সোমবার ২৬ আগস্ট, ২০১৯ ইং , ১১ ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৪ জিলহজ, ১৪৪০ হিজরি

বিজ্ঞাপন

‘লাকি সেভেন’ এর অপেক্ষায় টাইগাররা

মে ১৬, ২০১৯ | ১০:২০ অপরাহ্ণ

স্পোর্টস ডেস্ক

‘৭’ সংখ্যাকে বলা হয় সৌভাগ্যের নম্বর। বাংলাদেশ দাঁড়িয়ে আছে নিজেদের সপ্তম ফাইনালের সামনে। আগের ছয়টি ফাইনালে শিরোপা জেতা হয়নি টাইগারদের। অতীত ভুলে এবার হয়তো সৌভাগ্যের নম্বরের সঙ্গে নিজেদের শিরোপাটা জিতেই নেবে লাল-সবুজের দল। কারণটাও তো স্বাভাবিক, ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম থেকেই যে টাইগাররা অপ্রতিরোধ্য, অপরাজিত। তিন দলের এই লড়াইয়ে টাইগারদের যে পারফরম্যান্স, তাতে ফেভারিট হিসেবেই সাত নম্বর ফাইনালে মাঠে নামবে মাশরাফির দল।

ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে শুক্রবার (১৭ মে) টাইগারদের প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকাল পৌনে চারটায়।

দেশের জনপ্রিয় চ্যানেল গাজী স্যাটেলাইট টেলিভিশন লিমিটেড (জিটিভি) সরাসরি সম্প্রচার করবে সিরিজের সবগুলো ম্যাচ। জিটিভি ছাড়াও র‌্যাবিটহোল স্পোর্টস এর ইউটিউব চ্যানেলে সিরিজটি উপভোগ করতে পারবেন দেশের বাইরের দর্শকরা। দেশের ভেতরে দেখা যাবে র‌্যাবিটহোল এন্টারটেইনমেন্ট এর ইউটিউব চ্যানেলে। এছাড়া, ম্যাচ পরবর্তী হাইলাইটস তো থাকছেই, দেশ ও দেশের বাইরে থেকে সেটি দেখা যাবে র‌্যাবিটহোল স্পোর্টস এর ইউটিউব চ্যানেলে। আর খেলার প্রতিনিয়ত গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ প্রচার করবে অনলাইন সংবাদমাধ্যম সারাবাংলা.নেট।

ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজেদের প্রস্তুতি ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের উলভস দলের বিপক্ষে হেরেছিল বাংলাদেশ। এরপর মূল আসরে নেমেই বাজিমাত। নিজেদের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শুরুটা দারুণ করেছিল মাশরাফির দল। ক্যারিবীয়ানদের ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে দেয় টাইগাররা। নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচটিতে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল আইরিশরা। বৃষ্টি আর খারাপ আবহাওয়ার কারণে ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়।

বিজ্ঞাপন

আর নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে আবারো ক্যারিবীয়ানদের সহজেই হারিয়ে দেয় টাইগাররা। সেই ম্যাচে বাংলাদেশ ৫ উইকেটের জয় পায়। ওয়েস্ট ইন্ডিজ স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে মুখোমুখি দুই দেখাতেই জয় তুলে নেয়। প্রথম ম্যাচে বোনাস সহ পায় ৫ পয়েন্ট। পরের ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে হারলেও নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে আবারো আইরিশদের হারালে উইন্ডিজদের পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়ায় ৯।

এদিকে, বাংলাদেশ প্রথম ম্যাচে ক্যারিবীয়ানদের হারিয়ে পায় ৪ পয়েন্ট। আইরিশদের বিপক্ষে ম্যাচ পরিত্যক্ত হলে ২ পয়েন্ট নিয়ে টাইগারদের পয়েন্ট হয় ৬। নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে আরেকবার ক্যারিবীয়ানদের হারালে টাইগারদের পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়ায় সর্বোচ্চ ১০। পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে থেকে ফাইনালে উঠে বাংলাদেশ। দুইয়ে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজও ফাইনাল নিশ্চিত করে। নিয়মরক্ষার ম্যাচে আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে ৪ ম্যাচে তিন জয় আর একটি ম্যাচের পয়েন্ট ভাগাভাগিতে টাইগারদের মোট পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়ায় ১৪। ফাইনালে সেই উইন্ডিজদের হারিয়ে দিলেই টাইগাররা প্রথম কোনো ফাইনালের শিরোপা জিতবে।

দুই দলের সাম্প্রতিক দ্বিপাক্ষিক লড়াইয়ের রেকর্ড কথা বলবে বাংলাদেশের পক্ষে। সবশেষ ৫ ম্যাচের চারটিতেই জিতেছে টাইগাররা। মনে হচ্ছে যেন, ক্যারিবীয়ানদের হারানো কঠিন কিছুই না মাশরাফির দলের। শুধু নিজেদের মাটিতেই নয়, টাইগাররা উইন্ডিজদের তাদেরই মাটিতে হারিয়ে এসেছে। ত্রিদেশীয় সিরিজে টানা দুই ম্যাচেই হারিয়েছে।

এর আগে ২০০৯ সালে স্বাগতিক বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে হয়েছিল ত্রিদেশীয় সিরিজ। মোহাম্মদ আশরাফুলের নেতৃত্বাধীন টাইগারদের বিপক্ষে লঙ্কানরা জিতেছিল ২ উইকেটের ব্যবধানে। ২০১২ সালের এশিয়া কাপের ফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে সাকিব-মুশফিকরা হেরেছিল ২ রানের ব্যবধানে। ২০১৬ সালের এশিয়া কাপের ফাইনালে মাশরাফির দল ভারতের কাছে হেরেছিল।

২০১৮ সালে ত্রিদেশীয় সিরিজে জিম্বাবুয়েকে বিদায় করে ফাইনালে উঠে টাইগাররা। সেবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জেতা হয়নি বাংলাদেশের। ২০১৮ সালে নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে শেষ বলের ছক্কা জয় পায় ভারত। ২০১৮ সালের এশিয়া কাপের ফাইনালে আবারো টাইগারদের প্রতিপক্ষ ছিল ভারত। এবারো ইনিংসের শেষ বলে জয় তুলে নেয় ভারত। আরেকটি ফাইনালে বাংলাদেশ, এবার হয়তো অপেক্ষার প্রহরটা বাড়াতে চাইবে না টিম টাইগার।

সারাবাংলা/এমআরপি

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন