মঙ্গলবার ২৫ জুন, ২০১৯ ইং , ১১ আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২১ শাওয়াল, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

মেয়েকে টিকিট দেননি রেলমন্ত্রী, অনুরোধ রাখছেন না পিএসও

মে ২২, ২০১৯ | ৯:০৩ পূর্বাহ্ণ

সাব্বির আহমেদ, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ঈদযাত্রার ট্রেনের টিকিট পেতে রেলমন্ত্রীকে তার নিজের মেয়েই একটি তালিকা দিয়েছিলেন, যা তিনি গ্রহণ করেননি। আর মন্ত্রীর একান্ত সচিবের (পিএস) স্ত্রীর মাধ্যমে অনুরোধ এসেছিল টিকিটের। পিএস সেটি প্রত্যাখান করেছেন। এমনকি পিএস তার অফিস কক্ষের দরজায় লিখেও রেখেছেন- ‘এখানে টিকিটের সুপারিশ করা হয় না।’

নতুন রেলপথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন আর তার একান্ত সচিব আতিকুর রহমান। দুজনই এখন টিকিট সংক্রান্ত চাপে রয়েছেন।

রেলমন্ত্রী নিজেই বললেন, ‘মন্ত্রী হিসেবে চাপ আমার উপর বেশি। কিন্তু আমাকে তো একটা সিস্টেমের ভেতর দিয়ে যেতে হবে। অনিয়মটাকে তো আর নিয়মে পরিণত করতে পারি না।’

ট্রেনে নিজে বাড়ি না গেলে টিকিট পাবেন না মন্ত্রী-এমপি-সচিবরা

বিজ্ঞাপন

মন্ত্রী জানান, তার মেয়ের কাছে টিকিটের জন্য অনেক অনুরোধ এসেছে। সে অনুযায়ি মেয়ে তার কাছে অগ্রিম টিকিট চেয়ে একটি তালিকা দিয়েছিলেন। নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, ‘আমি বলে দিয়েছি এভাবে টিকিটের কোনো সুযোগ নেই। মোবাইল অ্যাপস ব্যবহার করলে এই অনুরোধের প্রয়োজন নেই।’

এদিকে মন্ত্রীর একান্ত সচিব আতিকুর রহমানের কাছে এক নিকটাত্মীয় সিলেট যাওয়ার টিকিট চান। তিনি তাকে সকালে স্টেশনে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটার পরামর্শ দেন। এরপর ওই আত্মীয় তার স্ত্রীকে ফোন করেন। স্ত্রীও টিকিটের জন্য অনুরোধ করেন আতিকুর রহমানকে। পরে বাসায় ফিরে সেই আত্মীয়কে তার বোঝাতে হয়েছে যে এভাবে ফোন করে টিকিট জোগাড় করা অনৈতিক কাজ। এটি তার পক্ষে সম্ভব নয়।

প্রতিদিন এভাবে টিকিট দেওয়ার সুপারিশ প্রত্যাখান করতে করতে বহু বন্ধু-আত্মীয়-সহকর্মীর সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়ে গেছে বলেও জানালেন আতিকুর রহমান।

রেলপথ মন্ত্রণালয় এবার ঈদ টিকিট ঘোষণার আগেই বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোনো অনুরোধপত্র নিয়ে টিকিট দেওয়া হবে না। মন্ত্রী বলেন, ‘টিকিট ব্লকিং আর চলবে না। বাংলাদেশ রেলওয়েতে দীর্ঘদিন ধরে ভিআইপি নামে টিকিট ব্লক করে রাখা হতো। যা প্রভাবশালীরা অনুরোধপত্র দিয়ে নিতেন। এখন এটি পুরোপুরি বন্ধ করতে বলা হয়েছে, কেবলমাত্র মন্ত্রী, সচিব,  বিচারপতি, আইজিপি পদমর্যাদার কেউ নিজে যদি ট্রেনে ভ্রমণ করেন তাহলে কেবল তারা টিকিট পাবেন, অন্যথায় নয়।’

সে কারণে এবার আশা করা যাচ্ছে সাধারণ মানুষ যারা টিকিটের জন্য দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করেন তারা ঠিকমতো টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন।

বুধবার (২২ মে) সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়েছে ঈদযাত্রার ট্রেনের টিকিট বিক্রি কার্যক্রম। যাত্রীদের সুবিধা বিবেচনা করে এবার ঢাকার পাঁচটি আলাদা স্থান থেকে বিভিন্ন অঞ্চলের ট্রেনের টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে।

সারাবাংলা/এসএ/এসএমএন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন