বিজ্ঞাপন

‘রাস্তার টোকাইদের নিয়ে আওয়ামী লীগ হয়নি’

January 24, 2023 | 8:08 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ‍ব্যুরো : সরকার ‘উৎখাতের’ আন্দোলনকারীদের হুঁশিয়ার করে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘তারেক রহমান লন্ডনে বসে কলকাঠি নাড়ছে। স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, আওয়ামী লীগ ভূঁইফোড় সংগঠন নয়। রাস্তার টোকাইদের নিয়ে আওয়ামী লীগ গঠিত হয়নি। আওয়ামী লীগ আমজনতার সংগঠন। বিএনপির জন্ম ক্যান্টনমেন্টে। জামাত একাত্তরের পরাজিত শক্তি। এই দুই অপশক্তির কোনো ষড়যন্ত্র কখনো সফল হবে না।’

বিজ্ঞাপন

‘চট্টগ্রাম গণহত্যা’ দিবসে মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে নগরীর আদালত ভবনের প্রবেশপথে ‘শহীদ বেদিতে’ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর এক আলোচনা সভায় আ জ ম নাছির উদ্দীন এসব কথা বলেন।

সামরিক শাসক এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি চট্টগ্রাম লালদিঘীর ময়দানে যাওয়ার পথে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহরে পুলিশ এলোপাতাড়ি গুলি চালালে নিহত হন ২৪ জন। আহত হন কমপক্ষে দু’শতাধিক মানুষ। শেখ হাসিনার প্রাণনাশের চেষ্টা হিসেবে আলোচিত ঘটনাটি ‘চট্টগ্রাম গণহত্যা’ হিসেবে পরিচিতি পায়।

বিজ্ঞাপন

এরশাদের পতনের পর ১৯৯২ সালে এই ঘটনায় মামলা দায়ের হয়। ঘটনার ৩২ বছর পর ২০২০ সালের ২০ জানুয়ারি আদালত মামলার রায় ঘোষণা করে। তবে ঘটনার নির্দেশদাতা হিসেবে আলোচিত তৎকালীন পুলিশ কমিশনার মীর্জা রকিবুল হুদা মৃত্যুবরণ করায় মামলা থেকে অব্যাহতি পান। ‘হুকুমদাতা’ কোতোয়ালী থানার তৎকালীন পেট্রল ইন্সপেক্টর পলাতক গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ হয়। একইসঙ্গে কারাগারে থাকা আরও চারজন তৎকালীন পুলিশ কনস্টেবলের প্রাণদণ্ডের আদেশ হয়। এরা হলেন- মোস্তাফিজুর রহমান, প্রদীপ বড়ুয়া, শাহ মো. আব্দুলাহ এবং মমতাজ উদ্দিন।

নগর আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় ‘গণহত্যার নির্দেশদাতা’ মীর্জা রকিবুল হুদা প্রসঙ্গে আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘এই হুদা সামরিক বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত অফিসার ছিল। স্বৈরশাসক জিয়া তাকে সিএমপির কমিশনার করেছিলেন। এই খুনি রকিবুল হুদা জিয়ার সৃষ্টি। জিয়া এদেশে সামরিক স্বৈরতন্ত্রের বীজ বপন করেছিলেন।’

বিজ্ঞাপন

সভায় নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিটি মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘যদি কোনো দলে একটি মাত্র সিংহ থাকে, তাহলে সেই দলের বিজয় নিশ্চিত। আওয়ামী লীগে আছে একজন সিংহ। তিনি শেখ হাসিনা। তাই আওয়ামী লীগকে কেউ ধাক্কা দিয়ে ফেলতে পারবে না।’

সভাপতির বক্তব্যে সহ সভাপতি ও চসিকের সাবেক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন বলেন, ‘মীরজাফররা কখনো টিকতে পারেনি। তাদের ঠাঁই হয়েছে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে। এখন যারা ইতিহাসের খলনায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে, তারাও একদিন মুছে যাবে।’

বিজ্ঞাপন

আইন বিষয়ক সম্পাদক শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরীর সঞ্চালনায় সভায় সহ সভাপতি নঈম উদ্দীন চৌধুরী, ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, জহিরুল আলম দোভাষ, সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য নোমান আল মাহমুদ, শফিক আদনান, শফিকুল ইসলাম ফারুক, চন্দন ধর, মশিউর রহমান চৌধুরী, ফয়সল ইকবাল চৌধুরী, শহিদুল আলম, জহরলাল হাজারী বক্তব্য রাখেন।

গণহত্যা দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম জেলা পিপি শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরীর নেতৃত্বে চট্টগ্রামের সরকারি আইন কর্মকর্তারা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/আরডি/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন