সোমবার ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং , ৮ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৩ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

উত্তরা-মতিঝিল রুটে বিআরটিসির বাসে গুনতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া

আগস্ট ২২, ২০১৯ | ৯:০৯ পূর্বাহ্ণ

সাব্বির আহমেদ, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: প্রায় মাসখানেক ধরে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) নতুন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) বাস নামানো হয়েছে উত্তরা থেকে বাড্ডা-রামপুরা হয়েছে মতিঝিল পর্যন্ত। বাসগুলো বিআরটিসি’র নিয়ম বহির্ভূতভাবে বহিরাগত লোক দিয়ে পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে যাত্রীদের নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে গুনতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া।

বিজ্ঞাপন

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রগতি স্বরণী বসুন্ধরা গেট থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মাত্র ১১ কিলোমিটারে জনপ্রতি ৬০ টাকা ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। আবার উত্তরা থেকে মতিঝিল ৭০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বিমানবন্দর মোড় বা খিলক্ষেত থেকে উঠলে ১০০ টাকা দিয়ে টিকিট কাটতে হয়। আবার নতুন বাজার বা রামপুরা থেকে উঠলে ৬০ টাকা দিয়ে টিকিট কাটতে হয়।

বিআরটিসির প্রধান কার্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নতুন ভারতীয় বাস নামানোর আগে একটি কমিটি গঠন করে এসি বাসের ভাড়া ঠিক করা হয়েছিল। ওই কমিটির একজন সদস্য জানান, প্রতি কিলোমিটারে এসি বাসের ভাড়া ৩ টাকা ২৫ পয়সা ঠিক করা হয়।

সে অনুযায়ী, প্রগতি সরণী বসুন্ধরা গেট থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ১১ কিলোমিটারে এসি বাসের ভাড়া ৩৫ টাকা ৭৫ পয়সা। সেখানে প্রতি টিকিটে ২৫ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। আবার উত্তরা থেকে মতিঝিল বাড্ডা হয়ে ২০ কিলোমিটারে নিয়ম অনুযায়ী ভাড়া আসে ৬৫ টাকা। সেখান যাত্রী প্রতি ৭০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

তবে যাত্রীদের কাছ থেকে টিকিট বাবদ যে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয় তা বিআরটিসি পাচ্ছে না। টাকা নিচ্ছে বহিরাগত সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেট জোয়ারসাহারা ডিপো থেকে এ রুটে প্রতিদিন ১২টি এসি বাস পরিচালনা করে।

ডিপো সূত্র জানায়, উত্তরা থেকে মতিঝিল যাওয়া আসা মিলিয়ে বাসপ্রতি একটি ট্রিপ হয়। ট্রিপ প্রতি ৪ হাজার ২শ টাকা রাজস্ব ধরা হয়। বাসের ৭৫ ভাগ সিটের ভাড়া হিসেবে করে এ রাজস্ব ধরা হয়। বাস্তবে বাসের প্রতিটি সিট পূর্ণ করেই বাসগুলো চলাচল করে। অনেকে বাসে উঠে সিট পান না। তাদের দাঁড়িয়ে যেতে হয় গন্তব্যে। প্রায়শই দেখা যায়, ১০ থেকে ১৫ জন যাত্রী দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন। বাসের জন্য কাউন্টারের সামনে যাত্রীদের দীর্ঘলাইনও দেখা যায়।

বিআরটিসি প্রতিদিন যাত্রীদের কাছ থেকে যে পরিমাণ টাকা নিচ্ছে তা ডিপোতে জমা হচ্ছে না। রাজস্ব ছাড়া বাকি আয় ভাগাভাগি হয় সিন্ডিকেটে। বিআরটিসি তার নিজস্ব জনবল বসিয়ে রেখে বহিরাগতদের হাতে আয় ছেড়ে দিয়েছে। এ জন্য ডিপো ম্যানেজার এবং বিআরটিসির ঊর্ধতন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করতে হয়েছে।

বিআরটিসির নতুন এই বাসে কাউন্টারে গিয়ে এর সত্যতা পাওয়া যায়। কাউন্টারে যারা দায়িত্বপালন করছেন তারা কেউই বিআরটিসির লোক নন। তাদের হাত থেকে টিকিট নিয়ে বাসে উঠতে হচ্ছে যাত্রীদের।

বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার গেইট সংলগ্ন কাউন্টারে দায়িত্বরত একজন জানান, তিনি খিলক্ষেত থানা ছাত্রলীগের নেতা সাদিকুর রহমানের শিপুর লোক। তার অধীনে চাকরি নিয়ে তিনি এখানে বসেছেন। প্রতিটি কাউন্টারে তাদের লোক বসানো হয়েছে। তারাই বিআরটিসির জোয়ারসাহারা ডিপোর বাসগুলো পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন।

বিআরটিসির জোয়ারসাহারা ডিপো থেকে নতুন ভারতীয় বাস পরিচালনার দায়িত্ব কাউকে দেওয়ার কোনো লিখিত প্রমাণ নেই। তাহলে কারা ভাড়া তুলছে টিকিট বিক্রি করে? জানতে চাইলে বিআরটিসির ডিপো ম্যানেজার মশিউর জামান বলেন, ‘বাস তার ডিপোর নিজস্ব লোক পরিচালনা করছে। এখন ওই লোক যদি বাইরে আর কাউকে নিয়োগ দেয় তাহলে কিছু করার নেই। কারণ বাস চালাতে গেলে আউটসোর্সিং করতে হয়। একজন কন্ডাক্টরের পক্ষে বাস চালানো সম্ভব নয়।’

এছাড়া ভাড়া বেশি নেওয়ার বিষয়টি তার জানা নেই বলে জানান বিআরটিসির ডিপো ম্যানেজার।

সারাবাংলা/এসএ/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন