বিজ্ঞাপন

গার্ডার চাপায় মৃত্যুর দায় চায়না গেঝুবা’র, জানানো হবে দূতাবাসে

August 16, 2022 | 7:21 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: রাজধানীর উত্তরায় নির্মাণাধীন বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের ক্রেন থেকে ১২০ টন ওজনের গার্ডার ছিটকে প্রাইভেটকারের উপর পড়ে নিহত হয়েছেন পাঁচজন। এ ঘটনায় দায় আছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না গেঝুবা গ্রুপ করপোরেশনের (সিজিজিসি)। তারা নিরাপত্তার বিষয়টি বার বার লঙ্ঘন করেছে। এ বিষয়ে ঢাকার চীনা দূতাবাসকে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন দুর্ঘটনার কারণ তদন্তে গঠির কমিটির প্রধান ও অতিরিক্ত সচিব নীলিমা আক্তার।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলন কক্ষে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের তদন্ত কমিটির পাওয়া তথ্য জানান তিনি। নীলিমা আক্তার বলেন, ‘আমাদের এই তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারা (ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান) সেফটির বিষয়টি অনেকবার লঙ্ঘন করেছে। এজন্য আমরা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দূতাবাসকে জানাতে চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ ঘটনার জন্য কে দায়ী, সেটা কিন্তু স্টেপ বাই স্টেপ আমাদের পরীক্ষা করে দেখতে হবে। সবগুলোর সঙ্গে একটা লিগ্যাল কানেকশন আছে। সে জিনিসগুলো আমাদের ফলো করতে হবে।’

বিজ্ঞাপন

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত সচিব নীলিমা আক্তার বলেন, ‘আমি এক কথায় বলতে চাই, দায় এড়ানোর প্রশ্নই আসে না। বাংলাদেশের নাগরিকদের মূল্যবান জীবন চলে গেছে, এক্ষেত্রে আমরা কোনোরকম কম্প্রোমাইজ করতে চাই না।’

তিনি বলেন, ‘আপনাদের এটা ভাবার কারণ নেই যে, আমরা একটা চাইনিজ কোম্পানিকে দায়ী করে আমাদের দায় ছেড়ে দিচ্ছি। আমাদের নাগরিকের জীবন মূল্যবান। এটা খুবই দুঃখজনক ঘটনা। এটা এভাবে ছেড়ে দেওয়া যেতে পারে?’

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, ‘ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে সেজন্য আমরা এই জিনিসগুলোকে পরীক্ষা করে দায়টা ফিক্সড করতে চাচ্ছি যে, কে কতটুকু দায়ী।’

নীলিমা আক্তার বলেন, ‘আমাদের কাজটি (বিআরটি প্রকল্পের একপ্রেসওয়ে) প্রায় ৮০ শতাংশ হয়ে গেছে। এখন আমরা শাস্তি দিতে পারি, তাদের বাতিল করে দিতে পারি। সেক্ষেত্রে আমরা যদি পুনরায় কন্ট্রাক্টর সিলেকশনে যাই তাহলে আমাদের জনগণকে আরও ভোগান্তির দিকে ঠেলে দেওয়া হবে। কিন্তু ভোগান্তি এক জিনিস আর লাশ দেখা আরেক জিনিস। সেজন্য আমরা আর কম্প্রোমাইজ করছি না।’

বিজ্ঞাপন

এদিকে, ব্রিফিংয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের চিফ ইঞ্জিনিয়ার একেএম মনির হোসেন পাঠান বলেন, ‘সড়ক নিরাপত্তা যেকোনো কনস্ট্রাকশন কাজের অন্যতম সেফটি ইস্যু। এগুলো ছাড়া কোনো চুক্তি হয় না। চুক্তির মধ্যে আছে ঠিকাদার নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ইস্যুগুলো নিশ্চিত করার পরই কেবল কাজে যেতে পারবে। সেগুলো কনফার্ম করেছে কি না, সেটি যাচাই করার জন্য কনসালটেন্ট আছে, প্রজেক্ট পারসন আছে। তারা যাচাই করে দেখবে, সেফটি মেজারমেন্টগুলো ঠিক আছে কি না। যদি সেগুলো ঠিক মতো কাজ করে তাহলে সে কাজ করার অনুমতি পাবে। অন্যথায় পাবে না।’

এছাড়া প্রকল্পের মধ্যে আলাদা প্রজেক্ট ইমপ্লিমেন্টশন ইউনিট আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দাতা সংস্থা এডিবির (এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক) কনসালটেন্টও আছে। তারাও বিষয়গুলো মনিটর করে।’

বিজ্ঞাপন

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী।

সারাবাংলা/এসবি/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন