ন। তিন দিক থেকেই আমাদের বিষয়টি দেখা উচিত। আমাদের রাজস্ব জিডিপির অনুপাতে কেবলমাত্র ৯ শতাংশ। এটা বাড়াতে না পারায় বিভিন্ন ব্যয় ঠিক মতো করতে পারছি না। আমাদের ঘাটতি অর্থায়ন করতে হচ্ছে। সুতরাং আমার মনে হয়, এবারের বাজেটে রাজস্ব আহরণে নজর দিতে হবে। এনবিআরসহ প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর সক্ষমতা বাড়াতে হবে। রাজস্ব আহরণ আরও কীভাবে বাড়াতে পারি সেটার দিকে নজর দেওয়া উচিত।’

তিনি বলেন, ‘মানুষ এখন মূল্যস্ফীতির চাপে আছে। বৈশ্বিক বাজারেও মূল্যবৃদ্ধির চাপ আছে। এছাড়া করোনা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর তাগিদও আছে। ব্যক্তি করের ক্ষেত্রে প্রথম স্ল্যাবটিতে করের শতাংশিক হার কমানো যেতে পারে। বিনিয়োগকে চাঙ্গা করার একটা তাগিদ এবারের অর্থনীতিতে আছে। সেদিক থেকে করপোরেট করের যৌক্তিকরণ যেটা শুরু হয়েছিল, সেটা অব্যাহত রাখা উচিত।’

বিজ্ঞাপন

সিপিডির এই সম্মানীয় ফেলো বলেন, ‘বণ্টনের দিক থেকে যদি বলি, এবার যেহেতু মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ছে সেক্ষেত্রে কিছু জায়গায় শুল্ক যৌক্তিককরণ করতে হবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মধ্যে যেগুলো বাইরে থেকে আমদানি করতে হয় আন্তর্জাতিক বাজারে সেগুলোর দাম বাড়ছে। টাকার অবমূল্যায়নের কারণে এটি হয়েছে। এদিক থেকে শুল্ক যৌক্তিককরণে কিছুটা নজর দিতে হবে।’

ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘সম্পদের দিক থেকে আমাদের এখন সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীতে জোর দিতে হবে। স্বল্প আয়ের মানুষকে ওএমএস ও টিসিবির কার্যক্রমে নিয়ে আসতে হবে। তাই এই দ ‘টি খাতে আরও বেশি বরাদ্দ রাখা উচিত।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের যে ভর্তুকি সেটা বৃদ্ধি করার একটি চাপে থাকব। মানুষের এবং কৃষকের জন্য যতটা সম্ভব ভর্তুকি বাড়িয়ে চাপটা সামাল দেওয়া দরকার। পরবর্তী সময়ে ‍যদি মূল্য সমন্বয় করতে হয় তাহলে করা যেতে পারে।’

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, ‘ব্যয়ের ক্ষেত্রে দক্ষতা ও স্বচ্ছতা থাকতে হবে। সম্পদের যাতে অপচয় না হয় সেদিকে নজর দিতে হবে। সরকারি ব্যয় আরও দক্ষতার সঙ্গে করার তাগিদটা এবার আরও বেশি। সরকারি ব্যয় জিডিপির ১৪ থেকে ১৫ শতাংশের বেশি না। উন্নয়নশীল দেশগুলোর গড় কিন্তু ২৪ থেকে ২৫ শতাংশ। দক্ষিণ এশিয়ার ক্ষেত্রে নেপাল ও ভারতেরও কিন্তু অনেক বেশি। আমাদের চেষ্টা করতে হবে সম্পদ আহরণ করা ও রাজস্ব ফাঁকি প্রতিরোধ করা। এখানে শূন্য সহিষ্ণুতা যেটা রয়েছে বাস্তবে তার প্রয়োগ করা।’

অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘সম্পদ আহরণে কালো টাকা সাদা করার বৈধতা দেওয়া ঠিক নয়। সুবিধা দিয়ে বাইরে থেকে টাকা আনাও ঠিক নয়। বরং প্রযুক্তি ব্যবহার করে কীভাবে আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি ইউনিট ও এনবিআরের শাখাগুলো ব্যবহার করে সম্পদ আরও বাড়াতে পারি— সেদিকে বেশি নজর দিতে হবে। সম্পদ আহরণের দিকে নজর দেওয়া, বণ্টনে ন্যায্যতা নিয়ে আসা এবং বাস্তবায়নে দক্ষতা বৃদ্ধি— এই তিনটি বিষয় মাথায় রেখে এবারের বাজেট প্রণয়ন এবং বাজেটের অর্থ বণ্টন করলে এই মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে পারব। পাশাপাশি করোনা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য বিনিয়োগকে চাঙ্গা করলে অর্থনীতিতে যে চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে- তা আমরা মোকাবিলা করতে পারব।’

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/ইএইচটি/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন