বুধবার ১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ২৭ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৩ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

গুদামে পচছে পেঁয়াজ, ফেলা হচ্ছে নদী-ডাস্টবিনে

নভেম্বর ১৬, ২০১৯ | ২:১৬ অপরাহ্ণ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো : বাজারে সরবরাহে মারাত্মক সংকটের মধ্যে চট্টগ্রাম নগরীতে ভোগপণ্যের পাইকারী বাজার খাতুনগঞ্জের আড়ত থেকে ডাস্টবিন, খালের পাড়ে-নদীতে ফেলা হচ্ছে বস্তায়-বস্তায় পচা পেঁয়াজ। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা জানিয়েছেন, গত তিনদিন ধরে খাতুনগঞ্জের বিভিন্ন মার্কেটের গুদাম থেকে ফেলা ১৫ থেকে ১৬ মেট্রিকটন পচা পেঁয়াজ তারা অপসারণ করেছেন।

বিজ্ঞাপন

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) প্রতিনিধিরা এবং খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানোর জন্য আড়তদারেরা এসব পেঁয়াজ মজুদ করে রেখেছিলেন। মজুদ করা পেঁয়াজ পচে যাওয়ায় সেগুলো এখন আবর্জনার স্তুপে  ফেলা হচ্ছে।

তবে পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা বলছেন, তাদের গুদামে কোনো পেঁয়াজ মজুদ নেই। মিয়ানমার থেকে যেসব পেঁয়াজের চালান আসছে, সেখানেও পচা পেঁয়াজ আছে। সেগুলো ফেলে দেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (১৬ নভেম্বর) নগরীর খাতুনগঞ্জের বিভিন্ন মার্কেটে পেঁয়াজের গুদাম ও পাইকারী বিক্রয় প্রতিষ্ঠানে বস্তায়-বস্তায় পচা পেঁয়াজ দেখা গেছে। আবার পচা পেঁয়াজের বস্তা বিক্রি হতেও দেখা গেছে। সকালে হামিদউল্লাহ মার্কেটে নুরুল ইসলাম ও দ্বীন ইসলাম নামে দুই ভাই ১০০ টাকা দরে প্রতিবস্তা পেঁয়াজ কিনছিলেন। উচ্চমূল্যের মধ্যে পচা-নষ্ট পেঁয়াজ থেকে কিছুটা ভালোগুলো বেছে নিয়ে বিক্রির জন্য তারা কিনছেন বলে জানান।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত খাতুনগঞ্জ সংলগ্ন চাক্তাই খালপাড় ও কর্ণফুলী নদীতে এবং পাড়ে ফেলা হয় কয়েক’শ পেঁয়াজের বস্তা। রাতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা সেই পেঁয়াজ নিয়ে বায়েজিদ বোস্তামি থানার আরেফিননগরে আবর্জনাগারে ফেলছেন। এছাড়া নদী ও এর পাড় থেকে অনেকে পচা পেঁয়াজ কুড়িয়ে রোদে শুকাতে দেখা গেছে।

নগরীর ৩৫ নম্বর বক্সিরহাট ওয়ার্ডের পরিচ্ছন্নতা পরিদর্শক আহমদ ছফা সারাবাংলাকে বলেন, ‘খাতুনগঞ্জের হামিদুল্লাহ মার্কেটে, সামনের রাস্তায়, চাঁন মিয়া বাজার ও মধ্যম চাক্তাই এলাকায় পচা পেঁয়াজ পেয়েছি। চারটি ট্রাকে করে আমরা সেগুলো আরেফিননগরে ময়লার ভাগাড়ে ফেলেছি।’

হামিদুল্লাহ মার্কেট কাঁচামাল আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইদ্রিচ সারাবাংলাকে বলেন, ‘মায়ানমার থেকে নৌকায় করে পেঁয়াজ আসছে। যেসব পেঁয়াজ নৌকার তলায় থাকে সেগুলো নষ্ট হয়ে যায়। গুদামে আসার পর সেগুলো ফেলে দিতে হচ্ছে। যেসব পচা পেঁয়াজ ফেলে দেওয়া হয়েছে, সেগুলো মায়ানমারের পেঁয়াজ।’

ক্যাবের কেন্দ্রীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন সারাবাংলাকে বলেন, ‘প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যথাযথ তদারকির অভাবে সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা মজুতদারির সুযোগ নিয়েছে। মজুদের মাধ্যমে বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি করে বাড়তি মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছে তারা। মজুদ করা যেসব পেঁয়াজ বিক্রি করতে পারেনি, পচে গেছে, সেগুলো এখন ভাগাড়ে ফেলা হচ্ছে।’

ব্যবসায়ীরা জানান, মায়ানমার থেকে শুক্রবার ১৬৮ টন পেঁয়াজ খাতুনগঞ্জে এসেছে। শনিবার দুপুর পর্যন্ত এসেছে ৭০টন। শনিবার খাতুনগঞ্জের পাইকারী বাজারে প্রতিকেজি মায়ানমারের ভালো পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছিল ২২০ টাকায়। কিছুটা নিম্নমানের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়।

গত সেপ্টেম্বরে ভারত আকস্মিকভাবে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের ঘোষণা দেয়। মুহুর্তের মধ্যে বাংলাদেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়তে শুরু করে। পাইকারিতে কেজিপ্রতি ৩০ টাকার পেঁয়াজ দিনশেষে দ্বিগুণ-তিনগুণ দামে বিক্রি হতে শুরু করে। আর খুচরা বাজারে সেটা ১০০ টাকা ছাড়িয়ে যায়।

এই অবস্থায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন খাতুনগঞ্জসহ বিভিন্ন পাইকারী ও খুচরা বাজার, আমদানিকারকের আড়তে অভিযান শুরু করে। পেঁয়াজ ব্যবসায়ীদের নিয়ে কয়েক দফা বৈঠকও করে প্রশাসন। প্রতিবার অভিযানের পর পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৫-১০ টাকা কমলেও এক-দুইদিন পরই তা আবারও বেড়ে যায়। এ অবস্থায় হাল ছেড়ে দিয়েছে প্রশাসনও।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/আরডি/জেডএফ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন