বৃহস্পতিবার ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং , ৪ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৯ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

ডা. ফরিদের ঘর থেকে বিস্ফোরণের পর আগুনের সুত্রপাত: তদন্ত কমিটি

আগস্ট ২২, ২০১৯ | ৪:৪৬ পূর্বাহ্ণ

উজ্জল জিসান, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট ।।

ঢাকা: রাজধানীর রূপনগর ঝিলপাড় বস্তিতে ডা. ফরিদের ঘর থেকেই আগুনের সুত্রপাত হয়েছিল বলে জানতে পেরেছে তদন্ত কমিটি। প্রচন্ড বিস্ফোরণের পর আগুন পুরো বস্তিতে ছড়িয়ে পড়ে। প্লাস্টিকের পাইপের মাধ্যমে গ্যাস লাইন থাকায় আগুনের ভয়াবহতা বৃদ্ধি পায় এবং বস্তির ৭০ ভাগ পুড়ে ভস্মিভূত হয়।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (২১ আগস্ট) ত্রাণ ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির অন্যতম সদস্য পুলিশের মিরপুর বিভাগের অতিরিক্ত উপ কমিশনার শাহেন শাহ মাহমুদ সারাবাংলাকে বলেন, ডা. ফরিদ বস্তিতে দাঁতের ডাক্তার হিসেবে পরিচিত। তার কোনো চেম্বার নেই। বস্তির দক্ষিণ পশ্চিম অংশে তার তিনটি ঘর ছিল। একটিতে ফরিদ নিজেই থাকত আর বাকী দুটি ঘর ভাড়ায় ছিল। তার ঘরের আশেপাশের লোকজনের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। তাদের বক্তব্য রেকর্ডও করা হয়েছে। লোকজন বলেছেন, ফরিদের ঘর থেকেই প্রচন্ড শব্দে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এরপরই আগুন বস্তিতে ছড়িয়ে পড়ে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম ঘটনার রাতে বলেন, আগুনে বস্তির ২৫ হাজারের মতো ঘর পুড়ে গেছে। আগুন লাগার ঘটনায় ত্রান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে গঠিত কমিটি আগামী সপ্তাহে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে বলে জানান অতিরিক্ত উপ কমিশনার শাহেন শাহ মাহমুদ।

আগুনের ঘটনার পরদিন ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও আগামী সপ্তাহের মধ্যেই তা জমা দেওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন কমিটির অন্যতম সদস্য ফায়ারের সহকারি পরিচালক (এডি) আব্দুল হালিম। তিনি বলেন, বস্তির কয়েকশ মানুষের সাথে কথা বলা হয়েছে। সবাই বলেছে বস্তির দক্ষিণ পশ্চিম অংশে ডা. ফরিদের ঘর থেকেই আগুনের সুত্রপাত হয়েছে। পুরো বস্তিতে প্লাস্টিকের পাইপ লাইনের গ্যাস সরবরাহ আর বাতাস থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বাতাস দক্ষিণ দিক থেকে উত্তর দিকে যাওয়ায় আগুনও উত্তর দিকে দ্রুত ছড়িয়েছে এবং পুড়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, অনেকের বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে। আগুন লাগার স্থান চিহ্নিত করা গেলেও কি কারনে আগুন লেগেছিল তা এখনো জানা যায়নি। ডা. ফরিদকে পাওয়া গেলে আগুন লাগার সঠিক কারণ জানা যেতো। ডা. ফরিদ এখন কোথায় আছে তা কেউ বলতে পারছে না। তাকে খোঁজা হচ্ছে। তাকে পাওয়া গেলে বিস্তারিত জানা যেতো।

অন্যদিকে বস্তিতে বসবাসকারীদের ঘরে ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। পুড়ে যাওয়া জায়গায় নতুন করে ঘর তৈরির এখনো নির্দেশনা আসেনি। আদৌ পুড়ে যাওয়া স্থানে ঘর তৈরি করা হবে কিনা তা বুঝতে পারছেন না বস্তিবাসী। বস্তির বাসিন্দারা বলছেন, আমরা তো ভাড়া ছিলাম। মালিকরা ঘর তৈরি করলে আমরা আবার ভাড়া থাকতে পারব। ঘর নির্মাণ না করলে সরকার আমাদের যেখানে পুণর্বাসন করবে সেখানেই যাবো।

আবার স্থানীয় কাউন্সিলর রজ্জব হোসেন বলেছেন, এবার কেউ ঘর নির্মাণ করে ভাড়া দিতে পারবেন না। যারা ঘর করবেন কেবল তারাই থাকতে পারবেন। ফলে ঘরের পূর্বের মালিকরা ঘর নির্মাণে এখনো কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারছে না বলে জানান একাধিক ঘরের মালিক।

রাসেল আহমেদ নামে একজন ঘরের মালিক সারাবাংলাকে বলেন, বস্তিতে নতুন করে ঘর নির্মাণ করলেও অবৈধ গ্যাস ও বিদ্যুতের সংযোগ পাওয়া যাবে কিনা তা বোঝা যাচ্ছে না। কারণ যারা এইসব সংযোগ দিতো তারাও ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছে। এলাকায় কয়েকদিন ধরে দেখা যাচ্ছে না। পত্র পত্রিকায় নিউজ হওয়ায় বিদ্যুৎ আর গ্যাসের সংযোগ নাও পেতে পারি। তাই ঘর নির্মাণের অনুমতি পেলেও সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করা হতে পারে। আর বিদ্যুতের ক্ষেত্রে অন্যের মিটার থেকে সাব মিটার দিয়ে সংযোগ নেওয়া লাগতে পারে। সব মিলিয়ে ঘর ভাড়ায় কেমন প্রভাব পড়বে তা এখনই বোঝা যাচ্ছে না।

জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের এই জায়গাটিতে প্রায় ৩০ বছর ধরে বসবাস করে আসছেন নিম্ন আয়ের লোকজন। কেউ ঘর ভাড়া ছিলেন আবার কেউ ঘর ভাড়া দিয়ে আসছিলেন।

এই জায়গা নিয়ে কি পরিকল্পনা রয়েছে জানতে চাইলে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সাব ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার (এসডিই) নিজামুল হক তালুকদার সারাবাংলাকে বলেন, জায়গাটিতে একটি পার্ক স্থাপন করা হবে মর্মে প্রায় ৪০ বছর হলো অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন পরিকল্পনা মাফিক কাজ না করা এবং জায়গাটিতে অনেক লোকের বসবাস থাকায় পরিকল্পনা অনুযায়ী কোনো কিছু করা হয়নি। এখন জায়গাটি খালি হয়েছে, তাই চিন্তা করা হচ্ছে এখন জায়গাটি দখলে নিয়ে কিছু একটা করা। এরই মধ্যে সরকারের বিভিন্ন দফতরে বিষয়টি জানানো হয়েছে। যে সিদ্ধান্ত আসবে সেই অনুযায়ী কাজ করা হবে।

সারাবাংলা/ইউজে/টিএস

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন