সোমবার ৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ২৫ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১১ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রামে ‘হাতছাড়া’ বিজয় মেলার নেতৃত্বে ফের মহিউদ্দিন অনুসারীরা

নভেম্বর ৩০, ২০১৯ | ৪:৪৮ অপরাহ্ণ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: একবছর আগে হাতছাড়া হওয়া চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী ‘মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার’ নেতৃত্বে আবারও এসেছেন প্রয়াত রাজনীতিক এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারীরা। তিন দশক আগে মহিউদ্দিনসহ একাত্তরের রণাঙ্গনের যোদ্ধাদের হাত ধরে চট্টগ্রামে বিজয় মেলার যাত্রা শুরু হয়। আমৃত্যু প্রজন্মের পর প্রজন্মকে বিজয়ের মাসে মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বগাঁথা শুনিয়ে গিয়েছিলেন মহিউদ্দিন।

বিজ্ঞাপন

২০১৭ সালে মহিউদ্দিনের মৃত্যুর পর ‘মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা’ পরিষদের চেয়ারম্যান করা হয় তার ছেলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমানে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলকে। গত বছর (২০১৮) আকস্মিকভাবে নওফেলকে বাদ দিয়ে চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরীকে চেয়ারম্যান ও মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাশেমকে কার্যকরী চেয়ারম্যান করে পাল্টা কমিটি ঘোষণা করা হয়। মহাসচিব হিসেবে মহানগর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোজাফফর আহমেদ এবং নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনকে প্রধান পৃষ্ঠপোষক ঘোষণা করা হয়।

গতবার ‘পাল্টা কমিটির’ উদ্যোগে নগরীতে বিজয় মেলার আয়োজন হলেও এবার ফিরে এসেছেন মহিউদ্দিনের সঙ্গে থেকে দীর্ঘদিন ধরে মেলা আয়োজনে সম্পৃক্তরা, যাদের অধিকাংশই রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা। আর দৃশ্যপট থেকে সরে গেছেন পাল্টা কমিটির উদ্যোক্তা গতবারের মেলা আয়োজকরাও।

শনিবার (৩০ নভেম্বর) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল খালেক মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এবারের বিজয় মেলার বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা পরিষদের মহাসচিব মোহাম্মদ ইউনুছ লিখিত বক্তব্য পড়েন।

বিজ্ঞাপন

ইউনুছ জানান, ১ ডিসেম্বর মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের বিজয়মেলার সূচনা হবে। মেলার প্রধান পৃষ্ঠপোষক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি এবং নগর মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মহিউদ্দিনের সহধর্মিণী হাসিনা মহিউদ্দিন এতে বিশেষ অতিথি থাকবেন। মূলত এর মধ্য দিয়ে নগরীর আউটার স্টেডিয়ামে মাসব্যাপী পণ্যমেলার সূচনা হবে।

১০ ডিসেম্বর বিকেল তিনটায় নগরীর এম এ আজিজ স্টেডিয়াম চত্বরে বিজয় শিখা প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে সাতদিনের ‘মুক্তিযুদ্ধে স্মৃতিচারণ’ অনুষ্ঠান। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এতে প্রধান অতিথি থাকবেন। বিজয় মঞ্চে স্মৃতিচারণের পাশাপাশি প্রতিদিন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। ১৫ ডিসেম্বর এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিজয় মঞ্চে নাগরিক শোকসভা হবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু।

১৬ ডিসেম্বর সকাল ৯টায় এম এ আজিজ স্টেডিয়াম চত্বর থেকে বের হবে বিজয় র‌্যালি। এতে নেতৃত্ব দেবেন মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে বিজয় মঞ্চের কার্যক্রম এবার সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে জানিয়ে ইউনুছ বলেন, ‘আমরা মুজিববর্ষ উপলক্ষে সারাবছর বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করব। বিজয় মেলা পরিষদের উদ্যোগে এই কর্মসূচি আয়োজন করা হচ্ছে।’

উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা বদিউল আলম, জাহাঙ্গীর চৌধুরী, আবু তাহের, আহমদুর রহমান ছিদ্দিকী, মেলা পরিষদের যুগ্ম মহাসচিব চন্দন ধর ও মশিউর রহমান।

সংবাদ সম্মেলনে গতবারের পাল্টা কমিটির বিষয়ে জানতে চাইলে মোহাম্মদ ইউনুছ বলেন, ‘আমাদের মধ্যে কোনো গ্রুপিং নেই। যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ এবং শেখ হাসিনা নেতৃত্বে বিশ্বাস করে তারা প্রত্যেকে বিজয় মেলার সঙ্গে সম্পৃক্ত আছে। আর যারা জিয়া-এরশাদের পদলেহন করেছে, তারা আমাদের সঙ্গে নেই। আমরা গ্রুপিংয়ে বিশ্বাস করি না। সেজন্য মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন মহোদয় আমাদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন।’

গতবারের কমিটিতে মহাসচিবের দায়িত্ব পালনকারী মোজাফফর আহমেদ সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমি একবার মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছি। এবার আমি মেয়র সাহেবকে বলেছি, আমি একবার করেছি, আর পারব না। এবার আপনি অন্য লোক দেখেন।’

গতবারের আয়োজনে সম্পৃক্ত চট্টগ্রাম জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোহাম্মদ সাহাবউদ্দিন সারাবাংলাকে বলেন, ‘এবার আমরা বিজয় মেলার সঙ্গে নেই।’

১৯৮৯ সালে চট্টগ্রামে প্রথম মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা আয়োজন করা হয়। এরপর থেকে এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর উদ্যোগে আওয়ামী লীগ নেতা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে গঠিত ৭৪ সদস্যের কমিটি প্রতি বছর বিজয় মেলা আয়োজন করে আসছিল। পরে এই মেলা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। আমৃত্যুর বিজয় মেলা কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন মহিউদ্দিন। ওই কমিটির প্রধান উপদেষ্টা পদে ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সাব সেক্টর কমান্ডার ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/আরডি/এমআই

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন