রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১০ ফাল্গুন ১৪২৬, ২৮ জমাদিউস-সানি ১৪৪১

বিজ্ঞাপন

হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে ট্রান্স ফ্যাট, স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ৯ দাবি

ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২০ | ৯:১৩ অপরাহ্ণ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: খাদ্যে ট্রান্স ফ্যাটের উচ্চমাত্রা নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশে কোনো নীতিমালা ও পদক্ষেপ না থাকায় ভোক্তাদের স্বাস্থ্য চরম হুমকির মুখে রয়েছে। ট্রান্স ফ্যাট মানুষের হৃদরোগ ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। এমন অবস্থায় খাদ্যদ্রব্যে ট্রান্স ফ্যাট নির্মূল করতে করণীয় তুলে ধরতে এবং ভোক্তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ৯ দফা দাবি জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব), ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ এবং প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) সম্মিলিতভাবে ‘খাদ্যে ট্রান্স ফ্যাট, হৃদরোগ ঝুঁকি এবং করণীয়: ভোক্তা পরিপ্রেক্ষিত’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে।

আলোচনা সভায় শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় খাদ্যে ট্রান্স ফ্যাট নির্মূলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ৯ দফা ভোক্তা দাবিনামা বাস্তবায়ন করা হবে।’

বিজ্ঞাপন

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘ট্রান্স ফ্যাট নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে পুরনো আইন সংস্কারের মাধ্যমে যুগোপযোগী করা হবে।’

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর এর কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে এখন খাদ্যপণ্য বিদেশে রফতানি করা হয়। সুতরাং ট্রান্স ফ্যাট নির্মূল করা না গেলে তারা আমাদের এসব পণ্য কিনবে না এবং আমরা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবো।’

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য মনজুর মোর্শেদ বলেন, ‘আমরা খাদ্যদ্রব্যে ট্রান্স ফ্যাটের মাত্রা দুই শতাংশে নির্ধারণের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ লক্ষ্যে গঠিত টেকনিক্যাল কমিটি কাজ শুরু করেছে।’

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার (অব.) আব্দুল মালিক বলেন, ‘অসংক্রামক রোগের প্রকোপ কমাতে আমাদের খাদ্যে ট্রান্স ফ্যাট নির্মূল করতে হবে।’

ক্যাবের সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নির্ধারিত ২০২৩ সালের মধ্যে ট্রান্স ফ্যাট নির্মূলে সরকার, ভোক্তা সংগঠনসমূহ সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।’

আলোচনা অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট (বিএসটিআই) এর মহাপরিচালক মো. মুয়াজ্জেম হোসাইন, স্বাস্থ্য অধিদফতরের লাইন ডিরেক্টর এনসিডিসি ডা. হাবিবুর রহমান, ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবীর ভূঁইয়া এবং প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এ বি এম জুবায়ের।

এটিএন বাংলার বার্তা সম্পাদক নাদিরা কিরণের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচ্য বিষয় সম্পর্কে আলোকপাত করেন, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ এর ইপিডেমিওলজি অ্যান্ড রিসার্চ বিভাগের অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী, প্রজ্ঞা’র পরিচালক ও কর্মসূচি প্রধান মো. হাসান শাহরিয়ার এবং ক্যাবের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর আহম্মদ একরামুল্লাহ।

আলোচনা সভায় জানানো হয়, মাত্রাতিরিক্ত ট্রান্স ফ্যাট গ্রহণ হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত খাবার রক্তে ‘খারাপ’ কোলেস্টেরল বাড়িয়ে ‘ভালো’ কোলেস্টেরল কমিয়ে দেয় এবং মানুষকে অসুস্থ করে ফেলে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষ ট্রান্স ফ্যাট গ্রহণের কারণে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। সাধারণত ভাজা পোড়া ও বেকারি খাবারে শিল্পোৎপাদিত ট্রান্স ফ্যাট (Industrially-produced trans fats) থাকে। ভেজিটেবল অয়েল (পাম, সয়াবিন ইত্যাদি) এর সঙ্গে হাইড্রোজেন যুক্ত (হাইড্রোজেনেশন) করলে তেল জমে যায় এবং ট্রান্স ফ্যাট উৎপন্ন হয়।

এই পারশিয়ালি হাইড্রোজেনেটেড অয়েল বা PHO আমাদের দেশে ডালডা বা বনস্পতি ঘি নামে পরিচিত। ভাজা পোড়া খাদ্যে একই তেল উচ্চ তাপমাত্রায় বারবার ব্যবহারের কারণেও খাদ্যে ট্রান্স ফ্যাট সৃষ্টি হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী, একজন ব্যক্তির দৈনিক ট্রান্স ফ্যাট গ্রহণের পরিমাণ হওয়া উচিত মোট খাদ্যশক্তির ১ শতাংশের কম, অর্থাৎ দৈনিক ২০০০ ক্যালোরির ডায়েটে তা হতে হবে ২.২ গ্রামের চেয়েও কম। ট্রান্স ফ্যাট এর ব্যাপক স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনা করে ডেনমার্ক বিশ্বে প্রথম ২০০৩ সালে খাদ্যদ্রব্যে ট্রান্স ফ্যাটের সর্বোচ্চ সীমা মোট ফ্যাটের ২ শতাংশ নির্ধারণ করে।

বাংলাদেশে ট্রান্স ফ্যাট নির্মূল সংক্রান্ত কোনো নীতিমালা না থাকায় খাদ্যদ্রব্যে ট্রান্স ফ্যাটের পরিমাণ গ্রহণযোগ্য মাত্রার চেয়ে বেশি রয়ে যাচ্ছে যা হৃদরোগজনিত অকাল মৃত্যুঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

এ অবস্থা চলতে থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে অসংক্রামক রোগজনিত অকাল মৃত্যু এক-তৃতীয়াংশে কমিয়ে আনা সংক্রান্ত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অসম্ভব হয়ে পড়বে। তাই হৃদরোগ প্রতিরোধসহ জনস্বাস্থ্যের কার্যকর উন্নয়নের জন্য ট্রান্স ফ্যাট নির্মূলের বিকল্প নেই।

সারাবাংলা/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন