বৃহস্পতিবার ২৫ এপ্রিল, ২০১৯ ইং , ১২ বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৮ শাবান, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

জনসমুদ্রে জাতির সহযোগিতা চাইবেন শেখ হাসিনা

মার্চ ৬, ২০১৮ | ৮:৪৮ অপরাহ্ণ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আগামীকাল ৭ মার্চ জনতার সমুদ্রে দাঁড়িয়ে জাতির কাছে মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের চেতনাকে সুসংহত করতে সহযোগিতা চাইবেন শেখ হাসিনা।
মঙ্গলবার (৬ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। আগামীকাল দুপুর ২টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে জনসভার আয়োজন করছে আওয়ামী লীগ। এতে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এদিন সভাস্থল পরিদর্শন করেন ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু কি বলবেন সেটা কিন্তু তিনি ছাড়া আর কেউ জানতেন না। বিশ্ব ইতিহাসে অনেক বিখ্যাত ভাষণ আছে। আব্রাহাম লিংকনের ভাষণও কিন্তু লিখিত ছিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণ ছিল একেবারেই ব্যতিক্রম। এটাই ছিল আমাদের স্বাধীনতার ঘোষণা। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আমাদের রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিজয় হয়েছে। ৭ মার্চের ভাষণে দুইটি আহ্বান ছিল। একটা হচ্ছে মুক্তির সংগ্রাম, আরেকটা হচ্ছে স্বাধীনতার সংগ্রাম। আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে। সেই ৭ মার্চের আহ্বানের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে মুক্তির সংগ্রামে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ১৯ মিনিটের ঐতিহাসিক ভাষণ ইউনেস্কো স্বীকৃতি দেওয়ার পর ৭ মার্চের নতুন উচ্চতা নিয়ে এবার এই দিবসটি ভিন্ন মাত্রায় উদযাপন হবে। মূল লক্ষ্য হচ্ছে, ৭ মার্চের চেতনাকে তৃণমূলে ছড়িয়ে দেওয়া। আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা ৭ মার্চের এই নতুন তাৎপর্য ও ব্যঞ্জনা নিয়ে বক্তব্য রাখবেন এবং ৭ মার্চের চেতনা তৃণমূলে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানাবেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশে যে উন্নয়ন হয়েছে, অর্জন হয়েছে- তাও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে থাকবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ৭১’র পরাজতি শক্তি ও তাদের দোসর এখনো বাংলার মাটি থেকে নির্মূল হয়নি। এখনো সাম্প্রদায়িকতার বিষবৃক্ষ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের পথে বিজয়কে সংহত করার পথে অন্তরায় সৃষ্টি করছে। তিনি এই অন্তরায় দূর করতে- এই বৃষবৃক্ষকে উৎপাটন করতে বাংলাদেশের স্বাধীনতাপ্রিয়-গণতন্ত্রপ্রিয় দেশবাসীকে আহ্বান জানাবেন, বলেন ওবায়দুল কাদের।
“আমরা প্রত্যাশা করছি, আগামী জাতীয় নির্বাচন বিজয়ের মাসে অনুষ্ঠত হবে। ওই নির্বাচনে যাতে মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্রের স্বপক্ষের শক্তির বিজয়ী হয়।”

প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ শেষ হওয়ার আগেই জনগণ মাঠ ত্যাগ করে বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, এসব কথা বিএনপি’র ফখরুল সাহেব, জ্যোতিষী মানুষ, তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন। তারা এসব ভালো বলেন।
সভায় প্রত্যাশিত লোকসমাগম প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমরা শুধু এইটুকু বলতে পারি, বিশ্বস্বীকৃতির পর এবার জনগণের মধ্যে প্রবল একটা আগ্রহের ঢেউ পরিলক্ষিত হচ্ছে সারাদেশে। কাজেই এবারের জনসভায় ঢাকার আশপাশের সব নদীর ঢেউগুলো জনস্রোত হয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমুদ্রে মিশে যাবে।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, একেএম এনামুল হক শামীম, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, কার্যনির্বাহী সদস্য মির্জা আজম, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণ ও উত্তরের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ ও সাদেক খান উপস্থিত ছিলেন।

সারাবাংলা/এনআর/এটি

জনসমুদ্রে জাতির সহযোগিতা চাইবেন শেখ হাসিনা
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন