বিজ্ঞাপন

মেট্রোরেলের যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছাবে বিআরটিসি’র বাস

December 5, 2022 | 9:01 am

ঝর্ণা রায়, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: পরিকল্পনা অনুযায়ী রাজধানীর উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার চলবে মেট্রোরেল। ফলে ফার্মগেট, শাহবাগ, প্রেসক্লাব কিংবা মতিঝিল গন্তব্যের যাত্রীরা সহজেই কম সময়ে পৌঁছে যেতে পারবেন। কিন্তু প্রাথমিকভাবে উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ১১.৭৩ কিলোমিটার মেট্রো লাইন চালু করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে মেট্রো থেকে নামার পর ওই সব পথের যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছাতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হবে এমন অভিমত বিভিন্ন মহলের। তবে মেট্রোরেল বাস্তবায়নকারী সংস্থা ঢাকা ম্যাস ট্রানসিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব যাত্রীদের যাতে কোনো ধরনের ভোগান্তিতে পরতে না হয় সেজন্য প্রস্তত করা হচ্ছে বিআরটিসি বাস।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মেট্রোরেল উদ্বোধনের পর থেকেই যাত্রীরা ওই বাসে চলাচল করতে পারবেন। সেজন্য ৫০টি বাস প্রস্তুত করা হচ্ছে। নির্মাণ করা হয়েছে আলাদা ডিপো।

বিআরটিসি সূত্র অনুযায়ী, মেট্রোরেলের যাত্রীদের সেবা দিতে সম্প্রতি ডিএমটিসিএল ও বিআরটিসির মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি হয়েছে। সে চুক্তির আওতায় রাজধানী আগারগাঁও থেকে ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, শাহবাগ হয়ে মতিঝিল এবং কমলাপুর পর্যন্ত বাস চলবে। প্রথম ধাপে ৫০টি বাস চলাচল শুরু করবে। এই বাসগুলো আগারগাঁও স্টেশনের যাত্রী পরিবহন করবে। নির্দিষ্ট সময় পর পর বাস আসবে। ফলে মেট্রো থেকে নেমে যাত্রীদের পরিবহনের জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে না। এই বিআরটিসি বাসের জন্য একটি ডিপো নির্মাণ করা হচ্ছে। ডিপোতে একসঙ্গে দশটি গাড়ি রাখা যাবে।

বিজ্ঞাপন

বিআরটিসির চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম সারাবাংলাকে জানান, মেট্রোর মূল লাইন তো কমলাপুর পর্যন্ত। আমাদের পরিকল্পনা কমলাপুর পর্যন্তই বাস সার্ভিস চালু করা। কিন্তু যেহেতু এখন আগারগাঁও পর্যন্ত চালু হচ্ছে সেহেতু বিআরটিসি সার্ভিস মতিঝিল পর্যন্ত থাকবে।

তিনি বলেন, ‘বিআরটিসি একটি রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থা। আমাদের সঙ্গে এমআরটি-৬ এমওইউ স্বাক্ষর করেছে। সে অনুযায়ী আমরা সেবা দেবো। আমাদের লক্ষ্য থাকবে মেট্রোর যাত্রীদের যেন নেমে অপেক্ষা করতে না হয়। আপাতত ৫০টি গাড়ি আমরা দিচ্ছি যাত্রী সংখ্যা বেশি হলে বিআরটিসির গাড়ির সংখ্যাও বাড়বে। যুক্ত হতে পারে বেসরকারি পরিবহনও।’

বিজ্ঞাপন

আগারগাঁও এমনিতেই জনবহুল এলাকা। বেশ কয়েকটি রুটের গাড়ি এখানে যাত্রী ওঠানামা করে, তেমনি রুট ক্রসও করে থাকে। এই ব্যস্ততম পয়েন্টেই মেট্রোরেল স্টেশন। ট্রেন চালু হলে আরো জনকীর্ণ স্থানে পরিনত হবে। এই চিন্তা করে মেট্রোরেল স্টেশনের চারপাশে প্রশস্ত ফুটপাথ রাখা হয়েছে। অফিস শুরুর সময় এবং শেষ সময়ে এই স্থানে বেশি হ্রাস থাকবে সে চিন্তা করে মেট্রোরেলে চলাচলকারী যাত্রীদের যাতায়াত সহজ করতে বিআরটিসি বাস চালু করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগারগাঁও থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত একটি সার্কুলার রুট হবে। এটি কারওয়ানবাজার থেকে ঘুরে আবার আগারগাঁওয়ে ফিরে আসবে। এটি হবে সবচেয়ে বড় রুট। আবার আগারগাঁও থেকে সরাসরি মতিঝিল হয়ে কমলাপুর পর্যন্ত বা মতিঝিল পর্যন্ত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। আরেকটা রুট আগারগাঁও থেকে মহাখালি পর্যন্ত।

বিজ্ঞাপন

মেট্রোরেলে যাত্রী পরিবহন এ মাসেই, চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

বিআরটিসি কর্তৃপক্ষ বলছে, সব কিছু নির্ভর করবে যাত্রী সংখ্যার ওপরে। অন্যদিকে মেট্রোর উত্তরা যে স্টেশন সেখানে যাত্রীদের পৌঁছানোর সুবিধাজনক কোনো পরিবহন নেই। বেসরকারি কোম্পানি রাইদার বাস হাউজবিল্ডিং হয়ে দিয়াবাড়ি পর্যন্ত রুট পারমিট থাকলেও যায় কালভার্ট রোড পর্যন্ত। ফলে এইসব এলাকা থেকে মেট্রোস্টেশনে যেতে হলে রিকশা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। বিআরটিসি বলছে, এই রুটেও যাত্রী পরিবহনে বাস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানেও একটি সার্কুলার রুট করার কথা জানিয়েছেন বিআরটিসির চেয়ার‍ম্যান।

বিজ্ঞাপন

এ প্রসঙ্গে বিআরটিসির চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম সারাবাংলাকে বলেন, ‘সব কিছুই নির্ভর করবে যাত্রী সংখ্যা বাড়া-কমার ওপরে। এই সেবা চালুর করার জন্য এরইমধ্যে অনেক বাস সংস্কার করা হয়েছে। যেসব গাড়ি গত কয়েকবছর ধরে ডিপোতে পরেছিলো, সংস্কার করে বহরে যোগ করা হচ্ছে।’

বর্তমানে এক হাজারের ওপরে গাড়ি আছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘আগে গাড়িতে সমস্যা হলে গাড়ি ডিপোতে বসিয়ে রাখা হতো। এছাড়া কিছু ভাল গাড়িও বসিয়ে রাখা হতো, সেগুলোকে বলা হয় ওয়েটিং কার। অর্থাৎ কোনো গাড়ি নষ্ট হলে সেখানে এই বসে থাকা গাড়ি নামানো হতো। এখন সেভাবে গাড়ি রাখা হয় না। আমি বলেছি কোনো গাড়ি এভাবে বসে থাকবে না। আবার মেইনটেইন্সের জন্য একটা গাড়ি দুই তিন দিন পরে থাকতো, সেটা এখন আর করা হয় না। কারিগরদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা রাতে মেরামত করেন। কারণ রাতে কাজ শেষ হলে দিনের বেলা যাত্রী পরিবহনের জন্য গাড়িগুলো প্রস্তুত হয়ে যাবে। আমরা আমাদের পুরনো গাড়িগুলোই যাত্রী পরিবহনের জন্য প্রস্তুত করছি।’

এদিকে ডিসেম্বরের শেষে উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেল চালু করতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত যে অংশে মেট্রো চালু হবে সেই নয়টি স্টেশনের এই মুহূর্তে গুছিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। আগারগাঁও স্টেশনে এখন চলছে সিঁড়ির কাজ। কাজীপাড়া ও শেওড়াপাড়া স্টেশনের ফুটপাতের কাজ চলছে পুরোদমে। স্টেশনের ভেতরে পরিচ্ছন্নতা কাজের পাশাপাশি চেকিংয়ের কাজ চলছে প্রতিদিন।

উল্লেখ্য, সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পগুলোর মধ্যে মেট্রোরেল প্রকল্প একটি। মোট ছয়ভাগে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হচ্ছে। চলতি মাসের শেষ দিকে মেট্রোরেলের এমআরটি-৬ এর একাংশ যাত্রী পরিবহনের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে। রাজধানীর যানজট কমিয়ে যাতায়াত সহজ করতে ২০১২ সালে ঢাকায় মেট্রোরেল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। শুরুতে উত্তরা থেকে মতিঝিলের বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত নির্মানের কথা থাকলেও পরে সংশোধন করে তা কমলাপুর রেলওয়েস্টেশন পর্যন্ত রুট বাড়ানো হয়।

মেট্রোরেল সংক্রান্ত আরও সংবাদ:

মেট্রোরেলে যাত্রী পরিবহন এ মাসেই, চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

চট্টগ্রামেও চলবে মেট্রোরেল, হচ্ছে ট্রান্সপোর্ট মাস্টারপ্ল্যান

মেট্রোরেলের ভাড়া কিলোমিটারে ৫ টাকা

সারাবাংলা/জেআর/এমও

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন