রবিবার ২৫ আগস্ট, ২০১৯ ইং , ১০ ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৩ জিলহজ, ১৪৪০ হিজরি

বিজ্ঞাপন

রাজধানীর বাজারে মধুমাসের ফল, দাম আকাশছোঁয়া

মে ১৫, ২০১৯ | ৭:৫১ অপরাহ্ণ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: মধুমাস জ্যৈষ্ঠের প্রথম দিনে রাজধানী ঢাকার ফলের দোকানগুলোতে লেগেছে ব্যস্ততার আমেজ। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রাজধানীতে ঢুকতে শুরু করেছে মধুমাসের ফল। যোগানের পরিমাণ কম হলেও বাজারে এসেছে মধুমাসের আম, কাঁঠাল, লিচু, জাম, আনারস, তরমুজ, জামরুল, তালের শাঁসসহ বেশকিছু রসালো ফল।

রাজধানীর বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে, স্থায়ী বা ভাসমান ফল বিক্রেতারা বিদেশি ফল আপেল, আঙুর, বেদানার পাশাপাশি মৌসুমি ফলের পসরা সাজিয়ে বসেছেন। প্রায় প্রত্যেক ফলের দোকানে তরমুজ, বাঙ্গি, বেল, আনারস সাজিয়ে রাখা হয়েছে। তবে আম, কাঁঠাল ও  লিচুর বাগানে এখনও পাক ধরেনি বলে এসব ফলের যোগানও কম। ফলের যোগান যা-ই হোক না কেন নতুন মৌসুমে ফলের দাম আকাশছোঁয়া।

ফল বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখনও রাজশাহী, দিনাজপুর বা সাতক্ষীরার আমের যোগান পুরোদমে শুরু হয়নি। অল্প পরিমাণে দেশী, হিমসাগর, গোপালভোগ ও হাইব্রিড জামের আম পাওয়া গেলেও তার দাম বেশি। হীমসাগর ও গোপালভোগ কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৬০ টাকায়। হাইব্রিড বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকায়।

বিজ্ঞাপন

অপরদিকে বাজারে কাঁঠালের যোগান খুবই সীমিত। কাঁঠালের আড়তদার মো. কালামের কাছ থেকে জানা যায়, এখনও কাঁঠাল পাকেনি তাই দেশি কাঁঠালের যোগান কম। আরও দশ বার দিন পর থেকে বাজারে কাঠাল আসা শুরু হবে। রাঙ্গামাটি অঞ্চলের আগাম কাঁঠাল আপাতত বাজারে এলেও দাম বেশি। মাঝারি সাইজের একটি কাঁঠালের দাম ২০০ থেকে ৩০০ টাকা হাঁকছেন বিক্রেতারা।

গ্রীষ্মের আকর্ষণীয় ফল ক্ষণিকের অতিথি হিসেবে পরিচিত ফল লিচুর দামেও আগুন লেগেছে। গাজীপুরের লিচুশ’ প্রতি বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে শুরু করে ৩০০ টাকা। আর সোনারগাঁও এর লিচুর দাম বিক্রেতারা শ’ প্রতি হাঁকছেন ৪০০ টাকা।

এদিকে, অনেক দোকান ঘুরে তবেই দেখা মিলল মধুমাসের প্রিয় দল জাম এর। এখনও আঞ্চলিক জামের বাজার জমে ওঠেনি বিধায় রাজধানীতে নেই পর্যাপ্ত যোগান, দামটাও তাই আকাশছোঁয়া। প্রতি কেজি জামের দাম সর্বনিম্ন ৪০০ টাকা রাখা যাবে বলে জানালেন বিক্রেতা।

দেখা মিলেছে মৌসুমী ফল কাঁচা তালেরও। ঢাকার বিভিন্ন রাস্তার ধারে ভ্যানভর্তি তাল নিয়ে বসেছেন মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। সাতক্ষীরা, যশোর, ফরিদপুর, বরিশাল থেকে আসা তালের শাঁস প্রতিটি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকায়।

মৌসুমী ফল বেল, জামরুল ও পেঁপেও বাজারে উঠেছে চোখে পড়ার মতো। বিভিন্ন রং এর জামরুল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকায়। বেল ও পেঁপের দাম রমজানে কিছুটা বেশি বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। এ সব ফল বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে।

এদিকে তরমুজের ব্যাপক যোগান থাকা সত্ত্বেও দাম যেনো আকাশছোঁয়া। কোনো দোকানে কেজি হিসেবে, কোনো দোকানে পিস হিসেবে বিক্রি হচ্ছে এসব তরমুজ। দেশীয় ও হাইব্রিড- দুই জাতের তরমুজের দামই অন্যবারের চেয়ে বেশি। কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা হাঁকছেন বিক্রেতারা। সেই হিসেবে একটি মাঝারি সাইজের তরমুজের দাম পড়ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। ক্রেতারা বলছেন, ‘তরমুজের দাম নিয়ে নতুন অভিজ্ঞতা হচ্ছে। বাজারে এত তরমুজ কিন্তু কেনার কোনো উপায় নেই।’

দেখা গেছে, দুই একটা চাষ এলাকা থেকে বাঙ্গিও আসা শুরু করেছে। তবে উচ্চমূল্যের কারণে তা এখনও সাধারণের ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। আকারভেদে বিক্রেতারা একেকটা বাঙ্গির দাম চাইছেন ৫০ থেকে ১৫০ টাকা।

মৌসুমী ফলের যোগান ও দাম প্রসঙ্গে ফল বিক্রেতা মানিক মিয়া জানান, বাজারে এখনও পুরোদমে মৌসুমী ফলের যোগান নেই। আম, কাঁঠাল ও লিচু পাকতে এখনও বেশকিছুদিন সময় লাগবে। চাষিদের থেকে পাইকাররা বেশি দাম দিয়ে ফল কিনছেন, আমাদেরও বেশি দামে কিনে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে যোগানের সঙ্গে সঙ্গে এসব ফলের দাম সাধ্যের মধ্যে চলে আসবে।’

তবে ক্রেতারা ফলের বর্তমান বাজার নিয়ে জানালেন আক্ষেপ ও  শঙ্কার কথা। মৌসুমি ফল দরদাম করতে থাকা ক্রেতা জহরুল ইসলাম জানান, ‘সারাবছর একই স্বাদের বিদেশি ফল আর কত খাওয়া যায়। দেশি ফল বাজারে দেখেই কিনতে ইচ্ছা করে। কিন্তু বিক্রেতারা যেভাবে দাম চাইছেন, আমার মতো সাধারণ মানুষ কীভাবে ফল কিনতে গিয়ে দিশেহারা হয়ে যাচ্ছে।’

ফলের ক্রেতা নাসরিন আক্তার বলেন, ‘একে তো দাম বেশি, ফলের বাজারে হাত লাগানোর উপায় নেই। অন্যদিকে রয়েছে ফরমালিন আতঙ্ক। ফল কিনতে গিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়ে যাচ্ছি।’

সারাবাংলা/ওএম/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন