বিজ্ঞাপন

ফাগুন ধরায় এলে কি আর নীরব থাকা যায়?

February 14, 2020 | 12:13 pm

আবদুর রাজ্জাক সোহেল, ঢাবি করেসপন্ডেন্ট

ঢাবি: রাতের আঁধার কেটে আকাশে কেবল সূর্যিমামা উঁকি দিয়েছে। ঘাসে ঘাসে জমে আছে মুক্তার মতো শিশির বিন্দু। গাছে গাছে পাখির ডাক আর ডানা ঝাঁপটানোর শব্দ। গাছে গাছে নতুন কুঁড়ি ও ফুল যেন মনে করিয়ে দিচ্ছে বসন্ত যে এসেছে ধরায়। এখন পালা বসন্তকে বরণ করে নেওয়ার।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই বসন্ত বরণের আয়োজনকে কেন্দ্র করে উৎসবে মেতে উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। ফাগুন ধরায় এলে কি আর নীরব থাকা যায়?

ভোর হতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ফুল ব্যবসায়ীদের আনাগোনা শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা গেছে, গোলাপ, গাঁদা, রজনীগন্ধা আর ঘাসফুলে ছেয়ে গেছে ক্যাম্পাস।

বিজ্ঞাপন

ফাগুন ধরায় এলে কি আর নীরব থাকা যায়?

বিশ্ববিদ্যালয় লেকচার থিয়েটার এলাকায় বাহারি ফুলের পসরা নিয়ে বসেছেন ফুল ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমি মূলত ক্যাম্পাসে পান-সিগারেটের ব্যবসা করি। কিন্তু আজকের দিনে আমি ফুল ব্যবসায়ী। আজকে ভালোবাসা দিবস। তাই ক্যাম্পাসে যারা ঘুরতে আসবে তারা ফুল কিনবে। আনন্দও হবে।

ফাল্গুনের প্রথম দিনকে বরণ করতে সকাল থেকেই চারুকলার বকুলতলায় শুরু হয়েছে নানা আয়োজন। প্রতি বছরের মত ‘এসো মিলি প্রাণের উৎসবে’ স্লোগানকে সামনে রেখে এবারও বসন্ত উৎসব ১৪২৬ আয়োজন করেছে জাতীয় বসন্ত উৎসব উদযাপন পরিষদ। সুস্মিতা দেবনাথ ও সহ-শিল্পিদের ধ্রুপদী সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।

ফাগুন ধরায় এলে কি আর নীরব থাকা যায়?

ঋতুরাজ বসন্তের আগমনে প্রকৃতি সেজেছে বর্ণিল সাজে। সেই ছোঁয়া যেন লেগেছে সবার মনে। লাল, হলুদ, বাসন্তী রঙের শাড়ি, পাঞ্জাবি এবং রঙিন ফুলে সেজে নানান বয়সের মানুষ হাজির হয়েছেন বকুলতলায়। মন মাতানো গান আর নৃত্য পরিবেশনায় মেতে উঠেছেন বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ।

এখানে কথা হয় মিরপুর থেকে শ্বশুর-শাশুড়ী ও ছেলেমেয়েদের নিয়ে ঘুরতে আসা মৃন্ময়ী দাসের সাথে। তিনি বলেন, প্রতি বছর পরিবারসহ আমরা বসন্ত উৎসবে আসি। ঈদ ও পূজার ন্যায় আমরা নতুন জামাকাপড় পড়ে বসন্ত উৎসবে আসি। আজকের দিনটা আমার কাছে গুরুত্ব বহন করে। সারাদিন আনন্দ-উল্লাস করে দিনটি অতিবাহিত করতে চাই। আমি চাই আমার ছেলেমেয়েরাও এভাবে বসন্ত উৎসব পালন করবে।

ফাগুন ধরায় এলে কি আর নীরব থাকা যায়?

প্রকৃতির মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীসহ শিক্ষক-শিক্ষিকারাও সেজেছেন বাসন্তী সাজে। ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় সকলের মাঝে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

বটতলায় আয়োজন করা হয়েছে সমগীত বসন্ত উৎসব। এবার ‘গানে প্রাণে উঠুক জেগে পাহাড় নদী বন’ স্লোগানে সমগীত সংস্কৃতি প্রাঙ্গণ বসন্তকে স্বাগত জানাতে উৎসবের আয়োজন করেছে। সকাল ৮ টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় গিয়ে দেখা গেছে, ছেলে-মেয়ে ও স্ত্রীসহ ছবি তুলছেন এক ব্যক্তি। কাছে গিয়ে জানা গেল তার পরিচয়। তিনি নব্বইয়ের দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্য বিভাগে পড়াশোনা করেছেন। এখন কুষ্টিয়া ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক।

ফাগুন ধরায় এলে কি আর নীরব থাকা যায়?

তিনি বলেন, ভালোবাসা দিবস বিদেশ থেকে ধার করা একটি সংস্কৃতি। তাই ভালোবাসা দিবস নিয়ে আমার আগ্রহ নেই। তবে, বসন্ত উৎসব নিয়ে আমার আগ্রহ আছে ব্যাপক। কারণ, আমার কাছে বসন্ত মানে ফুল, পাখি ও প্রকৃতি নিয়ে ব্যাপক একটি উন্মাদনা। নব্বইয়ের দশকে যখন আমরা ক্যাম্পাসে ছিলাম তখন ভ্যালেনটাইন ডে নিয়ে কারো আগ্রহ ছিলো না। কিন্তু বসন্ত উৎসব আমরা পালন করেছি ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে।

ফাগুন ধরায় এলে কি আর নীরব থাকা যায়?

তবে তরুণ প্রজন্ম বসন্তের পাশাপাশি ভালোবাসা দিবসও পালন করছে। বটতলায় গিয়ে দেখা গেছে, মঞ্চে দাড়িয়ে বিভিন্ন ভঙ্গিতে ছবি তুলছেন এক দম্পতি কাজী জোবায়দা আক্তার ও শামসুল হক। তাদের কাছে আজকের দিনটার আবেদন একটু ভিন্ন। তারা বলেন, আজকের এই দিনে আমরা পরস্পরের প্রতি ভালোবাসায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছিলাম। তাই আমাদের কাছে এই দিনের অনেক বেশি আবেদন রয়েছে। সারাটি দিন আনন্দ-উল্লাস আর সঙ্গীত চর্চায় নিজেদের ব্যস্ত রাখবো। ব্যাপক আনন্দে আজ মাতোয়ারা হবো।

ছবি: সারাবাংলার সিনিয়র ফটোগ্রাফার, হাবিবুর রহমান

সারাবাংলা/এআরএস/জেএএম

বিজ্ঞাপন

Tags:

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন