বিজ্ঞাপন

‘সরকারের সফলতায় ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি দল কূটচাল দিয়ে আসছে’

August 2, 2020 | 4:41 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘আজ সমগ্র জাতি যখন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দুর্যোগ মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে সফলতা দেখাচ্ছে, তাতে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি মতলবি মহল সরকার ও জনগণের দুর্ভেদ্য ঐক্যের দুর্গে ফাটল ধরানোর অপচেষ্টা করছে। তারা নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতেই এ ধরনের কূটচাল দিয়ে আসছে।’

বিজ্ঞাপন

রোবাবার (২ আগস্ট) সকালে ধানমন্ডি-৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু জাদুঘর চত্বরে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ কৃষক লীগের এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

সংগঠনটি স্বেচ্ছায় প্লাজমা-রক্তদান কর্মসূচি, এতিম ও অনাথদের মাঝে ঈদ উপহার, মৌসুমী ফল ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ কর্মসূচি পালন করে। অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। এরপর এক মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিশেষ অতিথি হিসেবে তার সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে সংযুক্ত হয়ে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন।

এছাড়া বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাসিম এবং স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা।

কৃষক লীগের সভাপতি কৃষিবিদ সমীর চন্দ্রের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম স্মৃতি এমপি। এছাড়া কৃষক লীগ নেতা বিশ্বনাথ সরকার বিটু ও ঢাকা মহানগর উত্তর দক্ষিণের নেতারা বক্তব্য রাখেন।

আগস্টজুড়ে দলের ঘোষিত কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘করোনা মহামারীর কারণে অশ্রুসিক্ত বেদনাবিধুর আগস্টের কর্মসূচি পূর্ণবিন্যাস করা হয়েছে। করোনা সংকট থেকে উত্তরণের প্রচেষ্টার মাঝে একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগের আঘাতের ফলে আমাদের জীবন কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে উঠেছে।

করোনা সময়ে আম্পানের আঘাতের পরে বন্যার প্রকোপ যেন মরার ওপর খাঁড়ার ঘা। তবে ঐতিহ্যগতভাবে বাঙালি জাতির প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের দৃঢ় মনোবল রয়েছে। তাই যেকোনো দুর্যোগে আমরা নিরাশ হই না। করোনাকালীন এই মহাদুর্যোগের সময়েও পরাভবহীন-অকুতোভয় চিত্তে পরিশ্রম ও নিষ্ঠার সঙ্গে বাঙালি জাতির আশার প্রদীপের সলতেটি জ্বালিয়ে রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। যেকোনো দুর্যোগকে এড়িয়ে না গিয়ে জাতির অভিভাবক হিসেবে সুদক্ষ নাবিকের মতো হাল ধরেন শেখ হাসিনা। করোনা মহামারির শুরু থেকেই তার সুযোগ্য নেতৃত্ব ও নিরলস পরিশ্রম ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের কারণে সংকট ঘনীভূত হয়নি। তার নির্দেশেই সরকারের পাশাপাশি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা পুরো সময়কাল জুড়ে এদেশের জনগণের পাশে ছিল। এবারের বন্যার শুরুতেই বন্যা দুর্গত মানুষের জন্য ত্রাণ সহায়তা ও পূর্ণবাসন কার্যক্রমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যেই আশ্বস্ত করেছেন বন্যা দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ মোকাবিলায় তার সরকারের যথেষ্ট বরাদ্দ রয়েছে। পাশাপাশি সরকার দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে এবং কোনো মানুষ না খেয়ে থাকবে না। বঙ্গবন্ধুকন্যা ঝুঁকি এড়িয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বন্যা দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার নির্দেশ প্রদান করেছেন- বলেও জানান ওবায়দুল কাদের।

করোনার এই মহাদুর্যোগের সময়ে শোকের মহাসাগর ধারণকারী মাস আগস্ট শুরু হয়েছে। ১৫ আগস্ট মানবতার শত্রু প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের হাতে বাঙালি জাতির মুক্তি আন্দোলনে মহাবিশ্বের লাঞ্চিত বঞ্চিত নিপীড়িত মানুষের মহান নেতা, হাজার বছরের জাতির আরাধ্য মানব স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্থপতি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। সেদিন শুধু জাতির পিতাকে বা তার পরিবারকে হত্যা করা হয়নি, হত্যা করা হয়েছিল বাঙালি জাতির লড়াকু মনোভাবের অপরিমেয় শক্তির আধারকে। হত্যা করা হয়েছিল একটি সদ্য সদ্য স্বাধীন রাষ্ট্রের সম্ভাবনাকে। হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে পিছনের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। যাত্রা শুরু হয়েছিল আলোকোজ্জ্বল ভবিষ্যতের অন্ধকারের দিকে। জনকল্যাণের রাজনীতির গণসংস্কৃতির বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল সামরিক শাসনের স্বৈরতন্ত্র। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতিকে একবিন্দুতে এনে যেমন স্বাধীনতা দিয়েছিলেন তেমনি বাঙালি জাতির খণ্ডিত শক্তিগুলোকে এক সূত্রে গেঁথে একটি উন্নত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা সেই লক্ষ্য অর্জনে সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার নির্দেশমতো বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনসমূহ সারাদেশে ব্যাপক সারাদেশব্যাপী জনকল্যাণে নিজেদের জীবন বিপন্ন করে কাজ করে যাচ্ছেন। তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ কৃষক লীগের গৃহীত রক্তদান প্লাজমা সংগ্রহ কর্মসূচি এবং মাসব্যাপী সারাদেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি প্রশংসার দাবি রাখে আক্রান্ত আক্রান্ত রোগীর সুস্থতায়
প্লাজমা একটি কার্যকরী চিকিৎসা পদ্ধতি হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে। পবিত্র ঈদুল আজহার মর্মবাণী ধারণ করে ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে এই ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করা বাংলাদেশ কৃষকলীগকে অভিবাদনও জানান তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার যখন সকল প্রতিকূলতা ও সীমাবদ্ধতার সূত্রকে জয় করে মহাদুর্যোগের এই সময়ে জনগণের জন্য একের পর এক কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন এবং তার নির্দেশনায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা নিজেদের জীবন বাজি রেখে মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন তখন মিডিয়ার কল্যাণে টিকে থাকা একটি দল বিএনপির নেতারা সরকারের সমালোচনায় লিপ্ত হয়েছেন।

জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে আমাদের সমগ্র বিশ্ব আজ থমকে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ কোনো বিচ্ছিন্ন দেশের দ্বীপ নয়। বাংলাদেশও এই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। আমরা মোকাবিলা করছি, জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে।

কোভিড১৯-এর বিরুদ্ধে আমরা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যুদ্ধে লিপ্ত উল্লেখ করে নানক বলেন, আজকে যারা বঙ্গবন্ধুকে যারা স্বীকার করে যারা জাতির পিতাকে স্বীকার করে না, সেই সমস্ত সেই রাজনৈতিক দল এই বাংলাদেশকে স্বাীকার করে না। কাজেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। ইনশাল্লাহ, আমরা এগিয়ে যাবে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। এই কোভিড-১৯-এর ভয়কে জয় করে আমরা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর আত্মাকে শান্তি দেব—এই প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন।

সারাবাংলা/এনআর/এমআই

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন