শুক্রবার ২৩ আগস্ট, ২০১৯ ইং , ৮ ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২১ জিলহজ, ১৪৪০ হিজরি

বিজ্ঞাপন

‘চামড়া শিল্পকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে’

আগস্ট ১৪, ২০১৯ | ৮:২০ অপরাহ্ণ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: চামড়া শিল্পকে ধ্বংস করে দেশের অর্থনীতিকে ভয়াবহ ক্ষতির মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম।

বুধবার (১৪ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ অভিযোগ করেন।

মুহাম্মদ ফয়জুল করিম বলেন, ‘চামড়ার মূল্য বর্গফুট হিসেবে নির্ধারণ করে দেওয়া হলেও সেভাবে কেউ চামড়া কিনছে না। বর্গফুট মূল্য হিসেবে বিক্রয় কার্যকর থাকলে চামড়া নিয়ে সিন্ডিকেট কাজ করতে পারত না।’

চামড়া শিল্পকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে সকলকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ভারতের চামড়া শিল্পের বাজার বহুলাংশে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের চামড়ার ওপর নির্ভরশীল। পাকিস্তান ভারতের সঙ্গে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ায় এ বছর ভারতকে বাংলাদেশের চামড়ার ওপর নির্ভরশীল হতে হবে। ফলে চামড়ার দাম ভালো পাওয়ার কথা। কিন্তু এ বছর ঘটেছে সম্পূর্ণ উল্টো।’

বিজ্ঞাপন

ফয়জুল করমী বলেন, ‘একসময় ৫০০ টাকায় একটি ভালোমানের চামড়ার জুতা পাওয়া যেত, তখন কোরবানির গরুর চামড়া ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হতো। এখন ভাল মানের চামড়ার জুতা ৭/৮ হাজার টাকার নিচে পাওয়া যায় না। কিন্তু গরুর চামড়া ২০-২০০ টাকায় নেমে এসেছে। এতে অনেকেই ক্ষুদ্ধ হয়ে চামড়া পুঁতে, পুড়িয়ে বা নদীতে ফেলে দিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে কার কি হবে জানি না, তবে বাংলাদেশের চামড়া শিল্প ধংস হবে এবং বিদেশি কোম্পানির পোয়াবারো হবে। কিন্তু কেন এমন হলো- এমন প্রশ্নের জবাবে অধিকাংশের উত্তর, সিন্ডিকেট। আমি বিষয়টাকে একটু অন্যভাবে দেখি যাতে রাজনীতি ও ষড়যন্ত্র রয়েছে।’

ফয়জুল করীম বলেন, ‘হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি স্থানান্তরের সময় মালিকদের সঙ্গে কোন পরামর্শ না হওয়ায় এবং কোনরূপ পরিবেশও সৃষ্টি না করে ট্যানারি সাভারে স্থানান্তর করায় ট্যানারি মালিকরা এ ব্যবসার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন।’

তিনি বলেন, ‘গতবছরের কাঁচা চামড়া এখনও রয়ে গেছে, এব্যাপারে সরকার কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। ব্যাংক লোন পর্যাপ্ত দেওয়া হয়নি এবং বন্ধ ট্যানারি চালুর ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে উৎসাহ দেওয়া হয়নি। পরিকল্পিতভাবে ট্যানারি মালিকরা চামড়া না কেনার কারণে বিশাল সম্ভাবনাময় চামড়া শিল্প ধ্বংসের পথে।’

সারাবাংলা/এজেড/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন