বিজ্ঞাপন

‘শুধু স্মার্ট বাংলাদেশ না, আমরা চাই কংক্রিট স্মার্ট বাংলাদেশ’

January 21, 2023 | 6:12 pm

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে টেলিযোগাযোগ সেবার মানোন্নয়ন বিষয়ক এক সেমিনারে বলা হয়, শুধু নামে স্মার্ট না, আমরা সবদিক দিয়ে কার্যকরী এবং পরিপূর্ণ স্মার্ট বাংলাদেশ চাই।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (২১ জানুয়ারি) বাংলাদেশে মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ কথা বলে প্রতিষ্ঠানের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে আয়োজিত এই আলোচনা সভায় মহিউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকার কথা ছিল বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. শাহজাহান মাহমুদ। কিন্তু তিনি অনুষ্ঠানে আসেননি। বিশেষ অতিথি এমটব-এর সেক্রেটারি জেনারেল বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এস এম ফরহাদ (অব)।

বিজ্ঞাপন

সভাপতির বক্তব্যে মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ চাই। শুধু স্মার্ট বাংলাদেশ না, আমরা চাই কংক্রিট স্মার্ট বাংলাদেশ। আর স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমরা অক্সিজেন হিসেবে সরকারকে সহায়তা করতে চাই। কিন্তু দুঃখের বিষয় কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের আমন্ত্রণ জানানোর পরেও তারা এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়নি। অপারেটরদের ধন্যবাদ তারা গ্রাহকদের এত অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও গ্রাহকদের মাঝে উপস্থিত হয়েছেন। অপারেটর ছাড়াও আরও ১২০ টি প্রতিষ্ঠান অন্ধকারে রয়েছে এই সেবা প্রদানকারীদের মধ্যে। সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে কোয়ালিটি সার্ভিস দিতে বাধ্য করা না গেলে আরও হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেও যোগাযোগ সেবার মান উন্নয়ন করা সম্ভব হবে না।’

এমটব-এর সেক্রেটারি জেনারেল ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এস এম ফরহাদ বলেন, ‘দেশে মোবাইল গ্রাহক সংখ্যা ১৮ কোটির বেশি। এর কারণ একাধিক সিম ব্যবহার। দেশে ৫৪ শতাংশ মানুষ মোবাইল ব্যবহার করে না। তাদেরকে নেটওয়ার্কে সংযুক্ত করতে না পারলে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা সম্ভব না।’

বিজ্ঞাপন

টেলিযোগাযোগ বিশেষজ্ঞ টিআইএম নুরুল কবির বলেন, ‘স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্য ২০৪১ হলেও সময় খুব বেশি নেই। সরকার এবং রেগুলেটরিকে দ্রুত সব পক্ষের সঙ্গে বসে সমস্যা সমাধান করতে হবে। কেবলমাত্র রেগুলেশন আর লাইসেন্স প্রদান করলেই হবে না। চাই সমন্বিত উদ্যোগ।’

রবি আজিয়াটা লিমিটেডের চিপ রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড করপোরেট অফিসার ব্যারিস্টার শাহেদ আলম বলেন, ‘আমরা সরকারের এবং কমিশনের দিকনির্দেশন অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছি। পাশাপাশি প্রতিনিয়তই বিনিয়োগ করে যাচ্ছি। কিন্তু মাঝখানে বেশকিছু প্রতিবন্ধকতা থাকার কারণেই গ্রাহকরা মানসম্পন্ন সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আমাদের কেবল রেগুলেশনের মধ্যে রেখে প্রতিবন্ধকতা নিরসন না করে সেবা চাইলে তা সম্ভব না।’

বিজ্ঞাপন

বাংলালিংক লিমিটেডের চিপ রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড করপোরেট অফিসার তাইমুর আলম বলেন, ‘উন্নত বিশ্বের সেবার সঙ্গে আমাদের তুলনা দেওয়া হয়। অথচ উন্নত দেশের রেগুলেশন অনুযায়ী আমাদের রেগুলেশন নিয়ে কাজ করতে দেওয়া হয় না। ইকো সিস্টেম বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি বলে আমরা মনে করি।’

ফাইবার অ্যাট হোম এর চিপ রেগুলেটরি অ্যান্ড গভমেন্ট অ্যাফেয়ার্স আব্বাস ফারুক বলেন, ‘অনেক দেশেই ফাইবার এন্টি টেন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে সরকার প্রণোদনা দিয়ে থাকে। কিন্তু আমরা এই প্রণোদনা পাই না। ২০০৯ সালে ফাইবার গাইডলাইন চালু হলেও এখন পর্যন্ত এর মূল্য নির্ধারণ করা হয়নি।’

বিজ্ঞাপন

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ক্যাব এর কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন,‘ আজকে এই অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয় এবং নিয়ন্ত্রণ কমিশনের উপস্থিত থাকা অত্যন্ত জরুরি ছিল। এই আলোচনায় যে সমস্যা এবং সমাধানের বিষয়গুলো উঠে এসেছে এটি সমাধানের জন্য তাদেরকেই কাজ করতে হবে। অথচ তারা অন্ধকারে রয়েছে।’

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক। মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন সংগঠনের কো-অর্ডিনেটর প্রকৌশলী আবু সালেহ।

আলোচনা সভায় বলা হয় দেশে বর্তমানে মোবাইল অপারেটরদের সম্মিলিত বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৩৪ হাজার কোটি টাকা। ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে টেলিকম অপারেটর রা ব্যাপক ভূমিকা পালন করেছে। ইতিমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্য ২০৪১ নির্ধারণ করেছেন।

খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে টেলি যোগাযোগ সভায় ইকোসিস্টেম বাস্তবায়নসহ সবার জন্য টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করা না গেলে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা সম্ভব হবে না। করোনার মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবিধা পেয়েছি। স্মার্ট বাংলাদেশের সম্ভাবনা যেমন আছে তেমনি নিরাপত্তা, ওয়ার্ক ফোর্সে চাপ পড়ার বিষয় নিয়েও ভাবতে হবে আমাদের।

সারাবাংলা/আরএফ/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন