মঙ্গলবার ২৩ জুলাই, ২০১৯ ইং , ৮ শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৯ জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

‘সি বিচে ওআইসি ও পশ্চিমা বিশ্বের পর্যটকরা পাবেন আলাদা সুবিধা’

জুলাই ১১, ২০১৯ | ১:৪৭ অপরাহ্ণ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: কক্সবাজার সি বিচে ওআইসিভুক্ত দেশ ও পশ্চিমা বিশ্বের পর্যটকদের জন্য আলাদা জায়গার ব্যবস্থা করে সেখানে উন্নত সুযোগ সুবিধার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালে ঢাকা এজ দ্য ওআইসি সিটি অব ট্যুরিজম-২০১৯’র অফিসিয়াল সেলিব্রেসনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।

কক্সবাজারে বিশাল সমুদ্র সৈকত নিয়ে পর্যটন সম্ভাবনার আশাবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ওআইসি ভুক্ত দেশগুলো যদি চান, আমরা সি বিচের একটা অংশ শুধুমাত্র ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর জন্য অর্থ্যাৎ আমাদের মুসলিম পর্যটকদের জন্য উন্নত করে দিতে পারি, যেখানে ওআইসি পর্যটকরা আসবে।’

‘পাশাপাশি যেহেুতু আমরা আন্তর্জাতিকভাবে ট্যুরিজমকে উন্নত করতে চাই। তাই অন্যান্য দেশের জন্য অর্থ্যাৎ পশ্চিমা বিশ্বের জন্য আলাদা জায়গা দিয়ে দিতে পারি। এই জায়গাগুলি সেভাবেই আমরা ডেভলপ করে দিতে চাই। যাতে আমাদের পর্যটন বা আমাদের দেশের সৌন্দর্যটা উপভোগ করতে পারে।’

বিজ্ঞাপন

সরকার পর্যটন খাতে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ সুবিধা দিচ্ছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা সারাদেশে যোগাযোগ ও অবকাঠামো সুবিধা বাড়াতে বিভিন্ন মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। সমগ্র বাংলাদেশে একটা যোগাযোগের নেটওয়ার্ক তৈরি করছি। আরও অনেক উদ্যোগ রয়েছে। প্রথমবার যখন সরকার গঠন করি, তখন চট্টগ্রামে ও সিলেটে দুটো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠা করেছিলাম। এবারে আমরা কক্সবাজারের বিমানবন্দরটিকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসাবে উন্নত করে দিচ্ছি।

কক্সবাজার বিমানবন্দরটির উন্নতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিমান রুট হিসাবে পর্যটক আকর্ষণে সকল সুযোগ-সুবিধা গড়ে তোলা হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এই কক্সাবাজারকে আরও আকর্ষণীয় করতে চাই। সেখানে একটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামও তৈরি করেছি। ফুটবল স্টেডিয়ামও করব। একটা ভাল কনভেনশন সেন্টার করা হবে এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যাতে সেখানে হতে পারে, সেভাবে আমরা পরিকল্পনা নিচ্ছি।

কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সারা বিশ্বে পর্যটনখাত একটি বর্ধনশীল খাত হিসাবে পরিচিত। তাই পর্যটক বাড়াতে ভিসা সহজীকরণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ব্র্যান্ডিং ও মান উন্নয়নে ওআইসি প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে বলে আশা করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ইসলামী অর্থনীতি নবরুপে বিকাশ লাভ করছে দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা একটা চমৎকার উদ্যোগ। হালাল খাদ্য, ইসলামিক ফাইন্যান্স, হালাল ফার্মাসিটিক্যাল ও প্রসাধনী, পর্যটন ইত্যাদি ইসলামী অর্থনীতির ক্রমবর্ধমান খাত। যা মানুষকে আরও আকর্ষণ করবে। এই খাতগুলো বিকাশের জন্য ওআইসি সদস্যভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর সরকারি-বেসরকারি খাতের সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব একান্তভাবে প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুসলিম উন্মাহর সকল দেশগুলোর একসাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘আমরা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নির্দেশনা মেনেই সকলের সাথে একটা সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে একসাথে চলতে চাই। যাতে অন্য কেউ মুসলমানদের ভাগ্য নিয়ে খেলতে না পারে। এ ব্যাপারে ওআইসিভুক্ত দেশগুলোকে আরও সচেতন থাকার দরকার বলে মনে করি।’

পর্যটন ক্ষেত্রের বিকাশ একান্তভাবে দরকার দাবি করে শেখ হাসিনা বলেন, ইসলামী পর্যটন আমাদের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় খাত। যেখানে সকলে আমরা একত্রে কাজ করতে পারি। এ ব্যাপারে ওআইসি রাষ্ট্রগুলোর পর্যটন শিল্পের বিকাশের জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রচেষ্টা, সমর্থন ও সহযোগিতা সবসময় থাকবে বলেও জানান তিনি।

২০১৯ সালে ওআইসি পর্যটন নগরী হিসাবে ঢাকাকে নির্বাচিত করায় সংস্থাটির সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান প্রধানমন্ত্রী।

বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহাবুব আলীর সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব মহিবুল হক।

সারাবাংলা/এনআর/জেএএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন