রবিবার ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং , ৭ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২২ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

টাকা জমানোর একমাস পদ্ধতি!

সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৯ | ৮:০০ পূর্বাহ্ণ

লাইফস্টাইল ডেস্ক

আয়-ব্যয়ের হিসেব না রাখতে পেরে মাসের শেষে জমানো তো দূরের কথা, হাতেই টাকা থাকে না অনেকেরই। এভাবে পূরণ হয় না অনেক স্বপ্ন। টাকা জমাতে না পারার জন্য আক্ষেপে ভোগেন যারা, তাদের জন্য রইলো জনপ্রিয় পদ্ধতি ‘থার্টি ডে সেভিং রুল’ বা একমাসে টাকা জমানোর পদ্ধতি।

বিজ্ঞাপন

টাকা জমানোর অভ্যাসটা ধরে রাখতে পারলে পরে গুরুত্বপূর্ণ কোনো জিনিস কেনার বা একটা বড় অঙ্কের টাকা জমাতে সক্ষম হবেন আপনি। এভাবেই হয়তো দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনাটাও কাজে লাগাতে পারবেন।


সবার আগে আয় ব্যয়ের হিসেব 

দিনে, সপ্তাহে বা মাসে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমানোর পরিকল্পনা করুন। আপনার মাসিক আয় ও আবশ্যিক খরচের হিসাব করে দেখুন কত টাকা বাঁচাতে পারবেন। তারপর ঠিক করুন প্রতিদিন, সপ্তাহে বা মাসে কত টাকা করে বাঁচানো সম্ভব। সেই টাকাটা পরিমাণে কম হলে মাটির ব্যাংকে রেখে দিন।

টাকা জমানো

বিজ্ঞাপন

ভালো হয় ব্যাংক অ্যাকাউন্টে রেখে দিতে পারলে। স্যালারি অ্যাকাউন্টে বেতন ঢুকবে আর সেভিংস অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা ট্র্যান্সফারের ব্যবস্থা থাকবে। মনে রাখবেন, জমা করা টাকার পরিমাণ যতই কম হোক না কেন, একটা সময়ে যেয়ে এটাই পরিমাণে বাড়বে।

বাদ দিন হুট করে কেনার তীব্র ইচ্ছা

সাধারণত দেখা যায়, দোকানে কোন জিনিস চোখে পড়লে বা বিজ্ঞাপন দেখে কোনকিছু কেনার তীব্র ইচ্ছা জাগে আমাদের। এক্ষেত্রে নিজেদের খরচের সীমাবদ্ধতার চেয়েও জিনিসটা কেনার তীব্র ইচ্ছাই আমাদের কাছে বড় হয়ে দেখা দেয়। এতে আমাদের হাতে প্রয়োজনীয় টাকার অভাব দেখা দেয় তাই নয়, অনেকেই দেখা যায় টাকা ধার করেন। ৩০ দিনের টাকা বাঁচানোর এই পদ্ধতিতে আপনাকে সবার আগে এই হুটহাট কেনাকাটার তীব্র ইচ্ছা বাদ দিতে হবে।

বেশিরভাগ সময়ই আমাদের হাতে টাকা থাকে না হুটহাট কেনাকাটার (ইমপালস বাই) কারণে। ৩০ দিনের টাকা বাঁচানোর পদ্ধতি গ্রহণ করতে চাইলে বাদ দিতে হবে হুটহাট কেনাকাটা করার এই অভ্যাস। এই ৩০ দিনের মধ্যে কিছু কিনতে ইচ্ছা করলে ৩০ দিন অপেক্ষা করার পর কিনুন। না কিনলে টাকাটা আপনার সেভিংস অ্যাকাউন্টেই থেকে যাবে। আর একবার টাকা জমতে শুরু করলে আরও জমানোর ইচ্ছা বেড়ে যাবে।

কিছু দেখে খুব বেশি কিনতে ইচ্ছা করলে নিজেকে বোঝান যে এটা আপনি ৩০ দিন পরেই কিনবেন। একটা স্টিকি নোটে যে জিনিসটা কিনতে চান তার নাম, প্রয়োজনীয়তা, প্রাপ্তিস্থান দাম ইত্যাদি লিখে ফ্রিজ বা কাপড়ের আলমারিতেও লাগিয়ে রাখুন। এই এক মাসে দিনে যতবার বার কাগজটা দেখবেন, ততবার ভাবুন জিনিসটা কেনা কতটা জরুরি আপনার জন্য। আর না কিনলে কত টাকা বাঁচাতে পারবেন সেটাও।

নিজেকে নিজেই চ্যালেঞ্জ করুন

অবাধে টাকা খরচের অভ্যাস থাকে যাদের তারা চাইলেও এটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না। কিন্তু এই ৩০ দিন হুট করে অপ্রয়োজনীয় কিছু না কেনার ব্যাপারে নিজেকে নিজেই চ্যালেঞ্জ করুন। ৩০ দিনে কত টাকা জমাবেন তার একটা লক্ষ্য নির্ধারণ করুন।

হুট করে কেনাকাটার টাকা ছাড়াও যদি বাড়াতে চান আপনার সেভিংস; সেক্ষেত্রে যখনই সম্ভব তখনই বাড়তি কিছু টাকা সেভিংস অ্যাকাউন্টে বা ব্যাংকে রাখুন। অল্প অল্প করে জমাতে জমাতেই একসময় বড় অঙ্কের টাকা জমে যাবে।

এক মাস বাদ দিন রেস্টুরেন্টের খাওয়া

প্রতিদিন, সপ্তাহে বা মাসে অন্তত কয়েক দিন বাইরে খেলে খরচ হয় বেশ বড় অঙ্কের টাকা। এই ৩০ দিন নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করুন বাইরে খাওয়ার ইচ্ছা থেকে।

সকালে বাসায় খেয়ে বের হন, চেষ্টা করুন দুপুরের খাবার সঙ্গে নিয়ে যেতে। যদি বাইরে খান বা খেতে বাধ্য হন, তাহলে একটা নির্দিষ্ট বাজেটের মধ্যে থাকা সম্ভব না। তাইতো এই ৩০ দিন নিজের সঙ্গেই নিজে প্রতিজ্ঞা করুন বাইরে বা রেস্টুরেন্টে কোন খাবার খাবেন না। খেলেও বাজেট নির্দিষ্ট করে দিন। এতে করেও বাঁচবে বেশ কিছু টাকা। এমনকি চা বা কফির দোকানেও যাবেন না। ঘরে বা অফিসেই চা বা কফি পান করুন। বাসা থেকেই নিয়ে যান বাড়িতে তৈরি মজার মজার নাস্তা।

রেস্টুরেন্টে যত বিল দিতেন সেই টাকাটাও রেখে দিন মাটির ব্যাংকে। মাস শেষে ব্যাংক ভেঙে যত টাকা হবে সেটা রেখে দিন সেভিংস অ্যাকাউন্টে।

টাকা জমানো

যে খরচটা না করলেই নয়

আয় ও ব্যয়ের হিসেব নিয়ে বসলে দেখুন এমন কোন খরচ আছে কি না যেটা আপনি চাইলেই কিছুদিনের জন্য বন্ধ রাখতে পারেন। সেলুন বা পার্লারের কাজটা যদি ঘরেই করতে পারেন, সেক্ষেত্রেও বাঁচতে পারে কিছু টাকা।

এবার ৩০ দিন পর হিসেব করে দেখুন কত টাকা জমাতে বা বাঁচাতে পারলেন! আশা করা যায়, এই এক মাস নিয়ন্ত্রিত বাজেটে চলা বাড়িয়ে দিতে পারে আপনার টাকা জমানোর অভ্যাস।

সারাবাংলা/আরএফ/আরএসও

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন