বিজ্ঞাপন

ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা ২৫০ ছাড়িয়েছে

December 5, 2022 | 3:06 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: স্বাস্থ্য অধিদফতরের হিসেবে চলতি বছরের ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ২৫৭ জন মারা গেছেন। আর গত বছর অর্থাৎ ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১০৫ জন মারা গেছেন।

বিজ্ঞাপন

এবার এত ব্যবস্থা নেওয়ার পরেও মৃত্যুর সংখ্যা দ্বিগুনের বেশি কেন এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালিক জানিয়েছেন, দেরি করে চিকিৎসা নিতে আসার কারণে বেশি ডেঙ্গু রোগী মারা গেছেন।

সোমবার (৫ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে নেপাল এবং সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে ডেঙ্গু রোগী ও মৃত্যুর হারও বেড়েছিল। আমরা লক্ষ্য করেছি আশ-পাশের দেশগুলোর মধ্যে থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুরসহ দেশগুলোতে ডেঙ্গু বেড়ে গিয়েছিল। এ পর্যন্ত ৫৮ হাজার ডেঙ্গু রোগী পেয়েছি। তার মধ্যে ৩৬ হাজারই ঢাকায়, সিটি করপোরেশন এলাকায়। সিটি করপোরেশন এলাকায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী।’

সিটি করপোরেশনে বেশি লোক বাস করে উল্লেখ করে জাহিদ মালেক বলেছেন, ‘এখানে অনেক ড্রেনেজ সিস্টেম আছে। অনেক রকমের পানি জমে আছে, সেটাও বেশি। ঘরবাড়িও বেশি, যেখানে আবর্জনা ও পানি জমে থাকে, কনস্ট্রাকশন অনেক বেশি। সব জায়গায় স্প্রে করা প্রয়োজন। স্প্রে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা করে থাকে। এ বছর দেখা গেলো তারপরও মশা অনেক বেড়েছিল। এতে রোগগীর সংখ্যাও বেড়েছে।’

বিজ্ঞাপন

‘আমরা বারিধারা থাকি সেখানেও অনেক মশা। সার্বক্ষনিক স্প্রে করলেও দেখি মশা দূর হয় না। সেজন্য সবাইকে সচেতন হতে হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘ডেঙ্গুর জন্য যে চিকিৎসা ব্যবস্থা আমাদের নেওয়ার কথা অর্থাৎ হাসপাতালের ব্যবস্থা রাখা, আমরা কিন্তু সেই ব্যবস্থা রেখেছিলাম। হাসপাতাল ডেঙ্গু রোগীতে ভরা ছিল। প্রত্যেক দিন প্রায় ১ হাজার রোগী আমরা পেতাম। সেই ১ হাজার রোগীকে আমাদের রাখতে হয়েছে, চিকিৎসা দিতে হয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

কেউ ই বিনা চিকিৎসায় হাসপাতাল থেকে যায়নি দাবি করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আশার বিষয় হলো রোগীর সংখ্যা কমে আসছে। আগে আমরা প্রতিদিন এক হাজার রোগী পেয়েছি, আজ ৪০০ রোগী ভর্তি হয়েছে। তাতে অর্ধেরকেরও বেশি কমেছে। মৃত্যুর হারও কমেছে। গতকাল (রোববার) তিনজন মারা গেছে। তার আগে কয়েকদিন কোনো মৃত্যু হয়নি।’

গ্রামে এতো মশা নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ঢাকা শহরে এটা বেশি। তাই ঢাকা শহর অন্যান্য সিটি করপোরেশনগুলোতে যদি বেশি নজরদারি করা হয় তাহলে হয়ত আগামিতে ডেঙ্গুর সংখ্যা কমবে। স্প্রে হয়ত যে পরিমাণ দরকার ছিলো সে পরিমাণ দেয়া সম্ভব হয়নি। কিন্তু তারা যথেস্ট চেস্টা করেছে, সেজন্যই ডেঙ্গু কমে এসেছে। আশা করি সামনে ভালো ঔষধ যথা সময়ে দেয়া হবে।’

বিজ্ঞাপন

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালিক বলেন, ‘স্প্রে যথেস্ট করার পরও যখন মশা এতো বাড়ে তখন অনেক সময় মনে হয় এই ঔষধটা মশার জন্য কার্যকর হয়নি। বা মানুষের শরীরে যেভাবে অ্যান্টিবডি ডেভলপ করেছে, মশারও তেমন অ্যান্টিবডি ডেভলপ করেছে। ডেঙ্গুতে মৃত্যুর কারণ মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেছে। এছাড়া রোগীরা হাসপাতালে দেরি করে আসছে।’

দেখা যাচ্ছে, রোগী যখন ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে তখন অনেকে মনে করছেন সর্দি জ্বর হচ্ছে। সেটা ভেবে অনেক কালক্ষেপন করা হচ্ছে, এতে রোগী সিরিয়াস হয়ে যাচ্ছে। হেমোরেজিক একটা ভাইরাসে আছে ডেঙ্গুর যা ইন্টারনাল ব্লেডিং করে, সেটা শুরু হলে রোগীকে বাঁচানো কস্ট হয়ে যায়। দেরি করে আসার কারণে অনেক রোগী মারা গেছে। ভর্তি হওয়ার তিনদিনের মধ্যে রোগী মারা গেছে ৭২ শতাংশ। যারা দীর্ঘ সমময় থাকতে পেরেছে তারা কিন্তু বেঁচে গেছে। যারা আসার তিনদিনের মধ্যে মারা গেছেন তারা সিরিয়াস কন্ডিশনে আসছে। সেদিকে সবার সচেতন থাকতে হবে, যাতে জ্বর হলে পরীক্ষাটা করে নেওয়া হয়। ডেঙ্গু হলে তাৎক্ষনিক চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক ৪ ডিসেম্বরের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৫৮ হাজার ৬১৯ জন। এরমধ্যে ঢাকায় ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৩৭ হাজার ২১৮ জন ও ঢাকার বাইরে ২১ হাজার ৪১০ জন। চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২৫৭ জন মারা গেছেন। আর গত বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিলো ২৮ হাজার ৪২৯ জন। আর মারা গেছেন ১০৫ জন।

সারাবাংলা/জেআর/ইআ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন