বিজ্ঞাপন

ভাগ্যহারা-গরিব দুঃখী মানুষদের জন্য কাজ করবেন: প্রধানমন্ত্রী

November 26, 2020 | 3:52 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: জনপ্রশাসনের কর্মচারীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এই দেশের মানুষ, যারা ভাগ্যহারা মানুষ, যারা গরিব দুঃখী মানুষ। যাদের জন্য জাতির পিতা সারাটা জীবন তার জীবনটাকে উৎসর্গ করেছেন, তাদের কথা আপনাদের চিন্তা করতে হবে। তাদের ভাগ্য পরিবর্তনেই আপনাদের কাজ করতে হবে এবং সেইভাবেই আপনারা কাজ করে যাবেন।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার ( ২৬ নভেম্বর) দুপুরে ১১৬ তম, ১১৭ তম এবং ১১৮তম আইন ও প্রশাসন প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ সব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে শাহবাগ বিসিএস প্রশাসন একাডেমিতে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন। গণভবন প্রান্তে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়াসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিসিএস প্রশাসন একাডেমি প্রান্তে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব শেখ ইউসুফ হারুন, বিসিএস প্রশাসন একাডেমির রেক্টর বদরুন নেছা।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানের শুরুতে ১১৬তম, ১১৭তম ও ১১৮তম কোর্সে অংশ নেওয়া প্রশিক্ষণার্থীদের পক্ষ থেকে তিনজন অনুভূতি ব্যক্ত করেন। অংশগ্রহণকারী মোট ১১৬ জন প্রশিক্ষণার্থী সবাই সফলভাবে উত্তীর্ণ হন। এ ছাড়া তিনজন প্রশিক্ষণার্থী রেক্টর অ্যাওয়ার্ডস লাভ করেন। এরা হলেন জিসান বিন মাজেদ, হাফিজুল হক এবং তারিকুল ইসলাম। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী রেক্টর অ্যাওয়ার্ডস তুলে দেন।

জনপ্রশাসনের প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা কোর্স সম্পন্ন করে কর্মজীবনে প্রবেশ করবেন একটা অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে এটাই হচ্ছে একটা বিষয়। তাই সেখানে স্বাস্থ্যবিধি আপনি যেমন মেনে চলবেন, আপনার সহকর্মীরাও যেন মেনে চলে, দেশবাসী যেন মেনে চলে এবিষয়ে যথেষ্ট সচেতন থাকতে হবে।’

বিজ্ঞাপন

জাতির পিতার জীবনী সম্পর্কে জানা দরকার জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কারণ এই দেশটাকে জানতে হলে আর দেশের উন্নয়নটা করতে হলে তার (বঙ্গবন্ধু) চিন্তাভাবনাটা জানাও একান্তভাবে প্রয়োজন। কারণ বাংলাদেশটাকে তিনি চিনতেন জানতেন। তার একটাই লক্ষ্য ছিল যে বাংলাদেশটাকে কীভাবে তিনি উন্নত করবেন।’

১৫ আগস্টের নির্মম নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সেটা থমকে দাঁড়ায় জানিয়ে আক্ষেপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে যারা তাদের দোসর যারা স্বাধীনতা চায়নি এবং তাদেরই চক্রান্ত এবং ষড়যন্ত্র আর আন্তর্জাতিকভাবে যারা আমাদের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে, এ চক্রান্তের ফলেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে হত্যা করা হয়। যার জন্য বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা ব্যহত হয়। কিন্তু আমরা আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর থেকে আমাদের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। যে কারণে তার পদাঙ্ক অনুসরণ করে তার প্রদর্শিত পথে দিয়ে আমরা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি দেশের উন্নতির। ফলে আজকে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছি। একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে একটি দেশকে গড়ে তুলতে যা যা করণীয় আমরা এ পর্যন্ত তা করতে সক্ষম হয়েছি।’

বিজ্ঞাপন

২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হবে সেই সূদুরপ্রসারী পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা যারা প্রশিক্ষণ নিয়ে যাচ্ছেন আপনারাই কিন্তু তখন একটা উচ্চপর্যায়ে যাবেন বা ২০৪১’র কর্ণধার আপনারাই হবেন। বাস্তবায়ন আপনারাই করবেন। কাজেই সেইভাবে নিজেদেরকে গড়ে তুলবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘যে কোন একটা জাতির জন্য সবসময় একটা দিকনির্দেশনা থাকা দরকার হয়, দিক দর্শন থাকতে হয়, লক্ষ্য থাকতে হয়। একটা লক্ষ্য স্থির না থাকলে কখনো কোন জাতি উন্নতি করতে পারে না। সেই লক্ষ্যটা ঠিকভাবে অর্জনের জন্যই কিন্তু আমরা এই পরিকল্পনা নিয়েছে। এটা একটা কাঠামো।’

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী আগামী দিনে দেশকে এগিয়ে নিতে সূদুরপ্রসারী পরিকল্পনা প্রণয়ন করে দিয়ে কথা তুলে ধরে বলেন, ‘এরপরে যারাই আসবেন দায়িত্বে তারা যেন অন্তত তখনকার যুগের প্রয়োজন মিটিয়ে সেগুলোর কাজে লাগাতে পারেন; একটা লক্ষ্য যদি স্থির থাকে তাহলে প্রযুক্তি নির্ভর বিশ্ব এখন; প্রযুক্তি পরিবর্তনশীল বিজ্ঞানের যুগ; এখানে গবেষণা এবং বিজ্ঞানের প্রভাব তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সেইভাবে পরিকল্পনা নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে এবং সেটা আপনাদের করতে হবে। সেইভাবে নিজেদেরকে প্রস্তুত করবেন।’

‘এ দেশের মানুষ, যারা ভাগ্যহারা মানুষ, যারা গরিব-দুঃখী মানুষ। যাদের জন্য জাতির পিতা সারাটা জীবন তার জীবনটাকে উৎসর্গ করেছেন, তাদের কথা আপনাদের চিন্তা করতে হবে। তাদের ভাগ্য পরিবর্তনেই আপনাদের কাজ করতে হবে এবং সেইভাবেই আপনারা কাজ করে যাবেন’ বলে আশাবাদ করেন প্রধানমন্ত্রী।

বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বলেন, ‘তিনি কিন্তু সবসময় তার ভাষণে বলতেন এই গবিব-দুঃখী মানুষের কথা। সবসময় সেটাই তিনি করেছেন যে, এদেশের মানুষের ভাগ্যটা কীভাবে পরিবর্তন করবেন। আমাদের এটাই থাকবে আপনাদের কাছে আকাঙ্ক্ষা। আপনাদের যে মেধা, আপনাদের জ্ঞান, বুদ্ধি, মনন সেগুলো আপনারা কাজে লাগাবেন দেশ ও জাতির সেবায়। এ দেশের মানুষ যেন নিরাপদ থাকতে পারে, উন্নত জীবন পেতে পারে। আর বিশ্ব দরবারে আমরা যেন মাথা উঁচু করে চলতে পারি সম্মানের সঙ্গে। মানুষ যেন ন্যায় বিচার পায়, প্রশাসনের সেবা পায়, নিজেদের ভাগ্য তারা গড়তে পারে সেই সুযোপ পায়।’

জনপ্রশাসনের কর্মচারীদের কর্মদক্ষ ও যুগোপযোগী হিসাবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশটাকে উন্নত করতে হলে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার মতো উপযুক্ত কর্মচারী আমরা গড়ে তুলতে চাই। যেন মানুষ তার সেবাটা পায়। সেটাই আপনারা দেবেন, এটিই আপনাদের কাজ।’

জাতির পিতা একটা কথা বলেছেন ১৯৭৫ সালের ২৬মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে তিনি একটা ভাষণ দিয়েছিলেন। সেই দিনের ভাষণের একটা অংশ কোট করছি। বঙ্গবন্ধুর ভাষণের অংশ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। ‘আপনি চাকরি করেন আপনার মাইনে দেয় গরিব কৃষক... ওদের সম্মান করে কথা বলুন, ইজ্জত করে কথা বলুন, ওরাই মালিক।’

‘‘অর্থ্যাৎ কোনো মানুষকে অবহেলার চোখে দেখবেন না। তাদেরকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করবেন না। মানুষকে মানুষ হিসেবে সম্মান দিতে হবে। আমরা ছোটবেলা থেকেই ওটা শিখেছি। আমাদের বাড়ির ড্রাইভারকেও ড্রাইভার সাহেব বলতে হত, আপনি বলতে হত। আমাদের বাড়ির কাজের লোককে কখনো চাকরবাকর বলে হুকুম দিতে পারতাম না এটি নিষিদ্ধ ছিল। আমার বাবা আমাদের হুকুম দিতে দেননি। আমরা দেইনি এবং এখনো তাই করি সেটাই আমাদের অভ্যাস হয়ে গেছে। আমরা সেটাই করি। অর্থ্যাৎ মানুষকে মানুষ হিসাবে দেখতে হবে।’

‘কারণ প্রত্যেকেরই অবদান রয়েছে এই সমাজের প্রতি, প্রত্যেকের অবদান রয়েছে দেশের প্রতি। সে কথাটা মনে রাখতে হবে। আরেকটা বিষয় হচ্ছে কর্মক্ষেত্রে সবাই যেন ন্যায়বিচার পায় সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে এবং মানুষ সেবা পাবে আপনাদের কাছ থেকে, কারণ আপনার দায়িত্ব হচ্ছে মানুষকে সেবা দেওয়া, মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা মানুষের জীবনমান উন্নত করা।’

সারাবাংলা/এনআর/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন