বৃহস্পতিবার ১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ইং , ২ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৭ সফর, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

শুধু পদচ্যুতি নয়, শোভন-রাব্বানীর বিচার চায় বিএনপি

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৯ | ২:৩৫ অপরাহ্ণ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: শুধু পদচ্যুত করা নয় ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর বিচার দাবি করেছেন বিএনপি নেতারা।

বিজ্ঞাপন

রোবববার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তারা এ দাবি তোলেন। খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল এ মানববন্ধনের আয়োজন করে।

মানববন্ধনে অংশ নিয়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) বিএনপির সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল বলেন, ‘দু’টি ছাত্রসংগঠন— বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের চাঁদাবাজির সংবাদ যেমন এসেছে, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কাউন্সিলের সংবাদও তেমনি এসেছে।’

বিজ্ঞাপন

‘আমরা দেখেছি, ছাত্রলীগের চাঁদাবাজির অভিযোগে দুজনকে পদচ্যুত করা হয়েছে। শুধু পদচ্যুত করলেই হবে না। তারা অপরাধী, তাদের বিচার করতে হবে’— বলেন হাবিব-উন-নবী খান সোহেল।

তিনি বলেন, ‘আমি জানি কাল হয়ত ওবায়দুল কাদের বলবেন, এমন কী! ৮৬ কোটি টাকা মাত্র চাঁদা চেয়েছে, এমন কী! বলবেন না কেন? যে দেশে পর্দার দাম ৭০ লাখ (৩৭ লাখ) টাকা, বালিশের দাম ৭ হাজার টাকা, সে দেশে ৮৬ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করতেই পারে!’

‘কিন্তু আজকের এ সভা থেকে আমরা স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই, সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বে থেকে যারা ছাত্র রাজনীতিকে কলঙ্কিত করেছে, ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাসকে কলঙ্কিত করেছে, তাদেরকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা উচিত। যারা ছাত্র রাজনীতিকে কলঙ্কিত করেছে, তাদের বিচার হবে না, এমনটি হতে পারে না’— বলেন হাবিব-উন-নবী খান সোহেল।

তিনি বলেন, ‘এর পাশাপাশি আরও একটি কথা আছে। এদের তো বয়স বেশি না। এদেরও তো গডফাদার আছে, বড় ভাই আছে, যারা তাদের চাঁদাবাজি শিখিয়েছে। সুতরাং এই দুইজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে হবে না। যারা তাদের চাঁদাবাজি শিখিয়েছে, যারা এদেশের ছাত্ররাজনীতিকে কলঙ্কিত করার কাজে সহযোগিতা করেছে, তাদেরকেও বিচারের আওতায় আনতে হবে।’

ছাত্রদলের কাউন্সিলে আদালতের নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল তো ভোট দিয়ে নেতা নির্বাচন করতে চেয়েছিল। আপনাদের ছেলেরা চাঁদাবাজি করে, আমাদের মেধাবী ছেলেরা ভোট দিয়ে নেতা নির্বাচন করতে চায়। কেন তাতে বাধা দিলেন? আবারও প্রমাণ করলেন- গণতন্ত্র আর আওয়ামী লীগ এক সঙ্গে যায় না। আবারও প্রমাণ করলেন- ভোট, ভোটাধিকার এবং আওয়ামী লীগ একসঙ্গে যায় না।’

হাবিব-উন-নবী খান সোহেল বলেন, ‘ভোটের কথা শুনলেই তাদের গা জ্বালা করে। আমাদের ছাত্রদলের ছেলেরা বিগত নির্বাচনে ভোট দিতে পারেনি, নিজেদের সংগঠনের নেতা নির্বাচন করবে ভোট দিয়ে, সেখান থেকেও আপনারা বঞ্চিত করলেন।’

মাববন্ধন থেকে অনবিলম্বে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্ত দাবি করে মৎসজীবী দলের নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘নিজেদের সংগঠিত করুন, শক্তিশালী করুন। এতদিনে নিশ্চয়ই আপনারা বুঝে গেছেন, আইনি প্রক্রিয়ায় বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি মিলবে না। অতএব কঠিন থেকে কঠিনতর আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটিয়ে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনতে হবে।’

মৎস্যজীবী দলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম মাহতাবের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, মৎস্যজীবী দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিমসহ অন্যরা।

সারাবাংলা/এজেড/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন