সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১১ ফাল্গুন ১৪২৬, ২৯ জমাদিউস-সানি ১৪৪১

বিজ্ঞাপন

ফাগুনের আগেই বইমেলায় ‘হলুদ ছোঁয়া’

ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২০ | ৯:৪০ অপরাহ্ণ

পার্থ সনজয়

‘এমন আগ্রাসী ঋতু থেকে যতই ফেরাই চোখ, যতই এড়াতে চাই তাকে, দেখি সে অনতিক্রম্য’ (বসন্ত বন্দনা/নির্মলেন্দু গুণ)। সে যে বসন্ত! তাকে এড়ায় কার সাধ্যি? তাই বিকেল থেকে সন্ধ্যা, সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত— অমর একুশে বইমেলা যেন হলুদ চাদরে মুড়িয়ে নিলো।

বিজ্ঞাপন

যদিও বাংলা একাডেমির সংস্কারে বর্ষপঞ্জির হিসাবে ফাগুনের পয়লা দিনটি মিশেছে ‘ভালোবাসার দিনে’, তাতে কী যায় আসে! মনে বসন্তের রঙ এলে কে আর বর্ষপঞ্জির হিসাব রাখে? সে হিসাব বা বেহিসাব, ভুল করেই হোক আর জেনেই হোক— দ্বাদশ দিনের বইমেলায় হলুদই সই।

বিজ্ঞাপন

এমনই এক হলুদ দম্পতি নিলু-নিজাম। মেলায় কাল, মানে বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী পহেলা ফাল্গুন এবং একইসঙ্গে ভ্যালেন্টাইন’স ডে’তে তাদের মেলায় আসা হবে না। তাই বর্ষপঞ্জিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে উদযাপন আজই।

প্রথমা প্রকাশনীর প্যাভিলিয়ন থেকে বই কিনে কথাসাহিত্যিক আনিসুল হকের সঙ্গে ছবি তুলে হাসতে হাসতে বললেন, শুক্রবার পরিবারকে সময় দেবেন। তাই সুযোগ বুঝে হলুদের ‘উৎসব’টা হয়ে গেল আজই।

তবে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাইসা এতদিনের ঐতিহ্যটা বজায় রাখতেই মেলায় এসেছেন রক্তকরবীর নন্দিনীর সাজে। বললেন, কাল আবার সাজব। সকালে হলুদ, বিকেলে লাল। তার হাতে অনেকগুলো বইয়ের ব্যাগ। সব বই সেবা প্রকাশনী থেকে কেনা।

রাইসার মতোই মেলায় এদিন যারা এসেছেন, তারা কম বেশি বই কিনেছেন সবাই। কেউ বই কিনে মেলাতেই উপহার দিয়েছেন প্রিয়জনকে।

এমনিতেই সপ্তাহের শেষ কর্মদিবস। তাই অফিস ফেরতের দল তো ছিলই, ছিল অনেক শিক্ষার্থী পাঠক। তবে পোশাকে হলুদটা প্রায় কমন ছিল।

আর বই বিক্রিও ছিল গেল দিনগুলোর চেয়ে বেশ ভালো। নালন্দা প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী রেদওয়ানুর জুয়েল জানালেন, আজ বিক্রি ভালো। আরও ভালো হবে আগামীকাল থেকে।

শুক্রবার সকালটা শিশু প্রহর। আর বিকেলটা সবার। ছুটির দিন, পয়লা ফাগুন আর ভালোবাসা দিবস— তিন মিলে মেলায় পাঠকের জোয়ারের প্রত্যাশাতেই রয়েছেন প্রকাশকেরা।

মেলার দ্বাদশ দিনে নতুন বই এসেছে ১৮০টি। এ নিয়ে ১২ দিনে বই এলো ১,৬২২টি। এর মধ্যে কথাপ্রকাশ এনেছে শেখ সাদীর ‘অস্তাচলে রবি’। ঐতিহ্য এনেছে সতীনাথ ভাদুড়ির চিরায়ত সাহিত্য ‘ঢোঁড়াই চরিতমানস’।

মূল মঞ্চে আলোচনার বিষয় ছিল বাংলা একাডেমি প্রকাশিত সুব্রত বড়ুয়ার ‘বঙ্গবন্ধুর জীবনগাঁথা’। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুজন বড়ুয়া। সভাপতিত্বে ছিলেন ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল।

সারাবাংলা/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন