বিজ্ঞাপন

ডিজিটালের ছোঁয়া লাগেনি ঢাকা বারের লাইব্রেরিতে

April 17, 2019 | 7:41 am

আরিফুল ইসলাম, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ঢাকা আইনজীবী সমিতির লাইব্রেরির বয়স ১৩০ বছর। ১৮৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই লাইব্রেরিতে ২০ হাজারের অধিক বই আছে। সবই আইন বিষয়ক বই। কিন্তু বৃহত্তম এ লাইব্রেরির ব্যবস্থাপনায় লাগেনি ডিজিটালের ছোঁয়া।

বিজ্ঞাপন

উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আইনজীবী প্রতিদিন এই লাইব্রেরিতে আসেন। কেউ এসে বই পড়েন। কেউ বই নিয়ে যান বাসা কিংবা অফিসে। প্রয়োজন শেষে আবার বইগুলো ফেরত আসে। কিন্তু বইগুলো এখনও অ্যানালগ পদ্ধতিতে সারিবদ্ধভাবে এখানে সাজিয়ে রাখা হয়।

ডিজিটালের ছোঁয়া লাগেনি ঢাকা বারের লাইব্রেরিতে

বিজ্ঞাপন

যখন কোনো নতুন বই আসে কিংবা কেউ পুরনো বই জমা দেন তা পুরনো খাতায় লিখে রাখা হয়। কোনো আইনজীবী বই নিতে চাইলে ওই আইনজীবীর সনদ নম্বর ও ফোন নম্বর টুকে রাখা হয় সনাতন পদ্ধতি। সরকারের উদ্যোগে বিভিন্ন দফতরের কার্যক্রম ডিজিটাল হলেও আইনজীবী সমিতির লাইব্রেরিতে লাগেনি ডিজিটালের ছোঁয়া।

ঢাকা বার লাইব্রেরিতে বই পড়তে আসা পাঠক অ্যাডভোকেট আকবর খান সারাবাংলা’কে বলেন, ‘লাইব্রেরির পরিবেশ ভালো আছে। তবে এটির কার্যক্রম ডিজিটাল পদ্ধতিতে হলে অনেক ভালো হবে।’ এতে পাঠক সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

ঢাকা বারের ভারপ্রাপ্ত লাইব্রেরি সহকারী আতাউর রহমান সারাবাংলাকে বলেন, ‘চার বছর আগে পুরনো ভবন থেকে নতুন একটি ভবনে লাইব্রেরি স্থানান্তর করা হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে কয়েকটি সিসি ক্যামেরাও বসানো হয়েছে।

ডিজিটালের ছোঁয়া লাগেনি ঢাকা বারের লাইব্রেরিতে

বিজ্ঞাপন

আতাউর রহমান বলেন, ‘পাঠকদের সুবিধার কথা চিন্তা করে লাইব্রেরি রুমটিতে  দুইটি এয়ার কন্ডিশনারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিদিন একশ পঞ্চাশ থেকে দুইশ আইনজীবী বই পড়তে পাঠাগারে আসেন। প্রতিদিন প্রায় দুইশ বই আইনজীবীরা তাদের ব্যবহারের জন্য রিক্যুইজিশন দিয়ে চেম্বারে কিংবা আদালতে নিয়ে যায়। এখানে বিচারকও বই নিতে আসেন। তবে এখনও কিছু সীমাবদ্ধতা এই লাইব্রেরিতে আছে। এখানে যে বইগুলো রয়েছে এর বাইরে কেউ চাইলে আমরা দিতে পারি না। পাঠকদের জন্য কোনো প্রকার কম্পিউটারের ব্যবস্থা নেই।’

আরেক লাইব্রেরি সহকারী হাবিবুর রহমান (হাবিব) বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লাইব্রেরির উন্নয়নের জন্য এক কোটি টাকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এখন পর্যন্ত সেই টাকা আসেনি। লাইব্রেরিতে অনেক বই দরকার। টাকা পেলেই নতুন বই কেনা হবে। পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা পেলে আমরা লাইব্রেরি ডিজিটালাইজেশনের আওতায় আনতে পারব।’

বিজ্ঞাপন

ডিজিটালের ছোঁয়া লাগেনি ঢাকা বারের লাইব্রেরিতে

হাবিব আরও বলেন, ‘আগে লাইব্রেরি থেকে বই নিয়ে কেউ কেউ ফেরত দিতে চাইত না। এরপরে ২০০৪ সালে বই ফেরত না দিলে ১০ গুণ জরিমানার বিধান করা হয়। এই জরিমানার বিধান চালু হওয়ার ফলে বইগুলো ফেরত পাওয়া যাচ্ছে। এ লাইব্রেরিতে ১০০ বছরের পুরনো বইও আছে। শুক্র ও শনিবার ছাড়া প্রতিদিন লাইব্রেরি সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে।’

সারাবাংলা/এআই/একে

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন