বিজ্ঞাপন

গুচ্ছগ্রামে ঘরে ঢুকে ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণ

May 3, 2021 | 11:20 pm

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট

সুনামগঞ্জ: জেলার সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের পুরাতন লক্ষণশ্রী গুচ্ছগ্রামের ঘরে ঢুকে এক দিনমুজুর বিধবার আট বছরের কন্যাশিশুকে ধর্ষণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পাশের ঘরের মো. আলাউর রহমানের বিবাহিত ছেলে মো. রিপন মিয়া (২৫) তাকে ধর্ষণ করেন।

বিজ্ঞাপন

তবে গুচ্ছগ্রাম কমিটির সভাপতি মো. রইছ মিয়া ওই ধর্ষণের ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। গত (১মে) শনিবার দুপুরে ওই ঘটনাটি ঘটে।

সোমবার (৩ মে) দুপুরে শিশুটি বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যায় স্বজনরা। পরে সেখানকার কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার ডা. অনুপ তালুকদার শিশুটির প্রাথমিক পরীক্ষা শেষে এবং শারীরিক অবস্থা ভাল না হওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করান।

বিজ্ঞাপন

শিশুটির পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মত শিশুটির দিনমুজুর মা পাথর ভাঙার কাজে বাড়ির বাহিরে যান। এ সময় ভুক্তভোগী শিশুটি তার ঘরে একা ঘুমিয়ে ছিল। এই সুযোগে রিপন মিয়া ঘরে ঢুকে শিশুটির মুখে চাপা দিয়ে তাকে ধর্ষণ করে। এক পর্যায়ে শিশুটি অধিক রক্তক্ষরণ হয়। এ সময় শিশুটি চিৎকার শুরু করলে পালিয়ে যায় রিপন। শিশুটির মা বাড়িতে এসে তার শিশুকন্যাটির রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে গুচ্ছগ্রামের সভাপতি রইছ মিয়াসহ গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি অবহিত করেন। এরপর রইছ মিয়া ও মাহবুবুর রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে চার থেকে পাঁচ জন ব্যক্তিত্ব মিলে সালিশ বৈঠকে বসে দু’দিন অতিবাহিত হয়। তবে এতে কোনো সুরাহা হয়নি।

এ ব্যাপারে শিশুটির মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, আমি বিভিন্ন পাথর কোয়ারীতে দিনমুজুরের কাজ করে কোনো রকমে ছেলে-মেয়েদের নিয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে বাস করে আসছি। এই গুচ্ছগ্রামে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দয়ায় একটি ঘর পাওয়াতে মাথা গোঁজার ঠাঁই পেয়েছি। কিন্তু পাশের ঘরের রিপন মিয়া আমার অবুঝ শিশুটিকে খালিঘরে একা পেয়ে ধর্ষণ করে। তিনি রিপনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের জন্য সরকার ও প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানান।

বিজ্ঞাপন

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত রিপন এবং তার পিতা মো. আলাউর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগযোগ করা হলে মোবাইল ফোনটি বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

তবে গুচ্ছগ্রাম কমিটির সভাপতি মো. রইছ মিয়ার ধর্ষণের ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমরা যারা সালিশে উপস্থিত ছিলাম তারা ভুক্তভোগী পরিবারকে হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা সময় মতো না গেলে তো আমাদের কিছু করার নেই।

বিজ্ঞাপন

সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. অনুপ তালুকদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শিশুটিকে গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি করে দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুর রহমান জানান, ঘটনাটি শুনে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এনএস

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন