বিজ্ঞাপন

পরিচয় পেয়েও সাংবাদিকদের পেটালেন পুলিশ ও ক্লিনিক মালিক

August 9, 2022 | 9:04 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: কোনো মেডিকেল কলেজে পড়ালেখা না করলেও বিএমডিসির নম্বর জালিয়াতি করে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছিলেন একজন ভুয়া চিকিৎসক— এমন অভিযোগের ভিত্তিতে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর এলাকায় এসপিএ রিভারসাইট মেডিকেল সেন্টারে ক্যামেরাপারসন সাজু মিয়াকে সঙ্গে নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে যান ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের সাংবাদিক হাসান মিসবাহ। তবে অভিযোগের জবাব না দিয়ে উল্টো সাংবাদিকদের উপরেই হামলা করেন ক্লিনিক মালিক ডা. ওসমান। তার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটির ১৫-২০ জন কর্মী প্রথম দফায় হামলা শেষে পুলিশ ডেকে আনে। কিন্তু পরিচয়পত্র, ক্যামেরা দেখে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরেও ‘ভুয়া সাংবাদিক’ বলে তাদের আবার মারধর করে ক্লিনিক মালিক ওসমান ও কামরাঙ্গীরচর থানার এসআই মিলন।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (৯ আগস্ট) বিকেলে সাংবাদিকদের ওপর এই হামলার ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করে কামরাঙ্গীরচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান সারাবাংলাকে বলেন, ‘এ ঘটনায় ইতোমধ্যেই এসআই মিলন হোসেনকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ক্লিনিকটির মালিক পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও আমরা তাকে আটক করতে সক্ষম হয়েছি।’

দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আহত হওয়া সাংবাদিক হাসান মেসবাহ সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের কাছে তথ্য ছিল এসপিএ হাসপাতালটিতে একজন ভুয়া চিকিৎসক বসেন। তিনি বিএমডিসির যে নম্বর ব্যবহার করেন সেটা ভুয়া বলে আমাদের কাছে তথ্য ছিল। সেই তথ্যের ভিত্তিতে আমরা সেখানে যাই এবং হাসপাতালটির মালিক সিও ভুয়া চিকিৎসক ওসমানের সাক্ষাৎকার নিতে শুরু করি। একপর্যায়ে ভুয়া ডাক্তার থাকার বিষয়ে বলা হলে ওসমান বলেন, এই তুই কি আমাকে একজন ভুয়া চিকিৎসক মনে করেছিস? জানিস আমি কে? দাঁড়া তোকে দেখাচ্ছি। এই যা, তোকে আর ইন্টারভিউ দেব না।’

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, ‘তখন আমি তাকে বলি যে, আপনার এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলার দারকার নাই। শুধু বলেন, আপনার হাসপাতালে ভুয়া চিকিৎসক বসে কি না। তখন তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে প্রথমে আমার চশমাটা ভেঙে ফেলেন। এরপর আমার গায়ে হাত তোলেন। পরে হাসপাতালের ১৫ থেকে ২০ জন লোক ডেকে আমাদের মারধর করেন। এরপর আমাদের ফোন, গাড়ির চাবি কেড়ে নিয়ে তিনিই পুলিশকে খবর দেন।’

হাসান মিসবাহ বলেন, ‘পুলিশ আসার পর এসআই মিলন আমাকে বলে তুই কোন টিভির সাংবাদিক। তখন আমি তাকে বলি আমরা ইন্ডিপেনডেন্ট টিভি থেকে এসেছি। এবার তিনি সাজুকে বলতে লাগলেন, তোরা যদি আসল সাংবাদিক হয়ে থাকিস তাহলে তোদের কার্ড দেখা। এ সময় সাজু তার কার্ডটি বের করে দেখালে সেটি দেখে বলতে থাকে এই তোরা তো ভুয়া সাংবাদিক।’

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘পুলিশ কর্মকর্তাকে আমাদের সব পরিচয়পত্র দেখানো হয়। আমি বারবার বলার চেষ্টা করছিলাম, আমরা আমাদের অফিস থেকে অ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে এখানে এসেছি। আপনি অফিসে ফোন করে বিষয়টি যাচাই করতে পারেন। কিন্তু তিনি আমার কোনো কথা না শুনে সরাসরি তেড়ে এসে আমার মুখে ঘুষি মারেন। এরপর অন্যরা তার সঙ্গে যোগ দেয়।’

আমাদের দু’জনকে সেই এসআইয়ের সামনে আবারও মারধর করা হয়- বলেন হাসান মেসবাহ। তিনি আরও বলেন, ‘তারা আমাদের সঙ্গে থাকা ক্যামেরা ও গাড়ি ভাংচুর করেছে। আমাদের কাছে অফিসের যাবতীয় সব সরঞ্জামাদি থাকার পরও এসআই ভুয়া সাংবাদিক বলে মারধর করেছে।’

বিজ্ঞাপন

এদিকে ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ও বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএইচআরএফ) এর নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মিসবাহ’র ওপর সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছেন বিএইচআরএফের সভাপতি রাশেদ রাব্বি ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল।

বিএইচআরএফ নেতারা বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুত দোষীদেরকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/ইউজে/এনএস/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন