বিজ্ঞাপন

মাশুলে ছাড় দিচ্ছে না শিপিং এজেন্ট, বন্দরের দ্বারস্থ বিজিএমইএ

April 30, 2020 | 9:44 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে সৃষ্ট সংকটময় পরিস্থিতিতে জাহাজ মালিক ও তাদের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে অতিরিক্ত মাশুল (ডেমারেজ) মওকুফ না পেয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের দ্বারস্থ হয়েছেন তৈরি পোশাক শিল্প মালিকরা। তবে বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, এ বিষয়ে তাদের কিছুই করার নেই।

বিজ্ঞাপন

সময়মতো পণ্য খালাসে করতে না পারায় দেশীয় আমদানিকারকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত মাশুল (ডেমারেজ) আদায় অব্যাহত রেখেছে বিদেশি জাহাজের স্থানীয় প্রতিনিধিরা। নৌ পরিবহন অধিদপ্তর থেকে অতিরিক্ত মাশুল মওকুফের সুপারিশ করা হয়েছে। আগামী ৪ মে’র মধ্যে আমদানি পণ্য খালাস নিলে ভাড়া শতভাগ মওকুফ করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সংকটময় পরিস্থিতিতের ছাড় দিতে রাজি নন স্থানীয় শিপিং এজেন্টরা। এর ফলে বিপুল অংকের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ার কথা বলছেন দেশের ব্যবসায়ী বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্প মালিকরা।

বিজিএমইএ’র চিঠি পাওয়ার কথা জানিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মো. ওমর ফারুক সারাবাংলাকে বলেন, ‘আসলে এ বিষয়ে বন্দরের তেমন কিছু করার নেই। আমরা অনুরোধ করতে পারি। আমদানিকারকরা চাইলে শিপিং এজেন্টদের সঙ্গে ওয়ান টু ওয়ান আলোচনা করে ডেমারেজ মওকুফ করাতে পারেন। শিপিং এজেন্টরা তখন তাদের প্রিন্সিপ্যাল অর্থাৎ শিপ ওনারদের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নিতে পারবেন।’

বিজ্ঞাপন

গত ২২ এপ্রিল নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর সৈয়দ আরিফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সার্কুলারে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে গত ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার, যা আগামী ৫ মে পর্যন্ত চলবে। এ অবস্থায় পরিবহন চলাচল বন্ধ থাকায় বন্দর থেকে পণ্য খালাস করতে পারেনি ব্যবসায়ীরা। বিশ্বের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আমদানি-রফতানি পণ্যের কনটেইনারে অতিরিক্ত মাশুল আদায় না করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

কিন্তু শিপিং এজেন্টরা নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের সার্কুলার অনুসরণ না করার অভিযোগ করে এ বিষয়ে নির্দেশনা চেয়ে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়েছেন তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র প্রথম সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আবদুস সালাম। সেখানে তিনি নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের নির্দেশনা মেনে শিপিং এজেন্টগুলোকে অতিরিক্ত মাশুল আদায় বন্ধে বন্দরের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন এবং এরইমধ্যে আদায় করা অর্থ ফেরতেরও দাবি করেছেন।

বিজ্ঞাপন

বিজিএমইএ’র প্রথম সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আবদুস সালাম সারাবাংলাকে বলেন, ‘তিন থেকে পাঁচদিনের মধ্যে কনটেইনার ডেলিভারি না নিলে শিপিং এজেন্টরা খুব উচ্চহারে ডেমারেজ চার্জ করে। এমনও হয় যে, একেকটি কনটেইনারে প্রতিদিন দুই হাজার ডলার পর্যন্ত ডেমারেজ আসে। আমরা একটা সংকটময় পরিস্থিতি পার করছি। শিপিং এজেন্টদের কয়েকজন কিন্তু ডেমারেজ মওকুফ করেছে। তারা আমাকে ওয়ান টু ওয়ান আবেদন করে মওকুফের কথা বলেছে। আমরা সেটা চাই না। আমরা চাই ওভারঅল মওকুফের ঘোষণাটা আসুক। কারণ আমরা বিজনেস করছি, তারাও বিজনেস করছে। সংকটে একজনের পাশে তো আরেকজনকে দাঁড়াতে হবে। চট্টগ্রাম বন্দর যদি ডেমারেজ মওকুফ করতে পারে, শিপিং কোম্পানিগুলো পারবে না কেন?’

নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের সার্কুলারের বিষয়টি বিদেশি শিপিং লাইন মালিকদের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান আহসানুল হক। তিনি বলেন, ‘শিপিং লাইন মালিকরা মওকুফ না করলে এখানে বাংলাদেশের কিছু করার নেই। শিপিং এজেন্টরাও চাইলে কিছু করতে পারবেন না।’

বিজ্ঞাপন

এর আগে, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ২৭ মার্চ থেকে ৪ মে পর্যন্ত ‘লকডাউন’ পরিস্থিতিতে আমদানি কনটেইনার খালাস নিলে সব ধরনের ভাড়া শতভাগ মওকুফের ঘোষণা দেয়।

গত ২৭ এপ্রিল এ সংক্রান্ত জারি করা আদেশে বলা হয়েছে, ৪ মে পর্যন্ত সব ধরনের আমদানিকারক এ সুযোগ পাবেন। এ ছাড়া যারা ডেমারেজ দিয়ে পণ্য নিয়ে গেছে তারা রিফান্ড শাখায় আবেদন করলে টাকা ফেরত পাবেন।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/আরডি/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন