শনিবার ১৯ অক্টোবর, ২০১৯ ইং , ৩ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৯ সফর, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

সিকিমের দিন-রাত্রি: শেষ পর্ব; ভ্রমণ খরচ

জুলাই ২২, ২০১৯ | ১২:১৬ অপরাহ্ণ

দিন- ৫; রাত ৬ (১৬ই এপ্রিল)

বিজ্ঞাপন

সকাল ৬ টায় আমরা গাড়িতে উঠে বসি। জাইলো গাড়ি, খুবই আরামদায়ক। গ্যাংটকে আসার দিনের অভিজ্ঞতার আলোকে আমরা ধরে নেই, র‍্যাংপো পৌঁছাতে আমাদের হয়তো ৮/ ৮.৩০ টা বাজবে। কিন্তু আমাদের অবাক করে দিয়ে ঠিক ৭.১৫ তে গাড়ি র‍্যাংপো পৌঁছে যায়।

রাস্তার উল্টো পাশে একটি চেকপোষ্ট দেখিয়ে ড্রাইভার বললেন, ওখানে গিয়ে আমাদের প্রস্থানের (এক্সিট) সীল নিতে হবে। অফিসের ভেতরে ঢুকে দেখি আমাদের মতো আরো কয়েকজন। তারা অবশ্য অন্য দেশের। তারা অনুমতিপত্রের কপি জমা দিয়ে পাসপোর্টে প্রবেশের সীলের ভেতরেই প্রস্থানের তারিখ লিখিয়ে নিচ্ছেন। আমরাও সেভাবে কাজ করে ফেলি।

আরো পড়ুন: সিকিমের দিন-রাত্রি: ১ম পর্ব

বিজ্ঞাপন

শিলিগুড়িতে ফেরত আসি ৯ টা নাগাদ। গ্যাংটক যাবার সময় আমরা অনেক কিছু দেখা হয়নি। এবার সেগুলো চোখে পড়লো। পাহাড়ের বাঁকে বাঁকে গাড়ী চালকদের জন্যে দারুণ কিছু লেখা দেখলাম-

1. Be gentle on my Curves Baby
2. This is Valley not a Rally
3. Death is not only Costly for US, it is costly for you and your family too

এখানে সকালের নাস্তা করে আমরা বিধান মার্কেটে যাই। অযথা বেশ কিছুটা সময় নষ্ট করে কিছু না কিনেই আমরা আবার বর্ডারে আসি ৩.৩০ টা নাগাদ। দুই পাশে খরচ এবং অন্যান্য পদ্ধতি একইরকম। আশ্চর্যজনক ব্যাপার হলো, এখানে ফেরত আসার সময়ও পোর্ট ট্যাক্স নিচ্ছে। কারণ জিজ্ঞেস করলে বলা হচ্ছে, এটা পোর্টের নিয়ম। ব্যাগ বা লাগেজ চেক করা হচ্ছে না তেমন।

আরো পড়ুন: সিকিমের দিন-রাত্রি: ২য় পর্ব; লাচুংয়ের পথে

এবার ঢাকায় ফেরার পালা। আমাদের বাহন আবারও ট্রেন। ট্রেন থেকে নেমে লোকাল বাসে পঞ্ছগড়ে ফিরি। হোটেলে ভরপেট খেয়ে আমরা আবার স্টেশনে চলে আসি। ট্রেন রাত ৯ টায় ছাড়লো। পরদিন সকাল ৯.৩০ টায় আমরা যে যার বাসায়।

এবার আসি খরচের বিষয়ে

ট্রেন (স্নিগ্ধা)- ১০০০ টাকা (জনপ্রতি)
মাইক্রো ভাড়া- ১২০০ টাকা
দুই বর্ডারে স্পীড মানি- ৪৫০ টাকা (জনপ্রতি)
ট্রাভেল ট্যাক্স আর পোর্ট ট্যাক্স- ৬০০ + ১০ টাকা
শিলিগুড়ি টোটোতে- ২৫০ রূপি
শিলিগুড়ি টু গ্যাংটক টাটা সুমো- ২৭০০ রূপি
হোটেল ভাড়া- ১৬০০ রূপি এক রাত
লাচুং ইয়ুম্থাং প্যাকেজ- ১৩৫০০ রূপি (খাবারসহ সবকিছু)
সাঙ্গু প্যাকেজ- ৫০০০ রূপি (আমাদের জনপ্রতি ৮৩৪ রূপি লেগেছে)
বাকী দুই দিনের হোটেল ভাড়া- ৩২০০ রূপি
গ্যাংটক টু শিলিগুড়ি- ৩২০০ রূপি
বর্ডারে আবার জনপ্রতি- ৪৫০+পোর্ট ট্যাক্স ৫০
বাংলাবান্ধা টু পঞ্চগড়- ৭০ টাকা (জনপ্রতি)
ট্রেন ভাড়া- ১০০০ টাকা (জনপ্রতি)

খাবারসহ সব মিলিয়ে জনপ্রতি খরচ হয়েছে ৯,৫০০ টাকা।

সিকিমে এয়ারটেন বা ভোডাফোন যেকোনো সিম নিয়ে গেলেই নেটওয়ার্ক পাবেন। কিছু জায়গায় ভোডাফোনের চেয়ে এয়ারটেল ভালো কাজ করে। আবার কিছু জায়গায় ভোডাফোন ভালো।

আরো পড়ুন: সিকিমের দিন-রাত্রি: পর্ব-৩; সাঙ্গু ও কাটাওয়ের পথে

আর সাঙ্গু যাবার পথে গ্যাংটক থেকে বের হয়ে ১৫ – ২০ মিনিট যাবার পর কোনো নেটওয়ার্কই কাজ করে না। আর সাঙ্গু, কাটাও, ইয়ুম্থাং এসব এলাকায়ও নেটওয়ার্ক থাকে না।

সিকিম খুবই পরিষ্কার জায়গা। সেখানে অনেক জায়গায় প্লাস্টিকও ব্যবহার করা যায় না। এজন্য পানির বোতল নিতে দেওয়া হয় না। যেখানে-সেখানে থুতু ফেলবেন না। চেষ্টা করবেন পরিবেশ ভালো রাখতে।

 

লেখক- ফিরোজ খান তুষার, পর্যটক

সারাবাংলা/টিসি

বিজ্ঞাপন

Tags: , , , ,

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন