বিজ্ঞাপন

ধর্ষণের প্রতিবাদে দিনভর স্লোগান-মিছিলে উত্তাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

January 8, 2020 | 12:59 am

মো. রাসেল সরকার, ঢাবি করেসপন্ডেন্ট

ঢাবি: রাজধানীর কুর্মিটোলায় ছাত্রী ধর্ষণের প্রতিবাদে দিনভর মানববন্ধন, বিক্ষোভ, মিছিল ও স্লোগানে উত্তাল ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাস।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) সকাল থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও সেশনের শিক্ষার্থীরা আলাদাভাবে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে।

এসব কর্মসূচি থেকে তারা ধর্ষককে দ্রুত গ্রেফতার ও সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানান। একই সঙ্গে এখন পর্যন্ত ধর্ষক গ্রেফতার না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেন আন্দোলনকারীরা।

কর্মসূচিতে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘আমার সোনার বাংলায়, ধর্ষকের ঠাই নাই’, ‘ফাঁসি ফাঁসি ফাঁসি চাই, ধর্ষকের ফাঁসি চাই’ ‘হ্যাং দ্য রেপিস্ট’, ‘ধর্ষকের চামড়া, তুলে নেব আমরা’ ইত্যাদি স্লোগানে উত্তাল থাকে দিনভর ক্যাম্পাস।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার সকাল ১০টায় ধর্ষকের সবোর্চ্চ শাস্তির দাবিতে রাজু ভাস্কর্যে মানববন্ধন করেন বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা। পরে পৃথকভাবে ক্যাম্পাসে একই দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থীরাও।

বেলা সাড়ে ১১টায় রাজু ভাস্কর্যে প্রতিবাদ কর্মসূচি থেকে ধর্ষকের প্রতীকি কুশপুতুল দাহ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী এতে অংশ নেন।

দুপুরে ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরে শিক্ষার্থীরা রাজু ভাস্কর্যে জড়ো হয়ে ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।

বিজ্ঞাপন

শিক্ষার্থীদের এই মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে ডাকসুর এজিএস সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘আমরা সুস্পষ্টভাবেই বলেছি, এই ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার করে সবোর্চ্চ শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জেগে থাকবে। সামাজিক-সাংস্কৃতিক অঙ্গণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যেমন রজনীগন্ধার মত সুগন্ধ বিলাতে পারে, তেমনি সময়ের প্রয়োজনে আমরা রক্তজবার মত ফুটে ওঠে লালরঙ হয়ে রাজপথ রাঙ্গাতে পারি।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ওয়াসিফা তাসনীম শামমা বলেন, ‘আমরা বলছি, নারীরা স্বাধীন। কিন্তু কোথায় সেই স্বাধীনতা, যেখানে আমার চলাফেরার স্বাধীনতা নেই। আমার ড্রেস, আমার পেশা, আসলে এগুলো কোনো কিছুই ম্যাটার করে না, ম্যাটার করে আমি একজন নারী, একজন মেয়ে।’

পরে ধর্ষকের সবোর্চ্চ শাস্তির দাবিতে পৃথকভাবে কর্মসূচি পালন করেছেন ২০১৪-১৫ সেশনের শিক্ষার্থীরা।

বিজ্ঞাপন

দুপুরে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে ‘সন্ত্রাসবিরোধী ছাত্র ঐক্য’র নেতাকর্মীরা।

ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ সুজন বলেন, ‘আজকে আমাদের কথা বলতে হচ্ছে এই জন্যই যে, ঘটনার প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পার হতে চললো কিন্তু এখনো প্রশাসন কাউকে গ্রেফতার করতে পারেননি অথচ ধর্ষণের সব ধরণের আলামত পাওয়া গেছে।’

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন, শামসুন নাহার হলের ভিপি শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি, নাগরিক ছাত্র ঐক্যের আহ্বায়ক সাকিব আনোয়ার ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ঢাবি শাখার সভাপতি সালমান সিদ্দিকসহ অনেকে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে সকালে ছাত্রদল ধর্ষকের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করে ক্যাম্পাসে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্মারকলিপি প্রদান করেন। সমাবেশ থেকে নেতৃবৃন্দ দোষীদের শাস্তির আওতায় আনতে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন।

পরে রাজু ভাস্কর্যের সামনে আয়োজিত সমাবেশে ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন বলেন, ‘আওয়ামী সরকার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। মা বোনদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রতিদিন কোনো না কোনো স্থানে গুম, খুন, হত্য, ধর্ষণ হচ্ছে তার কোনো সুষ্ঠু তদন্ত হচ্ছে না এবং কোনো ন্যাক্কারজনক ঘটনার বিচার হচ্ছে না তাই অপরাধীরা তাদের অপরাধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।’

বিক্ষোভ সমাবেশে ঢাবি ছাত্রদলের আহবায়ক রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসাইন শ্যামলছাড়াও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বিভিন্ন হল পর্যায়ের নেতারা।

দুপুরে রাজু ভাস্কর্যে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার না হওয়ায় আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সমালোচনাত করেন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের আহ্বায়ক আকম জামাল উদ্দিন।

মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ ধর্ষককে গ্রেফতারের জন্য ২৪ ঘণ্টার সময় বেধে দেন সরকারকে। তা না হলে বুধবার সারাদেশে সকল সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোতে বিক্ষোভ কর্মসূচি দেওয়ার আহ্বান জানান।

ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে টিএসসিতে একই সময় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন টিএসসিভিত্তিক সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্য সংসদের সাধারণ সম্পাদক প্রীতম চক্রবর্তী বলেন, ‘আজকে যদি ধর্ষণের আগের ঘটনাগুলোর বিচার হত তাহলে এই ঘটনা ঘটত না। কারণ ধর্ষকরা দেখছে তারা বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে। তাই তাদেরকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়ে সাধধান করে দিতে হবে।’

ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে সকাল থেকে রাজু ভাষ্কর্য থেকে রোকেয়া হল পর্যন্ত অঙ্কন করা হয় প্রতিবাদী আলপনা। ছাত্রলীগের উদ্যোগে চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা ছাড়াও সাধারণ শিক্ষার্থীরা সেখানে অংশ নেয়। রাজু ভাস্কর্যে চার শিক্ষার্থী তাদের অনশন অব্যাহত রেখেছেন। ছাত্র ইউনিয়ন রাজু ভাস্কর্যের স্থাপনার মুখ কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে রেখে প্রতীকী প্রতিবাদ জানিয়েছে।

বিকেল থেকে টিএসসিতে ডাকসুর উদ্যোগে শুরু হয়েছে ‘নিপীড়ন বিরোধী ডাকসু মঞ্চ’ থেকে গানে গানে সাংস্কৃতিক প্রতিবাদ। ধর্ষণের বিচার না হওয়া পর্যন্ত এই মঞ্চ থেকে ধারাবাহিক সাংস্কৃতিক প্রতিবাদ চলবে বলে জানানো হয়।

সারাবাংলা/আরএস/ এমআই

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন