বিজ্ঞাপন

বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রভাব হাসপাতালে, ভোগান্তি রোগীদের

October 4, 2022 | 11:38 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দেওয়ায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় দুপুর থেকেই বিদ্যুৎ সরবরাহ ছিল না। পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের কারণে এই সমস্যা তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিদ্যুৎ না থাকার কারণে ব্যাহত হয়েছে হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের চিকিৎসাসেবা। বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য জেনারেটর চালিয়ে জরুরি বিভাগ, অপারেশন থিয়েটারে রোগীদের সেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও ভোগান্তি বেড়েছে রোগীদের। চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয়েছে চিকিৎসক, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্বাস্থ্যকর্মীদের।

রাজধানীর বাড্ডায় অবস্থিত এএমজেড হাসপাতাল, পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মহাখালীর জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, জাতীয় ক্যানসার ইনস্টিটিউট হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে দেখা গেছে রোগীদের দুর্ভোগ।

বিজ্ঞাপন

দুপুরে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় বিপর্যয় শুরু হলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে বেড়েছে দুর্ভোগের মাত্রা। দুপুরে বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে আইসিইউ, এনআইসিইউ, অপারেশন থিয়েটার ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের কার্যক্রম জেনারেটর দিয়ে চালু রাখা হলেও রোগীর যাতায়াতের জন্য লিফট সচল রাখা সম্ভব হয়নি। ওয়ার্ডের বাইরে বাতি ও পাখা বন্ধ রাখার কারণে দুর্ভোগ বাড়ে রোগীর স্বজনদের। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ওয়ার্ডে মোমবাতি জ্বালিয়ে আলোর ব্যবস্থা করছিলেন তারা।

স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তারা জানান, জেনারেটর দিয়ে ঘণ্টাখানেক সাপোর্ট দেওয়ার জন্য প্রতি ঘণ্টায় অন্তত ২০ থেকে ৪০ লিটার তেলের প্রয়োজন হয়। কিন্তু দুপুর থেকে একটানা বিদ্যুৎ না থাকায় তেল আনাটা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। একইভাবে একটানা জেনারেটর চালানোর কারণে যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দেয় বলে জানান তারা।

বিজ্ঞাপন

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. খলিলুর রহমান সারাবাংলাকে বলেন, ‘হাসপাতলে বিদ্যুৎ না থাকলে সবকিছুতেই সমস্যা দেখা যায়। যার প্রভাব পড়ে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া থেকে শুরু করে ব্যবস্থাপনায়। নরমাল লোডশেডিং হলে দেখা যায় এক থেকে দুই ঘণ্টা আমাদের জেনারেটর দিয়ে চালাতে হয়। এর বেশি হলে জেনারেটর দিয়ে জরুরি বিভাগের সেবা, অপারেশন থিয়েটার ব্যবস্থা চালানো সম্ভব হলেও সব ওয়ার্ডে লাইট বা ফ্যান চালানো সম্ভব হয় না। সেক্ষেত্রে আমাদের প্রায়োরিটি বিবেচনায় নিয়ে কাজ করতে হয়।’ তিনি বলেন, ‘তেল দিয়ে চলে জেনারেটর। আজ অনেকক্ষণ চালানো হয়েছে। তেল শেষ হওয়ার পরে আবার আনা হয়েছে।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক (হাসপাতাল) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নজরুল ইসলাম খান সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের জেনারেটর সার্ভিস দিয়ে আইসিইউ, অপারেশন থিয়েটার চালানো হয়েছে। ওয়ার্ডগুলোতে রোগীদের কিছুটা সমস্যা হয়েছে। তবে আমরা জরুরি বিভাগের জায়গাগুলোতে বিদ্যুৎ নিশ্চিত করেছি আগে।’

বিজ্ঞাপন

বাড্ডায় অবস্থিত একটি বেসরকারি হাসপাতালের কর্মকর্তা সাদেকুল ইসলাম বলেন, ‘দুপুর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৬০ লিটার তেল কিনতে হয়েছে জেনারেটরের জন্য। কারণ বেসরকারি হাসপাতালে এসি না চালালে রোগীর অভিযোগ আসাটা স্বাভাবিক। রোগীদের সেবা অব্যাহত রাখতে আমরা অন্যান্য দিকে লাইট, ফ্যান বন্ধ রেখেছিলাম।’

ঢামেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. আশরাফুল আলম সারাবাংলাকে জানান, ‘দেশের জাতীয় বিদ্যুৎ বিপর্যয় ছিল। দুপুরে বিদ্যুৎ চলে গেলেও জেনারেটর দিয়ে সাপোর্ট দিতে পেরেছি। ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত সাপোর্ট দিতে সক্ষম ছিলাম। তবে তার আগেই বিদ্যু সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘আইসিইউ, হাসপাতালের সব অস্ত্রোপচার কক্ষ সচল ছিল। এইচডিইউসহ গুরুত্নপন্ন জায়গায় হাসপাতালে নিজের জেনারেটর দ্বারা বিদ্যুৎ সচল রাখা হয়েছিল। বিদ্যুৎ বিভ্রাট দিনের বেলায় হওয়ায় অসুবিধা কম হয়েছে। হাসপাতালের নতুন ভবনে অনেক জায়গায় বন্ধ রাখা হয়েছিল। চারটা লিফটের দু’টি সচল রাখা হয়েছিল।’

সারাবাংলা/এসবি/এসএসআর/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন