রবিবার ২০ অক্টোবর, ২০১৯ ইং , ৪ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২০ সফর, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

ভারতের সঙ্গে ‘স্বার্থ হানিকর’ চুক্তি বাতিল চায় বিএনপি

অক্টোবর ১০, ২০১৯ | ৪:০৩ অপরাহ্ণ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরকালে সে দেশের সঙ্গে স্বাক্ষর করা বাংলাদেশের ‘স্বার্থ হানিকর’ সব চুক্তি বাতিল চায় বিএনপি। পাশাপাশি সকল চুক্তি ও সমঝোতার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চায় দলটি।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলীয় অবস্থান তুলে ধরেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা নিকট প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সমতাভিত্তিক সুসস্পর্ক চাই। কিন্তু এই সরকার যা করছে, তাতে দেওয়া-নেওয়ার বিষয়ে নেই। আছে শুধু দেওয়ার। দেশের স্বার্থ হানিকর এমন অসম চুক্তির অধিকার জনগণ সরকারকে দেয়নি। কাজেই আমরা প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক সফরের সময় স্বাক্ষরিত সকল চুক্তি ও সমঝোতার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাই এবং দেশের স্বার্থ হানিকর সকল চুক্তি বাতিল চাই।’

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘জনগণের কাছে দায়বদ্ধ নয় এমন একটি শক্তি যখন কৌশলে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে তখন তার পরিণতি দেশ ও দেশের জনগণের জন্য কতটা ভয়াবহ হয়, তার সাম্প্রতিক প্রমাণ প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর। সফরকালে স্বাক্ষরিত চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের ফেনী নদী থেকে ১.৮২ কিউসেক পানি ত্রিপুরার সাব্রুম শহরের জনগণের ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে সরকার।’

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে স্বাক্ষরিত চুক্তিতে ভারতকে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর নির্বিঘ্নে ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলে যৌথ পর্যবেক্ষণের জন্য রাডার বসানোর অনুমতি দিয়েছে। ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে বাংলাদেশ থেকে এলপিজি গ্যাস সরবরাহের নিশ্চয়তা দিয়েছে।’

‘অথচ বহু বছর ধরে তিস্তাসহ ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা পাওয়ার ব্যাপারে শুধুই আলোচনা করে চলেছে। এবারও শুধু আশ্বাসই পেয়েছে, কোনো স্পষ্ট নিশ্চয়তা পায়নি। আসামের নাগরিক পঞ্জির পরিপ্রেক্ষিতে কয়েক লাখ আসামবাসীকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে ভারতীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ আসামরাজ্য ও কেন্দ্রীয় গুরুত্বপুর্ণ ব্যক্তিরা স্পষ্ট হুমকি দিয়েছেন। কিন্তু দুই প্রধানমন্ত্রীর যৌথ বিবৃতিতে এ ব্যাপারে ইতিবাচক কোনো প্রতিশ্রুতি নেই’— বলেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

তিনি বলেন, ‘এতে বোঝা যায় যে, রাষ্ট্রীয় সফরের আগে সরকার যথাযথ প্রস্তুতি নেয়নি, দেশের জনগণকে কিছু জানতেও দেয়নি। এসব নিজ দেশ ও জনগণের স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে শক্তিমান প্রতিবেশীকে খুশি করে ক্ষমতার মসনদ টিকিয়ে রাখার সাময়িক ও ব্যর্থ চেষ্টা মাত্র।’

জনগণের স্বার্থবিরোধী চুক্তির প্রতিবাদে দেশবাসী ফুঁসে উঠেছে দাবি করে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘সমালোচনায় ভীত সরকার তার দলীয় লাঠিয়ালদের দিয়ে বুয়েটের ছাত্র আবরারকে খুন করেছে। কিন্তু এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড আন্দোলনের আগুনে ঘৃতাহুতি দিয়েছে মাত্র। কাউকে ভীত করতে পারেনি। আজ গোটা দেশের জনগণ এই সরকারকে দেশের স্বার্থ বিসর্জনকারী এক ক্ষমতালিপ্সু শাসক বলে মনে করে।’

ফেনী নদী যৌথ নদী ছিল না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কিন্তু বর্তমান সরকার আরও ৬টি যৌথ নদীর সাথে ফেনী নদীর নাম সংযুক্ত করে এসব নদীর পানি বণ্টন নিয়ে আলোচনায় রাজি হয়। এবার ফেনী নদীকে আলাদাভাবে বিবেচনা করে তার পানি ভারতীয় একটি শহরের প্রয়োজনে দেওয়ার চুক্তি হলো।’

ফেনী নদীর পানি না দিলে ভারতের সাবরুম শহর কারবালা হয়ে যেতে’— বিবিসিকে দেওয়া বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিবের এমন বক্তব্যের জবাবে ড. মোশাররফ বলেন, ‘কারবালা কারোরই কাম্য নয়। কিন্তু বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিবের তো প্রথমে বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ দেখার কথা। ফারাক্কার কারণে বাংলাদেশ বিস্তীর্ণ অঞ্চল খরাক্রান্ত হওয়ায় লাখ লাখ মানুষের আহাজারি তাকে স্পর্শ করেনি।’

তিনি বলেন, ‘তিস্তার পানি ন্যায্য হিস্যা না পাওয়ায় দেশের উত্তরাঞ্চলের মরুকরণ ও লাখো মানুষের আর্তনাদ তার কানে পৌঁছে না। ফেনী নদীতে শুকনা মওসুমে পানির অভাবে চাষাবাদের ক্ষতি, মুহূরী প্রকল্প অকার্যকর হওয়ার নিশ্চিত সম্ভাবনার বিষয়টি তিনি ও তার সরকারের চিন্তায় আসেনি। নিজের দেশের জনগণের আহাজারী, আর্তনাদ ও সর্বনাশের কথা তারা ভাবেননি। এটা কোনো দেশপ্রেমি সরকারের অবস্থান হতে পারে না।’

এলপিজি রফতানি

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশ এলপিজি আমদানি কারক দেশ হয়ে প্রতিবেশীর প্রয়োজনে তা রফতানির করার উদ্যোগ ব্যক্তি ও গোষ্ঠী বিশেষকে লাভবান করবে-দেশকে নয়। দেড় হাজার কিলোমিটার পথের স্থলে এখন মাত্র ২০০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে এলপিজি গ্যাস ভারত পৌছবে। তাদের এই সুবিধা দেয়ার বিনিময়ে ‘ঠাকুর শান্তি পুরস্কার’ ছাড়া আমরা কি পেলাম?’

‘এর আগের বার ভারত সফর শেষে দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন যে, আমরা যা দিয়েছি তা ভারত চিরদিন মনে রাখবে। তাহলে এবার আরও এতো কিছু দেওয়ার কি প্রয়োজন ছিল? দেশের স্বার্থে বিদেশীদের গ্যাস দিতে রাজি হননি বলে ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসতে পারেননি। এবার আমদানি করা ডিউটি ফ্রি এলপিজি দেওয়ার উদ্দেশ্য তাহলে কী?— প্রশ্ন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের।

তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরকে নির্বিঘ্নে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ায় আমাদের দেশের অবকাঠামো, নাগরিক পরিবহণ চলাচল এবং অর্থনৈতিক বিষয়ে ক্ষয়ক্ষতির নিশ্চিত সম্ভাবনা রয়েছে। সমুদ্র উপকূলে যৌথ নজরদারীর ফলে জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেশবাসীর কাছে গোপন করা হয়েছে- যা জানার অধিকার তাদের রয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বরচন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্যা বুলু, মো. শাহজাহান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমুখ।

সারাবাংলা/এজেড/একে

বিজ্ঞাপন

Tags: , ,

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন