বিজ্ঞাপন

‘খালেদা জিয়াকে বলি— আসুন দেখে যান পদ্মা সেতু হয়েছে কি না?’

June 25, 2022 | 1:46 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নিজের টাকায় পদ্মা সেতু করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু বিএনপি বলল, আওয়ামী লীগ পদ্মা সেতু করতে পারবে না। আমি খালেদা জিয়াকে বলতে চাই-আসুন, দেখে যান পদ্মা সেতু হয়েছে কি না?

বিজ্ঞাপন

পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ভাষণে শনিবার দুপুরে (২৫ জুন) এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক জ্ঞানী-গুণী মানুষ বলেছিল, নিজেদের টাকায় পদ্মা সেতু হবে না। কিন্তু হয়েছে। কারণ জনগণ আমার পাশে ছিল। জনগণের শক্তিই বড় শক্তি।’

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রীর তার ভাষণে বলেন, ‘জাতির পিতার ডাকে সাড়া দিয়ে দেশের মানুষ যুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জন করেছে। জাতির পিতা মাত্র সাড়ে তিন বছরে বাংলাদেশকে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তোলেন। মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। ছয় বছর দেশে আসতে পারিনি। ১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগ আমাকে সভাপতি নির্বাচিত করে। জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণ, দেশের মানুষের উন্নত জীবন নিশ্চিত করতে দেশে ফিরে আসি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘অনেক চড়াইৎ-উৎরাই পেরিয়ে বাংলাদেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে পেরেছি। ডিজিটাল বাংলাদেশ ওয়াদা করেছিলাম। আজ সবার হাতে মোবাইল ফোন। অনলাইনে কেনাবেচার ব্যবস্থা করতে পেরেছি। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে পেরেছি। কারণ বাংলাদেশের মানুষ ভোট দিয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমার একমাত্র শক্তি জনগণ। ৭৫ এ মা-বাবাসহ সবাইকে হারিয়েছিলাম। আপনারা পাশে ছিলেন। আজ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে রাস্তা-ঘাট, পুল-ব্রিজ উন্নত করেছে। আজ রাস্তাঘাট, পুল-ব্রিজ করেছি বলেই সবার জন্য যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলে সেই পায়রা পর্যন্ত সেতু তৈরি করে দিয়েছি। পদ্মা সেতু করতে পেরেছি আপনাদের সাহসে। আজ আলহামদুলিল্লাহ, আমরা সেই পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে পেরেছি। এই খরস্রোতা পদ্মা নদী পার হতে গিয়ে আর কাউকে মা-বাবাকে, ভাই-বোনকে হারাতে হবে না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা বাধা দিয়েছিল, তাদের উপযুক্ত জবাব এই পদ্মা সেতুর মাধ্যমে আমরা দিতে পারলাম যে বাংলাদেশ পারে। ৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না। বাঙালিকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারেনি, পারবে না। বঙ্গবন্ধুর ডাকে সবাই অস্ত্র হাতে স্বাধীনতা এনেছে। কিন্তু সোনার বাংলার স্বপ্ন তিনি পূরণ করতে পারেননি। আমাদের সেই কাজ করতে হবে।’

বিজ্ঞাপন

এই পদ্মা সেতু দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার কোটি মানুষকে সরাসরি সড়কপথে যুক্ত করবে।

১৯৯৮ সালে যমুনা নদীর ওপর বঙ্গবন্ধু বহুমুখী সেতুর উদ্বোধনের পরপরই দাবি ওঠে পদ্মার বুকে সেতু নির্মাণের। তবে প্রমত্তা পদ্মাকে বাগে এনে এর বুকে ইস্পাত-কংক্রিটের কাঠামো নির্মাণ সহজ ছিল না। সেই প্রকৌশল দিক বাদ দিলেও পদ্মা সেতুর অর্থায়ন নিয়েও তৈরি হয় প্রতিবন্ধকতা।

বিজ্ঞাপন

১৯৯৮-৯৯ সালে পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রাক-সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর ২০০১ সালের ১২ জুলাই প্রথম পদ্মা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০০১ সালে বিএনপির নেতৃত্ব চার দলীয় জোট ক্ষমতায় এলে খুব বেশি অগ্রগতি হয়নি সেতু প্রকল্পের। ওয়ান-ইলেভেনখ্যাত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে অবশ্য সেতুটির প্রথম প্রকল্প একনেকে পাস করা হয়। ২০০৯ সালে সেতুর নকশা প্রণয়নের প্রস্তাবে অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরুর প্রস্তাব। প্রথম দফায় সংসদে সেতুর ব্যয় সংশোধন করে নির্ধারণ করা হয় ২০ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা।

২০১১ সালের ২৮ এপ্রিল পদ্মা সেতুতে অর্থায়নে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ১২০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি সই হয়। তবে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ঋণচুক্তি স্থগিত করে বিশ্বব্যাংক। পরিস্থিতি বিবেচনায় ২০১২ সালের ২৩ জুলাই তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন পদত্যাগ করেন। শর্তসাপেক্ষে এ প্রকল্পে আবার ফেরতও আসে বিশ্বব্যাংক। তবে ২০১৩ সালের ৪ মে বিশ্বব্যাংকের ঋণসহায়তা প্রত্যাখ্যান করে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেন শেখ হাসিনা।

২০০১ সালের ১২ জুলাই প্রথম পদ্মা সেতু নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হয়। এরপর দীর্ঘ চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর মুন্সীগঞ্জের মাওয়ায় পদ্মা সেতুর বাস্তবায়নের মূল পাইলিং কাজের উদ্বোধন করেন শেখ হাসিনা।

২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পদ্মা সেতুর প্রথম স্প্যান বসানো হয়। ২০১৮ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর স্প্যানে রেলওয়ে স্ল্যাব বসানো শুরু হয়। সড়কপথের জন্য স্ল্যাব বসানোর কাজ শুরু হয় ২০১৯ সালের ১৯ মার্চ।

২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর সবশেষ ৪১তম স্প্যানটি বসানোর মধ্য দিয়ে ৪২টি পিলারের ওপর ৪১টি স্প্যানে পূর্ণ ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৃশ্যমান হয় পদ্মা সেতু। ২০২১ সালের ২৩ আগস্ট পদ্মা সেতুতে সবশেষ সড়ক স্ল্যাব স্থাপনের পর মূল সেতুতে পিচ ঢালাইয়ের কাজ শুরু হয় ১০ নভেম্বর।

২০২২ সালের ১৭ মে পদ্মা সেতুতে যানচলাচলের জন্য টোলের হার নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ‘পদ্মা সেতু’ নামকরণ করে সেতু বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয় ২৯ মে।

শেখ হাসিনার হাত ধরে সম্পূর্ণ নিজ অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মতো এক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের যে সাহস দেখিয়েছিল বাংলাদেশ, সেই শেখ হাসিনার হাতে উদ্বোধনের মাধ্যমেই আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ পরিচয়কে বিশ্বের বুকে তুলে ধরার এক চক্র পূরণ হলো আজ।

সারাবাংলা/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন