বিজ্ঞাপন

মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম আর নেই

January 2, 2021 | 8:24 am

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম আর নেই। শনিবার (২ জানুয়ারি) ভোরে নিজ বাসায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে রাজধানীর বিআরবি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু এ খবর জানিয়েছেন।

ওই বার্তায় বলা হয়, বাষট্টির ছাত্রআন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এবং মহান মুক্তিযুদ্ধসহ সকল প্রগতিশীল আন্দোলনের সক্রিয় সংগঠক ছিলেন আয়শা খানম। ছাত্র জীবন শেষে বঞ্চিত অধিকারহীন নারীদের অধিকার আদায়ে আমৃত্যু নিয়োজিত ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে বাংলাদেশের নারী আন্দোলন এক অকৃত্রিম অভিভাবককে হারালো।

বিজ্ঞাপন

তার মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন। শেখ হাসিনা এক শোক বার্তায় বলেন, এই নারী নেত্রীর মৃত্যুতে দেশের নারী সমাজ একজন অকৃত্রিম বন্ধু ও সাহসী সহযোদ্ধাকে হারালো।

১৯৪৭ সালের ১৮ অক্টোবর নেত্রকোনা ও দুর্গাপুরের মাঝখানে গাবড়াগাতি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আয়শা খানম। তার বাবার নাম গোলাম আলী খান, মা জামাতুন্নেসা খানম।

বিজ্ঞাপন

হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশন বাতিলের দাবিতে ১৯৬২ সালের ছাত্র আন্দোলন থেকেই ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন আয়শা খানম। ১৯৬৬ সাল থেকে ছাত্র আন্দোলনে পুরোপুরি সক্রিয় হন তিনি। ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচন এবং একাত্তরের অসহযোগ আন্দোলনসহ স্বাধীনতা যুদ্ধের পথে এগিয়ে যেতে যেসব আন্দোলন-সংগ্রাম সংঘটিত হয়েছিল সেসবগুলোতেই তিনি সামনের সারিতে ছিলেন।

১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং সংগ্রামী নেত্রী আয়শা খানম। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ছিলেন তিনি। এছাড়া রোকেয়া হলের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ও সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে ঢাকায় ছাত্র-ছাত্রীদের সংগঠিত করার দায়িত্ব ছিল মূলত আয়শা এবং তাঁর সহকর্মী ছাত্র নেতাদের উপর। এছাড়া ছাত্র নেতা হিসেবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্বাধিকার আন্দোলনের পক্ষে জনমত গড়ে তোলা ও সচেতনতার কাজেও সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

এপ্রিল মাসের শেষদিকে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে আগরতলায় যান আয়শা খানম। সেখানে কমিউনিস্ট পার্টি পরিচালিত শরণার্থী শিবির ও মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্প ক্রাফটস হোস্টেলে ওঠেন তিনি। সেখানে মুক্তিযোদ্ধা ও শরণার্থী শিবিরগুলোতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে যোদ্ধাদের মনোবল অটুট রাখা, প্রণোদনা দান এবং শরণার্থীদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা জাগাতে কাজ করেন আয়শা।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর নিজেকে অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল, সমান অধিকার ভিত্তিক সমাজ গড়ার কাজে জড়িয়ে রাখেন নারীনেত্রী আয়শা খানম। পাক বাহিনী ও তাদের দোসরদের নির্যাতনের শিকার নারীদের পুনর্বাসন এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় কাজ করেন তিনি। এছাড়াও শুরু থেকেই বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। প্রথমে ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা সহ-সাধারণ সম্পাদক এবং আমৃত্যু সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আয়শা খানম।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন