বিজ্ঞাপন

ব্যয় ও মেয়াদ দুইই বাড়ছে ‘ঢাকা বাইপাস’ চার লেন প্রকল্পে

March 9, 2021 | 9:27 am

জোসনা জামান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ব্যয় ও মেয়াদ বাড়ছে ঢাকা বাইপাস চার লেন সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে। এজন্য সংশোধন করতে হচ্ছে ‘সাপোর্ট টু জয়দেবপুর-দেবগ্রাম-ভুলতা-মদনপুর সড়ক (ঢাকা বাইপাস) পিপিপির ভিত্তিতে চার লেনে উন্নীতকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পটি। এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়।

বিজ্ঞাপন

শুরুতে প্রকল্পটির মূল ব্যয় ছিল ২৩৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা। সেখান থেকে ৪৩৮ কোটি ২৩ লাখ টাকা বেড়ে তা এখন দাঁড়িয়েছে ৬৭৪ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। সেই সঙ্গে চার বছর মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা সারাবাংলাকে বলেন, ‘ইতিমধ্যেই প্রকল্পটির সংশোধনী প্রস্তাবের যাচাইবাছাই শেষ হয়েছে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) আগামী সভায় এটি উপস্থাপন করা হবে।’

বিজ্ঞাপন

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, জয়দেবপুর-বেগ্রাম-ভুলতা-মদনপুর(ঢাকা-বাইপাস) পিপিপি ভিত্তিতে চার লেনে উন্নীতকরণ শীর্ষক প্রকল্পটি পিপিপির আওতায় ‘বিল্ড ওন অপারেট অ্যান্ড ট্রান্সফার’ পদ্ধতিতে বাস্তবায়ন সংক্রান্ত প্রস্তাব ২০১২ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ক্যাবিনেট কমিটি অন ইকনোমিক এ্যাফেয়ারসের (সিসিইএ) নীতিগত অনুমোদন লাভ করে। প্রকল্পটির আওতায় সড়কটির নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার জন্য বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান এসআরবিজি-সেল ইউডিসি কনসোরটিয়াম এবং সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের মধ্যে ২০১৮ সালের ৬ ডিসেম্বর পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

বেসরকারি বিনিয়োগকারী ২০১৯ সালের ২০ মার্চ ‘ঢাকা বাইপাস এক্সপ্রেসওয়ে ডেভলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড’ গঠন করে। এই পিপিপি প্রকল্পের সহায়ক প্রকল্প হিসেবে এই প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। মূল প্রকল্পটি ২৩৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০১৬ সালের মার্চ হতে ২০২০ সালের জুনে বাস্তবায়নের জন্য ২০১৬ সালের ১ মার্চ অনুমোদন দেয় একনেক। প্রকল্পের কিছু নতুন অংশ অন্তভুক্ত এবং অংশের পরিমাণ ও ব্যয় বৃদ্ধির কারণে মোট ৬৯৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০১৬ সালের মার্চ হতে ২০২৪ সালের জুনে বাস্তবায়নের জন্য প্রথম সংশোধিত প্রকল্প প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

প্রকল্প সংশোধনের কারণ হিসাবে বিদ্যমান অংশের পরিমান ও ব্যয় বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। ৫.২২ হেক্টর বেশি ভূমি অধিগ্রহণ এবং এ খাতে ৪০১ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয় বৃদ্ধি ধরা হয়েছে। কনসালটেন্সি খাতে অতিরিক্ত ১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা বৃদ্ধি এবং পুনর্বাসনের জন্য ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা বৃদ্ধি করা হযেছে।

আন্তঃমন্ত্রণালয় ভূমি হস্তান্তর ১১৩.৭৩ হেক্টর এবং এ খাতে ৩ কোটি টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ ভ্রমণ ব্যয়ে ১৫ লাখ টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। কোভিড-১৯ এর দ্বিতীয় ধাপে সরকারের কৃচ্ছ সাধন নীতির সকল সরকারি প্রতিষ্ঠান পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয়ের আওতায় সব প্রকার নতুন প্রতিস্থাপক হিসেবে যানবাহন ক্রয় চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত স্থগিত রাখার বিষয়ে সরকারের আদেশের জন্য যানবাহন ব্যবহার খাতে ৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকার প্রস্তাব, মূল বেতন (অফিসার) খাতে ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

প্রকল্পের বাস্তবায়ন মেয়াদকাল ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়ে বলা হয়, প্রকল্পটি পিপিপির আওতায় বাস্তবায়িতব্য জয়দেবপুর-দেবগ্রাম-ভুলতা-মদনপুর সড়ক প্রকল্পের একটি সহায়ক প্রকল্প। পিপিপি প্রকল্পের নির্মাণ কাজ তদারকি, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইঞ্জিনিয়াররা সেবা এবং অন্যান্য কাউন্টটার পার্ট সাপোর্ট এই সাপোর্ট প্রকল্প হতে দেওয়া হবে। পিপিপি প্রকল্পের নির্মাণ কাজ ২০২০ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে, যা শেষ হবে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে। পরবর্তীতে অন্তত ৬ মাস সড়কটি পরিচালনা করা পর্যন্ত এই প্রকল্পের মেয়াদ থাকা প্রয়োজন। তাই প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়।

প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) মামুন-আল-রশীদ বলেন, “পিপিপি প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জাতীয় মহাসড়ক ‘এন ফোরে’র (ঢাকা-টাংগাইল) সঙ্গে জাতীয় মহাসড়ক ‘এন ওয়ানে’র (ঢাকা-চট্টগ্রাম) একসেস কন্টোলড সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করবে। পাশাপাশি সড়কটি সাউথ এশিয়া সাবরিজিওনাল ইকোনমিক কো-অপারেশন করিডোরের অংশ হিসেবে নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দরকে সংযুক্ত করবে।’

বিজ্ঞাপন

এছাড়া প্রকল্পটির মাধ্যমে নিরাপদ, উন্নত ও ব্যয় সাশ্রয়ী সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপিত হবে যা দেশের সামগ্রিক ব্যবসা বাণিজ্যকে ত্বরান্বিত করাসহ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে সহায়ক হবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

সারাবাংলা/জেজে/এমও

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন