বিজ্ঞাপন

মেয়াদ শেষ হলেও ছাতক সিমেন্ট কারখানায় উৎপাদন পদ্ধতির উন্নয়ন হয়নি

December 9, 2022 | 12:40 pm

জোসনা জামান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট 

ঢাকা: গতি নেই ছাতক সিমেন্ট কারখানা উৎপাদন পদ্ধতি পরিবর্তন প্রকল্পে। মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়েছে ৭৭.৮০ শতাংশ। তবে আর্থিক অগ্রগতি আরও কম। অর্থাৎ শুরু থেকে গত সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৪৮৮ কোটি ৪৪ লাখ টাকা, যা মোট অনুমোদিত ব্যয়ের ৫৪.৮৩ শতাংশ। করোনা মহামারির ধাক্কা এবং ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় এ অবস্থা হয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।

বিজ্ঞাপন

এর প্রেক্ষিতে সংশোধন করা হবে ‘ছাতক সিমেন্ট কারখানা লিমিটেডের উৎপাদন পদ্ধতি ওয়েট প্রসেস থেকে ড্রাই প্রসেস এ রূপান্তর’ শীর্ষক প্রকল্পটি। গত ১৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত প্রকল্পটির স্টিয়ারিং কমিটির সভা সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকিয়া সুলতানা।

সভায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা) মো. নূরুল আমিন জানান, ছাতক সিমেন্ট কোম্পানির উৎপাদন পদ্ধতি ওয়েট প্রসেস থেকে ড্রাই প্রসেসে রূপান্তরকরণ প্রকল্পটি ৮৯০ কোটি ১০ লাখ ৭২ হাজার টাকা ব্যয় ধরা হয়। ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে বাস্তবায়নের ২০১৮ সালের ৪ নভেম্বর অনুমোদন দেয় একনেক। ২০১৮ সালের  ১১ ডিসেম্বর প্রশাসনিক অনুমোদন জারি করা হয়। প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে বিদ্যমান পুরানো অপেক্ষাকৃত কম উৎপাদনক্ষম ওয়েট প্রসেস পদ্ধতির পরিবর্তে ড্রাই প্রসেসের মাধ্যমে দৈনিক ১৫০০ মেট্রিক টন (বছরে ৪ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন) উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন একটি নতুন কারখানা স্থাপন করা। কিন্তু কোভিড-১৯ মহামারির কারণে সাধারণ ঠিকাদারের আবেদনের জন্য ব্যয় বৃদ্ধি ছাড়া প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৩ সালের মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

স্টিয়ারিং কমিটির সভায় প্রকল্প পরিচালক বলেন, ‘চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পের মোট ব্যয় হয়েছে ৪৮৮ কোটি ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা। প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি ৫৪.৮৩ শতাংশ ও বাস্তব অগ্রগতি ৭৭.৮০ শতাংশ। ৩৪টি আইটেম মালামাল প্রকল্প এলাকায় এসে পৌঁছেছে। চলতি বছরের ১৮ আগস্ট উল্লিখিত মালামালের পোস্ট ল্যান্ডিং ইনিসপেকশন (পিএলআই) শেষ করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রকল্পের এলটিকে অংশের ইকুইপমেন্ট বা মালামাল সংগ্রহের বাস্তব অগ্রগতি ৮৫.৭৯ শতাংশ। নির্মিতব্য প্ল্যান্টের সপ্তম কনসাইনমেন্টের ২৫ আইটেমের মালামাল চলতি বছরের ২৩ অক্টোবর সাঙ্গাই পোর্ট থেকে শিপমেন্ট করা হয়েছে। এই মালামাল শিগগিরই প্রকল্প এলাকায় এসে পৌঁছাবে। নির্মিতব্য কারখানার লিমিসটোন ক্রজার, রো মিল, ব্যাগ ফিল্টার, প্রি-হিটার, ক্লিনকার সিলো, কুলিং টাওয়ার ও ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, বয়লার, স্টিম টারবাইন, জেনারেটর এবং কুলিং টাওয়ারের ফাউন্ডেশন কনস্ট্রাকশন কাজ এবং সেন্ট্রাল কন্ট্রোল রুম (সিসিআর) এর নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

