বিজ্ঞাপন

এফআর টাওয়ারে আগুন: ১১ বারেও জমা হয়নি তদন্ত প্রতিবেদন

March 28, 2020 | 8:05 pm

আরিফুল ইসলাম, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: রাজধানীর বনানীতে ফারুক-রূপায়ণ (এফআর) টাওয়ারে আগুন লাগার ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য এই পর্যন্ত ১১ বার সময় নিয়েছে তদন্ত সংস্থা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

২০১৯ সালের ২৮ মার্চ এফআর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের মামলার তদন্ত একবছরেও শেষ হয়নি। কবে নাগাদ মামলার প্রতিবেদন পাওয়া যাবে, সে বিষয়েও কেউ কিছু বলতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা।

চলতি মাসের ১২ মার্চ মামলাটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ধার্য ছিল। কিন্তু ওইদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (ডিবি পুলিশের পরিদর্শক) ফজলুল হক প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি এ জন্য ঢাকা মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দেবদাস চন্দ্র অধিকারী আগামী ১৬ এপ্রিল প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পরবর্তী তারিখ ঠিক করেন। এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফজলুল হক সারাবাংলাকে জানান, মামলাটির তদন্ত চলছে। যত দ্রুত সম্ভব, তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দাখিল করতে পারব।

বিজ্ঞাপন

কবে নাগাদ প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেন জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, ঠিক করে বলতে পারব না আর কত সময় লাগতে পারে? তবে মামলার কাজ খুব দ্রুত চলছে। আশা করছি, খুব শীঘ্রই প্রতিবেদন আদালতে জমা দিতে পারব।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, এ ভবনের জমির মালিক প্রকৌশলী এস এম এইচ আই ফারুক। টাওয়ারের বর্ধিত অংশের মালিক তাসভিরুল ইসলাম, রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান ওরফে মুকুল এবং এফ আর টাওয়ার বিল্ডিং ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা অসৎ উদ্দেশ্যে আর্থিক সুবিধার লোভে নির্মাণ বিধিমালা না মানায় এফআর টাওয়ারে এই মর্মান্তিক আগুন লাগে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ১৯৯৬ সালে এফআর টাওয়ারের নকশা অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদিত নকশায় ভবনের উচ্চতা ১৮তলা। ‍কিন্তু নির্মাণ বিধিমালা না মানায় ভবনটি ২৩ তলা করা হয়েছে। পরে ২০০৫ সালে এফআর টাওয়ারের মালিকপক্ষ রাজউকের কাছে আরেকটি নকশা জমা দেয়। ১৯৯৬ সালে মূল যে নকশা রাজউক অনুমোদন দিয়েছিল তার সঙ্গে নির্মিত ভবনটির অনেক বিচ্যুতি রয়েছে।

আগুন লাগার ঘটনায় বনানী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিল্টন দত্ত বাদী হয়ে দণ্ডবিধির ৪৩৬/৩০৪(ক)/৪২৭/১০৯ ধারায় মামলা করেন। এজাহারে এস এম এইচ আই ফারুক, রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান ও তাসভীরুল ইসলামকে আসামি করা হয়েছে।

২০১৯ সালের ২৮ মার্চ দুপুরে বনানীর ওই ভবনের অষ্টম তলায় আগুন লাগে। দীর্ঘ ৬ ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস। এ ঘটনায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়। এছাড়াও ঘটনায় আহত হন আরও ৭৩ জন।

এই ঘটনায় ওই বছরের ৩০ মার্চ বনানী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) মিল্টন দত্ত বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

সারাবাংলা/এআই/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন