বিজ্ঞাপন

তিন গুণীজনের হাতে চিন্তাসূত্র সাহিত্য পুরস্কার

January 23, 2022 | 2:56 pm

সারাবাংলা ডেস্ক

ঢাকা: চিন্তাসূত্র সাহিত্য পুরস্কার-২০২১ প্রদান করা হলো। তিন ক্যাটাগরিতে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন, প্রবন্ধে অনীক মাহমুদ, কবিতায় মাহমুদ কামাল ও কথাসাহিত্যে রুম মোদক।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (২১ জানুয়ারি) গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গোসিংগা ইউনিয়নের কর্ণপুর গ্রামে ‘ইনশা অ্যাগ্র অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারে’ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মনোনীতদের হাতে পুরস্কারের ক্রেস্ট, সম্মাননা সনদ, উত্তরীয় ও নগদ অর্থ তুলে দেন প্রধান অতিথি কবি-প্রাবন্ধিক-গীতিকার-মুক্তিযোদ্ধা আবিদ আনোয়ার।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট গবেষক বিলু কবির। অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন শ্রীপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সামসুল আলম প্রধান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন চিন্তাসূত্র সাহিত্য পুরস্কার-২০২১-এর সদস্য সচিব ও নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ইসরাফিল হোসেন। সঞ্চালনা করেন কথাসাহিত্যিক ও নর্দান বিশ্বদ্যিালয়ের শিক্ষক শারমিন সুলতানা তন্বী ও আবৃত্তিকার ইকবাল আহমেদ নিশাত।

বিজ্ঞাপন

সভাপতির বক্তব্যে বিলু কবির তার বক্তব্যে বলেন, এত সুশৃঙ্খল অনুষ্ঠান খুব কম দেখেছি। আর পুরস্কারজয়ীদের প্রত্যেকেই যোগ্য। এমন নির্মোহ-নিরপেক্ষভাবে পুরস্কারজয়ীদের নির্বাচিত করার জন্য চিন্তাসূত্র সম্পাদক ও পুরস্কার কমিটির আহ্বায়ক ড. রকিবুল হাসান, সদস্য সচিব ইসরাফিল হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবিদ আনোয়ার তার বক্তব্যে বলেন, ‘‘আজ ‘ব্র্যাক ব্যাংক সমকাল সাহিত্য পুরস্কার’ প্রদান অনুষ্ঠানও ছিল ঢাকায়। ওই পুরস্কারের জুরি বোর্ডের আমিও একজন সদস্য। আয়োজকরা ওই অনুষ্ঠানে আমাকেও থাকার আমন্ত্রণা জানিয়েছেন। কিন্তু আমি তাদের সেখানে যাইনি। এসেছি এখানে। এখানে আসার কারণ আছে। আমার ওপর সৈয়দ আলী আহসান, শওকত ওসমান, শামসুর রাহমান, ড. হুমায়ুন আজাদসহ অনেকেই লিখেছেন। সেই লেখার কথা কেউ বলে না। অনেকেই সেই সব লেখার বিষয়ও ভুলে গেছেন। এছাড়া বর্তমান কালের লেখকরাও আমাকে তেমন চেনেন না। তবে, মোহাম্মদ নূরুল হক আমাদের নিয়ে একটা প্রবন্ধ লিখেছেন। এরপর তরুণ প্রজন্ম ওই প্রবন্ধের সূত্র ধরে নতুন করে আমাকে চিনতে শুরু করেছে। এমনকি অনেকেই আমার সম্পর্কে লিখতে গেলে কিংবা বলতে গেলে মোহাম্মদ নূরুল হকের প্রবন্ধের প্রসঙ্গে টানেন। বিষয়টি আমাকে মুগ্ধ করেছে।’

বিজ্ঞাপন

আবিদ আনোয়ার বলেন, ‘যখন চিন্তাসূত্রের সম্পাদক, পুরস্কার কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. রকিবুল হাসান ও সদস্য সচিব ইসরাফিল হোসেনে আমাকে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার অনুরোধ করলেন, আমি এতটাই আপ্লুত হয়েছি যে, তাদের না করতে পারিনি। এই কারণে ঢাকার ‘ব্র্যাক ব্যাংক সমকাল সাহিত্য পুরস্কার’ অনুষ্ঠান না গিয়ে চিন্তাসূত্র সাহিত্য পুরস্কার অনুষ্ঠানে এসেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজকের পুরস্কারপ্রাপ্ত তিন জনই যোগ্য। পুরস্কার কমিটির নির্মোহ-নিরপেক্ষ বিবেচনার কারণেই এমন যোগ্যদের পুরস্কৃত করা সম্ভব হয়েছে। আমার হাত দিয়ে তাদের পুরস্কৃত করতে পেরে নিজেও গর্ববোধ করছি।’

বিজ্ঞাপন

তিন গুণীজনের হাতে চিন্তাসূত্র সাহিত্য পুরস্কার

পুরস্কার গ্রহণের পর অনুভূতি প্রকাশ পর্বে ড. অনীক মাহমুদ বলেন, ‘জীবনে অনেক পুরস্কার পেয়েছি। অনেক পুরস্কার সম্পর্কে নানা কথা শুনেছি। কিন্তু চিন্তাসূত্র পুরস্কার সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। এখানে কোনো তদবির, সুপারিশের কোনো গুরুত্ব নেই। এই কমিটির আহ্বায়ন ড. রকিবুল হাসান ও সদস্য সচিব ইসরাফিল হোসেন যখন আমাকে পুরস্কারের বিষয়টি জানালেন, তখন আমি অনেকটাই বিস্মিত হয়েছি। ইসরাফিল হোসেনকে আমি কখনোই চিনতাম না। ড. রকিবুল হাসান ছাড়া কারও সঙ্গে আমার কোনো পরিচয়ই ছিল না। অথচ তারা আমাকে পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছেন। আর ওয়েবম্যাগ চিন্তাসূত্র ইতোমধ্যেই দেশের প্রধান অনলাইন সাহিত্য পত্রিকা হিসেবে সবার হৃদয়ে ঠাঁই করে নিয়েছে। সব মিলিয়ে এই পুরস্কারটি আমার কাছে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। সে কারণে আমি মনে করি, এই পুরস্কার দিয়ে আপনারা আমাকে যেমন মূল্যায়ন করেছেন, তেমনি আমিও গর্ববোধ করছি।’

বিজ্ঞাপন

অনুভূতি প্রকাশ পর্বে মাহমুদ কামাল বলেন, ‘আমিও জীবনে অনেক পুরস্কার-পদক পেয়েছি। কিন্তু চিন্তাসূত্র পুরস্কার একদমই আলাদা। চিন্তাসূত্রের সম্পাদক অধ্যাপক ড. রকিবুল হাসান আমার বহুবার দেখা হয়েছে। কিন্তু পুরস্কার কমিটির সদস্য সচিব ইসরাফিল হোসেনের সঙ্গে কখনোই দেখা হয়নি। এছাড়া কমিটির আর কারও সঙ্গেই আমার কখনো দেখা হয়নি। অনেকের সঙ্গে পরিচয়ও নেই। অথচ তারা আমাকে কবিতায় পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছেন। এজন্য ড. রকিবুল হাসান, ইসরাফিল হোসেনসহ সবাই ধন্যবাদ জানাই। আর একটি কথা। এই পুরস্কার ও চিন্তাসূত্র ওয়েবম্যাগ, এসব ঘটনার নেপথ্যে যে মানুষ রয়েছেন, তাকে মঞ্চে কিংবা মঞ্চের আশেপাশে কোথাও দেখা যায় না। হয়তো কোথায় চুপচাপ আছেন। আমি দেখতে পাচ্ছি না। তিনি মোহাম্মদ নূরুল হক। তার সঙ্গে আমার কখনোই দেখা হয়নি। তাদের সবাইকে ধন্যবাদ।’

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে রুমা মোদক বলেন, ‘আজকাল পুরস্কার নিয়ে নানা কথা হয়। পরিচয় দরকার হয়। তদবির দরকার নেই। কিন্তু চিন্তাসূত্র পুরস্কারে এসবের যে কিছুই দরকার হয় না, তার প্রমাণ ইতোমধ্যেই পাওয়া গেছে। ড. রকিবুল হাসান যখন আমাকে ফোন করে এই পুরস্কারের সম্মতি জানানোর বিষয়ে জানালেন, আমি অবাক হলাম। কারণ তাঁকে আমি চিনি না। তার সঙ্গে কখনো আমার পরিচয় হয়নি, দেখা হয়নি। এছাড়া মোহাম্মদ নূরুল হক ছাড়া এই পুরস্কারের সঙ্গে যুক্ত কারও সঙ্গে আমার কোনো যোগাযোগ বা পরিচয় ছিল না। তবে, চিন্তাসূত্র যে দেশের প্রধান অনলাইন সাহিত্য পত্রিকা, সে তথ্য জানা ছিল। তাই এ্ই পুরস্কারপ্রাপ্তিতে আমি খুবই গর্ববোধ করছি। পুরস্কারপ্রাপ্তির মধ্য দিয়ে লেখক হিসেবে আমার দায়িত্ব বেড়ে গেলে কয়েকগুণ।’

সারাবাংলা/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন