বুধবার ১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ২৭ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৩ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

সবধরনের রেনিটিডিন উৎপাদন ও বেচাকেনায় স্থগিতাদেশ

নভেম্বর ১৪, ২০১৯ | ৭:৫৭ অপরাহ্ণ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ভারত থেকে আমদানি করা কাঁচামালে গ্রহণযোগ্য মাত্রার চেয়েও বেশি এন-নিট্রোসডিমিথাইলামাইন (এনডিএমএ) পাওয়ায় জনস্বার্থে বাংলাদেশে সবধরনের রেনিটিডিন ওষুধ উৎপাদন, বিক্রি, বিতরণ ও রফতানিতে স্থগিতাদেশ দিয়েছে সরকার।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (১৩ নভেম্বর) ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত একটি গণবিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভারতের মেসার্স সারাকা ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড এবং মেসার্স এসএমএস লাইফসায়েন্স থেকে আমদানি করা রেনিটিডিন হাইড্রোক্লোরাইড কাঁচামাল (এপিআই) এবং ওই কাঁচামাল দিয়ে উৎপাদিত ওষুধের নমুনা পরীক্ষা ও বিশ্লেষণ করেছে অধিদফতর। এই নমুনা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা স্বীকৃত ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়।

পরীক্ষার ফলাফলে পরীক্ষাকৃত কাঁচামাল ও ফিনিশড প্রোডাক্ট NDMA impurity গ্রহণযোগ্য মাত্রার চেয়ে বেশি পাওয়া যায়। এ কারণে জনস্বার্থে দেশে সবধরনের রেনিটিডিন জাতীয় ওষুধ উৎপাদন, বিক্রি, বিতরণ ও রফতানি স্থগিত করার কথা জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

বিজ্ঞাপন

প্রসঙ্গত, অ্যাসিড নিঃসরণ প্রতিরোধসহ পেটের নানা রকম উপসর্গের চিকিৎসায় বিশ্বজুড়ে বহুল প্রচলিত ওষুধ রেনিটিডিন। কিন্তু ‘সম্ভাব্য ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উপাদান’ পাওয়ার পর থেকে সম্প্রতি আলোচনায় আসে রেনিটিডিন।

এর আগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) এবং ইউরোপিয়ান মেডিসিনস এজেন্সি (ইএমএ) একটি গবেষণা পত্র প্রকাশ করে। এতে রেনিটিডিন ওষুধে এন- নাইট্রোসোডিয়ামেথাইলামাইনের (এনডিএমএ) উপস্থিতি পাওয়ার কথা বলা হয়।

ইউরোপিয়ান মেডিসিনস এজেন্সি (ইএমএ) জানায়, এনডিএমএ উপাদানটি পানি ও খাদ্যে পাওয়া যায়। বিশেষ করে মাংস, দুগ্ধজাত পণ্য ও শাকসবজিতে এনডিএমএ’র উপস্থিতি পাওয়া যায়। তবে সীমিত মাত্রায় এনডিএমএ শরীরে ঢুকলে সেটা কোনো ক্ষতি করে না বলেও জানানো হয়।

এরপরেই বিশ্বব্যাপী আলোচনার ঝড় ওঠে রেনিটিডিন ওষুধ নিয়ে। কানাডা ও ফ্রান্স তাদের বাজার থেকে উঠিয়ে নেয় রেনিটিডিন। ২৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় ওষুধ বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান সিভিএস এই ওষুধ বিক্রি না করার ঘোষণা দেয়।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের সভাকক্ষে বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির নেতাদের সঙ্গে আলোচনাক্রমে রেনিটিডিন ওষুধের কাঁচামাল আমদানি, উৎপাদন ও বিক্রির ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করে অধিদফতর। এরই ধারাবাহিকতায় ১৩ নভেম্বর বাংলাদেশের বাজারে সবধরনের রেনিটিডিন বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলো।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এসবি/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন