বুধবার ১২ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং , ২৮শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা রবিউস-সানি, ১৪৪০ হিজরী

নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী, ৬ দিনে ২৬ কর্মসূচি

সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৮ | ১০:২৪ পূর্বাহ্ণ

।। বিশেষ সংবাদদাতা ।।

ঢাকা: জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ (ইউনাইটেড নেশনস জেনারেল অ্যাসেম্বলি-আঙ্গা)’র ৭৩তম অধিবেশনে যোগ দিতে শুক্রবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে নিউইর্য়কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সকাল ১০টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ভিভিআইপি ফ্লাইট বিজি-০০১ যোগে নিউইর্য়কের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন তিনি। তবে লন্ডনে দুই দিনের যাত্রাবিরতি করে ২৩ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সিতে অবতরণ করবে বিজি-০০১। সেখান থেকে নিউইয়র্কে পৌঁছাবেন তিনি।

এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এবারের জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে অংশগ্রহণ ও পুরো সফরকালের কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে। সে কর্মসূচি অনুয়ায়ী নিউইয়র্কে ছয় দিন অবস্থান করবেন প্রধানমন্ত্রী। এই ছয় দিনে মোট ২৬টি কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি।

২৩ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় ১টা ৪০ মিনিটে নিউজার্সির নিউইয়ার্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পৌঁছানোর কথা প্রধানমন্ত্রীর। বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবেন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মাদ জিয়াউদ্দিন এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মোটর শোভাযাত্রায় নিয়ে যাওয়া হবে নিউইয়র্কে। সেখানে ম্যানহাটনের গ্রান্ড হায়াত হোটেলে উঠবেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে জাতিসংঘ সদর দফতরের কাছাকাছি অবস্থিত এই হোটেলেই অবস্থান করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ।

শেখ হাসিনার এবারের সফরকালে দুটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার গ্রহণের কথা রয়েছে। মানবিক দিক বিবেচনায় বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া এবং রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে শান্তিপূর্ণ কূটনীতিক প্রচেষ্টার জন্য ইন্টার প্রেস সার্ভিস এবং গ্লোবাল হোপ তাকে পুরস্কৃত করবে।

আর ২৭ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। বরাবরের মতো এবারও এই বিশ্বসভায় বাংলায় ভাষণ দেবেন শেখ হাসিনা।

সফরকালে জাতিসংঘ মহাসচিব এন্টোনিও গুতেরেস ছাড়াও বেশ কয়েকজন রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করার কর্মসূচিও চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলীসহ মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্য, সংশ্লিষ্ট কয়েকজন সচিব ও নানা পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং সংবাদকর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর এই সফরেও সঙ্গী হয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এবারের সফরে বেশ কর্মব্যস্ত সময় কাটবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। নিউইয়র্কে পৌঁছালে ওই দিন (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নগরীর মিডটাউনে হোটেল হিলটনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পক্ষ থেকে দেওয়া এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি।

দ্বিতীয় দিনে (২৪ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সকাল আটটায় জাতিসংঘ সদর দফতরে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী মিশনের আয়োজনে ‘গ্লোবাল কল টু অ্যাকশন অন ড্রাগ প্রবলেম’ শীর্ষক হাই লেভেল ইভেন্টে যোগ দেবেন শেখ হাসিনা। এই কর্মসূচিতে জাতিসংঘ মহাসচিব এন্টোনিও গুতেরেস ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ছাড়াও কয়েকটি দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের অংশগ্রহণ থাকবে। এখানে শীর্ষ পর্যায়ের বিশ্বনেতাদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।

ওই দিনই সকাল ১০টায় জাতিসংঘ সদর দফতরের ইকোসক চেম্বার’র (ইসিওএসওসি) জাতিসংঘের শরনার্থী বিষয়ক হাইকমিশনের সভাপতিত্বে ‘গ্লোবাল কমপ্যাক্ট অন রিফ্যুজিস: এ মডেল ফর গ্রেটার সলিডারিটি অ্যান্ড কোঅপারেশ’ শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের সভায় অংশ নেবেন শেখ হাসিনা। পরে বেলা ১১টার দিকে জাতিসংঘ সদর দফতরে দ্বিপাক্ষিক সম্মেলন কক্ষে নেদারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুটের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের কর্মসূচি চূড়ান্ত করে রেখেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দুপুরে হোটেল গ্রান্ড হায়াতে যুক্তরাষ্ট চেম্বার অব কমার্স আয়োজিত গোলটেবিল ও মধ্যাহ্নভোজ সভায় অংশ নেবেন তিনি। আর বিকেল তিনটায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সম্মেলন কক্ষে নেলসন ম্যান্ডেলা পিস সামিটে বক্তৃতা করবেন শেখ হাসিনা। বিকেল সাড়ে ৫টায় জাতিসংঘ সদর দফতরের কনফারেন্স রুম ১১তে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সভাপতিত্বে নারী শিক্ষায় বিনিয়োগ সংক্রান্ত একটি গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নেবেন। আর সন্ধ্যা ৬টার দিকে জাতিসংঘের বৈশ্বিক শিক্ষা বিষয়ক বিশেষ দূতের আয়োজনে জাতিসংঘ সদর দফতরে অনুষ্ঠেয় ‘মেকিং ইমপসিবল পসিবল: আনলকিং হিউম্যান পটেনশিয়াল থ্রো দ্য ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স ফ্যাসিলিটি ফর এডুকেশন’ শীর্ষক হাই লেভেল ইভেন্টে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে সন্ধ্যা ৭টায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আয়োজিত স্বাগত সংবর্ধনায় অংশ নেবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। নিউইয়র্ক প্যালেস হোটেলে অনুষ্ঠেয় এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়েই শেষ হবে দিনের কার্যসূচি।

সফরের তৃতীয় দিন (২৫ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাইবার নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়ক হাই লেভেল ইভেন্টে অংশ নেবেন শেখ হাসিনা। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন এবং জাতিসংঘের নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ক কার্যালয় (ইউএনওডিএ) যৌথভাবে জাতিসংঘ সদর দফতরে এ সভার আয়োজক। ওই দিন দুপুর সোয়া ১টার দিকে সাধারণ পরিষদ ভবনের নর্থ ডেলিগেট লাউঞ্জে জাতিসংঘের মহাসচিব আয়োজিত মধ্যাহ্ন ভোজে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। বিকেল তিনটায় জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘অ্যাকশন ফর পিস কিপিং’ (এ ফোর পি) শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের সভায় অংশ নেবেন তিনি। পরে বিকেল ৪টায় রয়েছে ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স ফর ডেভেলপমেন্ট বিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ অ্যাডভোকেট, নেদারল্যান্ডের রানী ম্যাক্সিমার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সাক্ষাৎ। আর সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী চেয়ারম্যান প্রফেসর ক্লস সোয়াব (Klaus Schawb) এর সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

চতুর্থ দিন (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর তিনটার পর থেকে জাতিসংঘ সদর দফতরের দ্বিপাক্ষিক সম্মেলন কক্ষে আলাদাভাবে ইউনিসেফ-এর নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোর, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশনার (ইউএনএইচসিআর) ফিলিপ্পো গ্রান্দি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতি বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি মঘেরনিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। একই ভেনু্যতে পরে বিকেণ চারটায় এস্তোনিয়ার প্রেসিডেন্ট ক্রেস্টি কালিজুলেইদ এবং জাতিসংঘের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত ক্রিস্টিন শারনার বার্গনারের সঙ্গেও বৈঠক করবেন শেখ হাসিনা।

সফরের পঞ্চম দিন ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় সৌদি আরবের স্থায়ী মিশন এবং ওআইসি সচিবালয়ের যৌথ উদ্যোগে জাতিসংঘ সদর দফতরে  অনুষ্ঠেয় সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কিত হাইলেভেল সাইড ইভেন্টে অংশ নেবেন শেখ হাসিনা। ওই দিন দুপুর পৌনে ১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ মহাসচির এন্টোনিও গুতেরেসের সঙ্গে জাতিসংঘ সদর দফতরে তার সভাকক্ষে বৈঠক করবেন। দুপুর সোয়া ১টার দিকে আন্তর্জাতিক কমিটি অব রেডক্রস (আইসিআরসি) এর প্রেসিডেন্ট পিটার মওরার এর সঙ্গে জাতিসংঘের দ্বিপাক্ষিক সভাকক্ষে বৈঠকের কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। একইদিন বেলা ৩টায় যুক্তরাষ্ট্রের সেক্রেটারি অব স্টেট মাইক পম্পেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতের কথা রয়েছে। এর পরপরই বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে ‘নারীর ক্ষমতায়মের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি’ শীর্ষক এই হাই লেভেল আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন। লিথুনিয়ার প্রেসিডেন্টের আয়োজনে জাতিসংঘ সদর দফতরেই অনুষ্ঠিত হবে এই কর্মসূচি। পরে বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সদর দফতরে ইন্টার প্রেস সার্ভিসেস (আইপিএস) আয়োজিত সংবর্ধনায় অংশ নেওয়া ও পুরস্কার গ্রহণের কথা রয়েছে।

সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে জাতিসংঘ সদর দফতরে সাধারণ পরিষদের ৭৩ তম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। বরাবরের মতো এবারও বাংলায় ভাষণ দেবেন তিনি।

রাত ১০টার দিকে নিউ ইয়র্কের পার্ক অ্যাভেনিউয়ে গ্লোবাল হোপ কোয়ালিশন আয়োজিত বার্ষিক নৈশভোজে যোগ দেবেন। এই কর্মসূচি থেকেও পুরস্কৃত করা হবে শেখ হাসিনাকে।

সফরের ৬ষ্ঠ ও শেষ দিন ২৮ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের নিউইয়র্ক কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিং করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইত্তেহাদ এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে লন্ডনের উদ্দেশ্যে নিউইয়র্ক ছাড়বেন তিনি। আর লন্ডনে যাত্রাবিরতি শেষে আগামী ১ অক্টোবর সকালে ঢাকায় পৌঁছার কথা রয়েছে তার।

সারবাংলা/এমএম

নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী, ৬ দিনে ২৬ কর্মসূচি
নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী, ৬ দিনে ২৬ কর্মসূচি
নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী, ৬ দিনে ২৬ কর্মসূচি