প্রকল্প পরিচালক আরও বলেন, ‘প্রকল্পের এলএসটিকে অংশের সিভিল কনস্ট্রাকশন কাজের বাসভবনের অগ্রগতি ৭১.৪৫ শতাংশ। এছাড়া প্রি-হিটার, ক্লিন ইউনিট, রো মিল ইউনিট, ডাস্ট ফিল্টার ইউনিট, লেমিসটোন প্রি বেলেন্ডিং বেডের স্টেকার এন্ড রিচলাইমার, নির্মিতব্য পাওয়ার প্ল্যান্টের বয়লার, কুলিং টাওয়ার এবং ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যন্টের মেকানিক্যাল ইনস্টলেশন কাজ চলমান রয়েছে। চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত প্রকল্পের এলএসটিকে অংশের ইরেকশন ও ইনস্টলেশন কাজের বাস্তব অগ্রগতি ২৬.৩২ শতাংশ।’

সভায় জানানো হয়, নির্মাণাধীন মূল প্ল্যান্টের জন্য চুনাপাথর আমদানি ও পরিবহনের জন্য ভারতের মেঘালয় রাজ্যের কমোররা লেমিসটোন মিনিং কোম্পানি লিমিটেডের (কেএলএমসি) থেকে কারখানা পর্যন্ত ১৭.৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ দৈনিক ২৫০০ মেট্রিক টন চুনাপাথর পরিবহন ক্ষমতাসম্পন্ন রোপওয়ে স্থাপন করতে হবে। ভারতীয় অংশে নতুন রোপওয়ে স্থাপনের জন্য এখন পর্যন্ত অনুমোদন পাওয়া যায়নি। তাই কাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া চুনাপাথর সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কেএলএমসি এখন পর্যন্ত মাইনিং করার পূর্ণাঙ্গ অনুমতি পায়নি। এরমধ্যে মাইনিং শুরু করার জন্য সরদার সোহবার কেএলএমসিকে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। কাশি অটোনোমাস ডিস্ট্রিক্ট  কাউন্সিল অফিস (কেএইচএডিসি) নন ফরেস্ট জোনে মাইনিংয়ের বিষয়ে কেএলএমসিকে এনওসি দিয়েছে। মাইনিং প্রক্রিয়া শুরু করার পরবর্তী ধাপের কাজ চলমান আছে। এ বিষয়ে শিগগিরই অনুমোদন পাবে বলে আশা করা যায়।

সভায় বলা হয়, সাধারণ ঠিকাদারের মাধ্যমে ভারতীয় অংশে রোপওয়ে মেরামত বা প্রতিস্থাপন কাজ দ্রুত শুরু করা প্রয়োজন। এই কাজ করার আগে ভারতের মেঘালয় রাজ্য সরকারের অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। এজন্য গত ১০ নভেম্বর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে পুনরায় অনুরোধ করা হয়েছে। ভারতীয় অংশে মেরামতের অনুমতিতে বিলম্ব ঘটলে প্রকল্প বাস্তবায়ন দেরি হবে।

বিজ্ঞাপন

প্রকল্প পরিচালক বলেন, ‘বর্তমানে অস্বাভাবিকভাবে ডলারের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। আরডিপিপি অনুমোদনের সময় প্ল্যানিং কমিশনের ২০১৮ সালের ৭ মার্চ সার্কুলার অনুযায়ী ডলার দর ছিল ৮৪ টাকা বা মার্কিন ডলার, যা বর্তমানে ১০৭ টাকা বা মার্কিন ডলারের উপরে। এতে প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে গ্যাস লাইন সংশোধন ও রোপওয়ে নির্মাণের জন্য অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন রয়েছে। গ্যাস সংযোগ এবং ডলারের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। ফলে ডিপিপি দ্বিতীয় সংশোধন প্রয়োজন হবে। জিজিটিডিসিএল হতে গ্যাস লাইনের পূর্ণাঙ্গ প্রাক্কলন ও ডিজাইন পাওয়ার দ্রুততার সঙ্গে ডিপিপি সংশোধন প্রস্তাব করা হবে।’

এ পর্যায়ে আইএমইডির প্রতিনিধি বলেন, ‘ডলারের মূল্য বৃদ্ধি বিবেচনা করে প্রকল্পের সংশোধন প্রয়োজন। এক্ষেত্রে দ্বিতীয় সংশোধন প্রস্তাব দ্রুত পাঠানো উচিত।’

সভার সভাপতি শিল্প সচিব জাকিয়া সুলতানা বলেন, ‘দ্রুত জিজিটিডিসিএল হতে গ্যাসলাইনের পূর্ণাঙ্গ প্রাক্কলন করে এবং ডলারের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি বিবেচনা করে ডিসেম্বরের মধ্যে ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) সংশোধন প্রস্তাব করতে হবে।’

সারাবাংলা/জেজে/এমও

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন