বিজ্ঞাপন

মানবতাবিরোধী অপরাধে নোয়াখালীর ৪ পলাতক আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ

August 12, 2020 | 3:56 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাট থানার পলাতক চার আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত সম্পন্ন করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (১২ আগস্ট) রাজধানীর ধানমন্ডিতে তদন্ত সংস্থার প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক মো. আবদুল হান্নান খান ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করেন।

এটি তদন্ত সংস্থার ৭৮তম তদন্ত প্রতিবেদন। আসামিরা পলাতক থাকায় তদন্ত প্রতিবেদনে আসামিদের নাম ও ছবি প্রকাশ করা হয়নি।

চার আসামির বিরুদ্ধে আটক, অপহরণ ও নির্যাতনের পর ১১ জনকে হত্যায় তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

শিগগিরই এ তদন্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন বরাবর দাখিল করা হবে বলেও জানিয়েছেন সংস্থাটির প্রধান।

আসামিদের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ১২ নভেম্বর তদন্ত শুরু হয়ে আজ (১২ আগস্ট) শেষ হয়। এসময় ৭০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ২৮ জনকে সাক্ষি হিসেবে গ্রহণ করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে ১২ ধরণের ১১৪ পৃষ্ঠার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহসহ চারটি ভলিয়মে ২২২ পাতার তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়। মামলাটি তদন্ত করেন সংস্থাটির তদন্ত কর্মকর্তা মো. শাহজাহান কবীর।

প্রতিবেদনে আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় হিসেবে বলা হয়েছে, ওই চার আসামির মধ্যে একজন ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় নোয়াখালী জেলা ছাত্র সংঘের নেতৃত্বে ছিলেন। অপর তিন আসামি থানা ছাত্র সংঘের নেতা হিসেবে রাজাকার বাহিনীতে যোগদান করেন। পরবর্তী সময়ে তিন আসামি জামায়েত ইসলামের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। আর একজন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বিজ্ঞাপন

আসামিদের বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগ হলো-

১৯৭১ সালের ৪ সেপ্টেম্বর বেলা অনুমান ১৩ ঘটিকার সময় সালেহ আহম্মেদ মজুমদার, আমান উল্যাহ্ ফারুক, আব্দুর রব বাবু, আক্তারুজ্জামান লাতু, ইসমাঈল হোসেন, মোস্তফা কামাল ভুলু সহ ১৫-২০ জন মুক্তিযোদ্ধা কোম্পানীগঞ্জ থানাধীন পাকিস্তান বাজারে (বর্তমানে বাংলা বাজার) অপারেশন শেষ করে বাঞ্ছারাম নামক স্থানে ১৫ নং সুইস গেইট সংলগ্ন এলাকায় এসে সহযোদ্ধাদের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। এসময় বসুরহাট ও চাপরাশির হাট রাজাকার ক্যাম্প হতে আসামিদের নেতৃত্বে ১০০-১২০ জন সশস্ত্র রাজাকার ও পাকিস্তানি আর্মি তাদের ওপর অতর্কিত হামলায় চালায়। রাজাকারদের অতর্কিত হামলায় তারা গুরুতর আহত হয়ে সুইস গেইট সংলগ্ন টংঘর ও ধানক্ষেতে আশ্রয় নেয়। রাজাকারেরা টংঘর ও ধানক্ষেতে লুকিয়ে থাকা নিরস্ত্র মুক্তিযোদ্ধাদের খুঁজে বের করে গুলি করলে সালেহ্ আহম্মেদ মজুমদার, মোস্তাফা কামাল ভুলু, আমান উল্যাহ্ ফারুক, ইসমাঈল হোসেন, আক্তারুজ্জামান লাতু, আব্দুর রব বাবু ও পথচারী গোলাম মাওলাসহ অজ্ঞাত আরও দুজন মৃত্যুবরণ করেন। পরে সকলের লাশ পাওয়া যায়।

১৯৭১ সালের ৬ অক্টোবর সকাল অনুমান ১০টার সময় আসামিরাসহ ২০-২৫ জন সশস্ত্র রাজাকার কোম্পানীগঞ্জ থানাধীন চরফকিরা গ্রামের ইউসুফ মিয়াকে তার বাড়ি থেকে অপহরণ করে চাপরাশির হাট রাজাকার ক্যাম্পে নিয়ে যায়। ওই দিন বেলা অনুমান ২টার সময় একই আসামিরা চাপরাশির হাট দক্ষিণ বাজার থেকে হাবিবুর রহমানকেও অপহরণ করে রাজাকার ক্যাম্পে নিয়ে যায়। আসামিরা তাদের ক্যাম্পে আটক রেখে অমানুসিক নির্যাতন করে।

পরের দিন ভোর রাতে আসামিরা ইউসুফ মিয়া ও হাবিবুর রহমানকে ১৯ নং সুইস গেইটে নিয়ে গুলি করে। গুলির আঘাতে ইউসুফ মিয়া ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করলেও হাবিবুর রহমান গুলিবিদ্ধ অবস্থায় খালের পানিতে ঝাপিয়ে পড়ে জীবন রক্ষা করেন। অলৌকিকভাবে বেঁচে গিয়ে তিনি দুদিন পর বাড়ি ফিরে আসেন। শহীদ ইউসুফ মিয়ার লাশ পাওয়া যায়নি।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর বেলা দুপুর ২টার সময় আসামিদের নেতৃত্বে ১৫-২০ সশস্ত্র রাজাকার স্বনামধন্য চিকিৎসক রমেশচন্দ্র ভৌমিককে নোয়াখালী জেলার তৎকালীন সুধারাম (বর্তমানে কবিরহাট থানা) থানাধীন রামেশ্বরপুর গ্রামের নিজ বাড়ির সামনের রাস্তা থেকে অপহরণ করে চাপরাশির হাট রাজাকার ক্যাম্পে নিয়ে যায়। রাজাকারেরা ডাক্তার রমেশচন্দ্র ভৌমিককে ক্যাম্পে আটক রেখে অমানুসিক নির্যাতন করে। আসামিরা পরের দিন ভোর রাতে রমেশচন্দ্র ভৌমিককে কবিরহাট থানাধীন ১৯ নং সুইস গেইটে নিয়ে গুলি করে হত্যার পর লাশ খালের পানিতে ফেলে রাখে। শহীদ রমেশচন্দ্র ভৌমিকের লাশ পাওয়া যায়।

সারাবাংলা/এজেডকে/এমআই

Tags: , , ,

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন