রবিবার ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ইং , ১২ ফাল্গুন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১৮ জমাদিউস-সানি, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

১৭ ফেব্রুয়ারি প্রতিবেদন না দিলে জোরদার আন্দোলনের ঘোষণা

ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৯ | ৩:৪০ অপরাহ্ণ

।। সিনিয়র করেসপপেন্ডেন্ট।।

ঢাকা: সাংবাদিক সাগর সারোয়ার ও তার স্ত্রী মেহেরুন রুনি হত্যার মামলায় আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি ৬৩ বারের মতো প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আদালতের কাছে সময় নিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। ওইদিন অগ্রগতিমুলক প্রতিবেদন জমা দেওয়া না হলে জোরদার আন্দোলনের আল্টিমেটাম দিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা। ওই দিনের পর সব সাংবাদিকদের নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।

সোমবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ‘ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি’ (ডিআরইউ) চত্বরে সাগর-রুনি হত্যার বিচার না হওয়ার প্রতিবাদে আয়োজিত সমাবেশে  সাংবাদিক নেতারা এ আল্টিমেটাম দেন।

ডিআরইউয়ের  সভাপতি ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘নির্বাচনি ইশতেহারে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে। তবে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে সাগর-রুনী হত্যার বিচার হওয়া জরুরি। এরই মধ্যে সাতবছর পেরিয়ে গেছে। তদন্ত সংস্থা এখনও প্রতিবেদন দিতে পারেনি। রেকর্ড পরিমাণ ৬৩ বারের মতো আদালতের কাছে সময় নিয়েছে। এবার প্রতিবেদন না দিলে বৃহত্তরও আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে। তার আগে আমরা সব সংগঠনের সঙ্গে বসে কর্মসূচি ঠিক করব। ’

বিজ্ঞাপন

ইলিয়াস হোসেন আরও বলেন, ‘সাংবাদিক সমাজের অনৈক্যের ফলে ৭ বছরেও সাগর-রুনি হত্যার বিচার পাওয়া যায়নি। আগামী ৭০ বছরেও সম্ভব হবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তবে ডিআরইউ সাগর-রুনিকে কখনো ভুলবে না। বিচারের দাবিতে সবসমময় সোচ্চার থাকবে। একজন রোগী মারা গেলে ডাক্তারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে সকল ডাক্তার চিকিৎসা-সেবা বন্ধ করে আন্দোলনে নামে, প্রকৌশলীরা তাদের আন্দোলন করে, পুলিশ তাদের দাবি ভিন্নভাবে আদায় করে। গার্মেন্টস শ্রমিকরা রাজপথে নেমে আন্দোলনের মাধ্যমে সবকিছু আদায় করে। একমাত্র আমরা সাংবাদিকরাই পারছি না একটি হত্যার বিচার দাবিতে আন্দোলনে নামতে।’

ডিআরইউয়ের সাবেক সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা বলেন, ‘সে সময়কার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটামে বিশ্বাস করেছিলাম। তা পার হয়ে যায়, ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেই, তাও পেরিয়ে যায়, খুনিরা ধরা পড়ে না। পরে তিন দফা কর্মসূচি দেওয়া হয়, মানববন্ধন হলো, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কার্যালয় ঘেরাও করেছি। এরপর কতদিন, কত বছর গেল বিচার পেলাম না, খুনিরাও ধরা পড়লো না। স্পিকার আশ্বাস দিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, কিন্তু বিচার পাইনি। তবে দেখেছি ৬৩ বার তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ পেছানোর খবর।

সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু বলেন, ‘সরকারের দায়িত্ব বিচার নিশ্চিত করা। কিন্তু ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন তারা।’

ডিআরইউ সাবেক সাধারণ সম্পাদক কুদ্দুস আফ্রাদ বলেন, ‘সরকার পারে না এমন কিছু নেই। সাগর-রুনি হত্যার বিচারে সরকার দারুণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। আমরা এই ব্যর্থতা দেখতে চাই না।’

ডিআরইউয়ের সিনিয়র সদস্য মশিউর রহমান বলেন, ‘অনেক যন্ত্রণা এই মাইক্রোফোন ধরা। আজ পর্যন্ত সবাই সাংবাদিক সমাজের সঙ্গে চিটিংবাজি করেছেন। অনশন করেছি, রাস্তায় নেমেছি, স্বরাষ্টমন্ত্রীর দরজায় আঘাত করেছি।’

সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোরসালিন নোমানী বলেন, ‘বিচারহীনতার সংস্কৃতি সাংবাদিকদেরই ভাঙতে হবে। আমরা আর মানব না। যারা তদন্ত করছেন তাদেরকে চাপ দিতে হবে।’

ডিআরইউ বহুমুখি সমবায় সমিতির কোষাধ্যক্ষ মতলু মল্লিক বলেন, ‘আমাদের এখন ধাক্কা দিতে হবে। তদন্তকারীদের ধাক্কা দিয়ে ঘুম ভাঙাতে হবে। সত্য জানতে চাই। প্রশ্নের উত্তর চাই। বিচার হয় না বলেই আমরা বলি বিচার চাই না, এটা রাষ্ট্রের লজ্জা।’

ডিআরইউয়ের প্রচার প্রকাশনা সম্পাদক শেখ মাহমুদ এ রিয়াত বলেন, ‘সাগর-রুনি হত্যার সময় যে শিশুটির বয়স ছিল পাঁচবছর, এখন সে শিশুটিও বুঝে গেছে সাগর-রুনি নামে দুই সাংবাদিক খুন হয়েছে। কিন্তু যারা তদন্ত করে তারা বোঝে না।’

ডিআরইউয়ের সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল বারী বলেন, ‘৬৩ বার যারা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে চেয়ে দেননি, তারা ব্যর্থ। ব্যর্থদের তালিকাও প্রকাশ করা দরকার। সমালোচনা করব কার? বিচার কার কাছে চাইব? আমরা ডিআরইউ নেতৃবৃন্দও ব্যর্থ, সাংবাদিক সমাজ ব্যর্থ। সাধারণ কেউ মারা গেলেও বিচার হয়, সাংবাদিক হত্যার শুধু বিচার হয় না।’

ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্র্যাব) সাংগাঠনিক সম্পাদক রাশেদ নিজাম বলেন, ‘কয়েক বছরেও একটি মামলার ক্লু বের করতে পারল না। অথচ প্রতিদিন কত মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করে র‌্যাব। সাগর-রুনির বেলায় কেন কিছু বের করতে পারছে না?’

প্রয়োজনে ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে র‌্যাবকে তদন্তের ভার ছেড়ে দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান।

ক্র্যাবের সহ-সভাপতি মিজান মালিক বলেন, ‘পারবেন না বলে দিন। তাহলে আর আমরা প্রতিবছর এভাবে রাস্তায় দাঁড়াব না। সাগর-রুনি হত্যার বিচার না হলে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের আবেদন এই সাংবাদিক দম্পতি হত্যার বিচার নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করুন।’

ডিআরইউয়ের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নূর ইসলাম হাসিব বলেন, ‘আজকের দিনটি পালন যেন সিডিউল হয়ে গেছে। আমরাও ব্যর্থ। না ইনভেস্টিগেশন করে বের করতে পেরেছি, না আন্দোলন করতে পেরেছি। এই সুযোগটাই নেওয়া হচ্ছে কি না ভেবে দেখা দরকার।’

সমাবেশে অল্প সময়ের জন্য যোগ দেয় সাগর-রুনির একমাত্র সন্তান মেঘ আর তার মামা নওশের রোমান। কিন্তু এই হত্যাকাণ্ড বা বিচার নিয়ে কোনো কথা বলেননি তারা।

পরে মেহেরুন রুনির ভাই নওশের সারাবাংলাকে বলেন, ‘মেঘ এসব অনুষ্ঠানে আসতে চায় না। সাংবাদিক নেতাদের অনুরোধে সৌজন্যতা দেখাতে এসেছি আমরা। আমাদের আর কিছু বলার নেই।’

সারাবাংলা/ইউজে/জেডএফ

১৭ ফেব্রুয়ারি প্রতিবেদন না দিলে জোরদার আন্দোলনের ঘোষণা
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন