মঙ্গলবার ২৫ জুন, ২০১৯ ইং , ১১ আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২১ শাওয়াল, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

দলকে তাতিয়ে দিয়েছিলেন মাশরাফি

মে ১৯, ২০১৯ | ৩:৩৭ অপরাহ্ণ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

কনকনে ঠান্ডা, সাথে গা হিম করা বাতাস। শরীরের কোনো অংশ বেরিয়ে থাকলে মনে হয় এই বুঝি বরফ হয়ে গেল। ঠিক এমন প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্য দিয়ে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে হয়েছে গ্রীষ্মমন্ডলীয় দেশ বাংলাদেশের যোদ্ধাদের। কিন্তু কন্ডিশন যেমনই হোক না কেন যুদ্ধে নেমে তো আর ঠান্ডার দোহাই দিয়ে পার পাওয়া যাবে না। তাই ড্রেসিংরুমে যখনই সতীর্থদের সঙ্গে দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে, অধিনায়ক হিসেবে উৎসাহ বাক্য দিয়ে দলকে উজ্জ্বীবীত করেছেন মাশরাফি বিন মোর্ত্তজা। যে করেই হোক, কন্ডিশন জয় করে শিরোপা ঘরে তুলতেই হবে।

তার সেই মন্ত্র ও দাপুটে দলীয় পারফরম্যান্স; এই দুইয়ের রসায়নেই বাজিমাত। উইন্ডিজদের উড়িয়ে দিয়ে প্রথম কোনো বহুজাতিক টুর্নামেন্টের মুকুট মাথায় পড়লো লাল সবুজের দল।

আয়ারল্যান্ড থেকে দেশে ফিরে রোববার (১৯মে) মিরপুর জাতীয় ক্রিকেট একাডেমিতে সংবাদ মাধ্যমকে সে কথাই জানালেন শেষ মুহূর্তে ত্রিদেশীয় সিরিজে ডাক পাওয়া অলরাউন্ডার ফরহাদ রেজা, ‘আসলে প্রথম থেকে তিন বিভাগেই আমরা খুব ভালো ক্রিকেট খেলেছি। প্রস্তুতি ম্যাচ ছাড়া। প্রচন্ড ঠান্ডা ছিল, মানিয়ে নেয়া কঠিন ছিল। পরে মাশরাফি ভাই ড্রেসিংরুমে অনেক কথা বলেছেন, যেটা সবাইকে ড্রেসিংরুমে বুস্টআপ করেছে। ফাইনাল ম্যাচে তো সবাই খুব ভালো করেছে।’

ফাইনাল ম্যাচে বৃষ্টিতে প্রায় সোয়া ৫ ঘণ্টার বিরতির পর খেলা শুরু হলে যেন আরেকটি হারের হুমকিই দিচ্ছিল মাশরাফিদের। কেননা খেলা হবে ২৪ ওভারের, সেখানে রান প্রয়োজন ২১০। টি-টোয়েন্টির ধুমধারাক্কার জামানায় পুরো ৫০ ওভারে তিনশোর্ধ রান তাড়ার চাইতে এটিই তুলনামুলক সহজ ছিল। কিন্তু টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ কবে বলে-কয়ে ২১০ রান তাড়া করেছে? তাই শঙ্কাটি ছিলই।

বিজ্ঞাপন

তবে ফরহাদ রেজার মনে এমন কোনো শঙ্কারই উদ্রেক হয়নি, ‘কখনোই একমুহূর্ত মনে হয়নি ম্যাচটা হারব আমরা। কারণ সবার মধ্যে জেতার জেদটা ছিল। ভালো সুযোগ দরজা থেকে যাতে ফিরে না যায়, তাই যেভাবেই হোক চেষ্টা করেছি ম্যাচটা জিততে।’

ঘরোয়া ক্রিকেটে টানা দুই তিন বছর পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে লম্বা সময় পর জাতীয় দলের সঙ্গে সফর করার সুযোগ মিলেছিল ফরহাদের। কিন্তু টিম কম্বিনেশনের কারণে একটি ম্যাচেও একাদশে ঠাঁই মেলেনি তার। তাতে কোনো ক্ষোভ বা অভিযোগ তার নেই। বরং জাতীয় দলের আবহে থেকে পুরো সময়টা দারুণ উপভোগ করেছেন তিনি, ‘অনেক দিন পর গিয়েছি। সবার সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার ব্যাপার ছিল। সব কিছুই ঠিকভাবে হয়েছে। খুব ভালো লেগেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস আমরা যেভাবে খেলতে চেয়েছি ওভাবেই খেলতে পেরেছি।’

ত্রিদেশীয় সিরিজ শেষে দেশে ফিরেই হোম অব ক্রিকেটে চলমান এলিট ক্যাম্প যোগ দিয়েছেন ফরহাদ রেজা। অনাগত দিনগুলোতেও জাতীয় দলের পথ প্রশস্ত রাখতে আপাতত এখানেই শতভাগ মনোনিবেশ করতে চাইছেন ঘরোয়া ক্রিকেটের দাপুটে এই পারফর্মার, ‘আমরা যখন ওখানে গিয়েছি নামার পরপরই অনুশীলনে জয়েন করেছি। এখানেও অনুশীলনে আমাকে জয়েন করতেই হবে। তাই দুই দিন আগে থেকেই অনুশীলনটা শুরু করে নেই।’

সারাবাংলা/এমআরএফ/এমআরপি

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন